মা (ছোট গল্প)

প্রসেনজিৎ মজুমদার, আগামী কলরব: প্রিয়তোষ চেয়ারে বসে। নিকিতা স্নান সেরে বাথরুম থেকে বেরিয়েছে, তার গায়ে তোয়ালে জড়ানো। নিকিতা আয়নার সামনে এগিয়ে মাথা মোছে। প্রিয়তোষ নিকিতার মসৃণ শরীরটার দিকে তাকিয়ে আছে।একসময় প্রিয়তোষ এই শরীরটা নিজের হাতে নাড়াচাড়া করেছে, মেয়েকে স্নান করিয়েছে, খাইয়েছে, বুকে করে ঘুম পাড়িয়েছে, কাঁধে চাপিয়ে ঘুরে বেরিয়েছে; তখন নিকিতা ছোট্ট ছিল। এখন তার কুড়ি বছর পেরিয়েছে। বড় হয়েছে সে। যে একদিন প্রিয়তোষের বুক চেপে ঘুরেছে, আজ প্রিয়তোষের ইচ্ছা করে নিকিতার সুন্দর বুকে মাথা রাখতে।

নিকিতা তার বাবাকে চেয়ারে বসে থাকতে দেখে বলল,’কিছু বলবে বাবা?’ প্রিয়তোষ বলল, ‘ভাবছিলাম তোর বিয়ের কথা।’ নিকিতা বলল ‘আমি এখন বিয়ে করব না বাবা। যদি বিয়ে করি তোমায় কে দেখবে? তুমি একা হয়ে যাবে। ও ঘরে যাও, আমি কাপড় ছাড়বো।’
প্রিয়তোষ নিকিতার সুন্দর মুখের দিকে চেয়ে থাকে। দিন দিন ও যেন মায়ের মতন হচ্ছে। সেই মুখ, সেই চোখ, চুলের গোছাও ওর মায়ের মতন। সে নিজে মেয়েকে কাপড় পড়া শিখিয়েছ, এখন সে বাবার সামনে কাপড় ছাড়তে লজ্জা পায়। অথচ নিকিতার শরীরের প্রতিটি ছিদ্র, প্রতিটি কোষ প্রিয়তোষ এর চেনা।
–‘কি হল বাবা যাও!’ ‘
–‘হ্যাঁ! এই যাচ্ছি।’ প্রিয়তোষ নিকিতার ঘর থেকে বেরিয়ে আসে।

বারান্দায় চেয়ারে বসে খবরের কাগজ পড়ছে। তিন নম্বর পৃষ্ঠায় দেখে কোনও এক বাবা নিজের মেয়ের শরীরকে তার লালসার শিকার বানিয়েছে কামের নেশায়। নিকিতা ড্রেস পরে এসে দাঁড়ায় বাবার সামনে। তারপর বাবার গলা জড়িয়ে বলল,’বাবা আমি আসলাম।’ প্রিয়তোষ মেয়ের গালে একটা চুমু দিয়ে বলল ‘সাবধানে যাস।’
নিকিতা ‘এম এ’ পড়ছে। তাই সে কলেজে বেরিয়ে গেল। প্রিয়তোষ বাড়িতে একা।

নিকিতার যখন তিন বছর বয়স, সীমা প্রিয়তোষকে ছেড়ে চলে যায়। অসময় সীমা মারা যাওয়ায় প্রিয়তোষ বড় একা হয়ে যায়। প্রিয়তোষ সীমাকে খুব ভালোবাসতো, তাই সীমার চলে যাওয়াতে সে আর বিয়ে করেনি। মেয়েকে নিয়েই বাকি জীবন কাটিয়ে দেবে ঠিক করে। তার টাকার অভাব নেই। সীমা মারা যাওয়ার পর চাকরিও ছেড়ে দেয়।মেয়ের প্রতি যত্ন নেয়। এই নিকিতা তার বাঁচার একমাত্র অবলম্বন। প্রিয়তোষ যৌবনে স্ত্রীকে হারিয়েছে। তখন তার যা বয়স ছিল আবার বিয়ে করতে পারত অনায়াসে। কিন্তু সে তা করেনি। তার অনেক বন্ধু ওই বয়সে বিয়ের জন্য ছাতনাতলায় বসেছে। কিন্তু প্রিয়তোষ নিকিতাকে বুকে নিয়ে সমস্থ যৌবন সহজেই ভুলে যায়। সে তিনটে বছর নিকিতাকে বুকে করে মানুষ করে। এই তিন বছরে নিকিতাকে কারোর হাতে দেয়নি, বাবার কর্তব্য পালন করেছে। মেয়েকে একটুও মায়ের অভাব বুঝতে দেয়নি। নিকিতা ধীরে ধীরে বাবার ভালোবাসার ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠে। তার যখন ছয় বছর বয়স প্রিয়তোষ নিকিতার জন্য একটা আয়া রাখে, যে নিকিতাকে সবসময় দেখাশোনা করবে। মেয়ে বড় হচ্ছে, তার একজন আয়ার প্রয়োজন তা বুঝতে পেরেছিল প্রিয়তোষ। এসময় প্রিয়তোষের ঘরে থাকতে ভালো লাগে না।এতদিন নিকিতাকে নিয়ে সময় কেটেছে তার। এখন কিভাবে সময় কাটবে! তাই সে আবার চাকরিতে ঢোকে। বয়ে চলে সময়। প্রিয়তোষের জীবনের এক একটা যৌবন কমতে থাকে নিকিতার বেড়ে ওঠার সাথে সাথে।

নিকিতা বড় হয়ে ধীরে ধীরে সংসারটা নিজের আয়ত্বে নিয়ে আসে। বাবার প্রতি যত্ন নিতে শেখে, যে সময় প্রিয়তোষের স্ত্রীর প্রয়োজন ছিল তখন সে একা কাটিয়েছে, আর এখন নিকিতা বড় হওয়ার সাথে সাথে সীমার জায়গা দখল করে নিয়েছে। প্রিয়তোষের জীবনে যতটুকু ভালোবাসার খামতি ছিল, তা তার মেয়ে পূরণ করে দিয়েছে। নিকিতাও তার বাবাকে খুব ভালবাসে। সেই ছোট থেকে বাবাকে কষ্ট করতে দেখেছে, তাই সে তার বাবাকে আর কোনও কষ্ট দিতে চায় না। প্রিয়তোষ সমস্ত ব্যথা-যন্ত্রণা ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছে। যে প্রিয়তোষ একসময় একা চলে অভ্যস্ত, আজ সে নিকিতার উপর ভরকেন্দ্রীক। নিকিতা ছাড়া তার জীবন আর এক মুহূর্ত চলে না। অথচ মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে।
আজ জীবনের অর্ধেক সময় এসে প্রিয়তোষ বুঝতে পারছে এখন তার জীবনে একটা নারীর প্রয়োজন আছে, যে তাকে নিকিতার মত ভালবাসবে। অসুখ হলে রাত জেগে সেবা করবে। মাথা ধরে বসে জলে ভেজা ঠান্ডা কাপড় কপালে ঠেকাবে।প্রিয়তোষ মনে মনে ভাবে যদি এখন বিয়ে করি সে কি আমাকে নিকিতার মত ভালোবাসবে! বিয়ে করলেই বা, সে মেয়েতো নিকিতার বয়সী হবে কিংবা নিকিতার চেয়ে কয়েক বছরের বড়। নিকিতা প্রিয়তোষ এর ঘুমিয়ে থাকা যৌবনকে আবার জাগিয়ে তুলেছে। তার এখন অর্ধেক বয়স পড়ে আছে, সে নিকিতার যৌবন ভরা শরীর চোখের সামনে যত দেখছে ততই তার শরীরের যৌবনের খিদে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সেদিন রাতে বিয়ের কথা বলতে প্রিয়তোষ নিকিতার ঘরে আসে। নিকিতা ঘুমিয়ে রয়েছে, প্রিয়তোষ নিঃশব্দে মেয়ের কাছে এসে দাঁড়ায়। কি আশ্চর্য !এ যে নিকিতা নয়। নিকিতার সমস্ত শরীর, মুখ সীমার মতন। সীমা যেমন সুন্দরী রূপসী ছিল, যেমন তার ভরা যৌবন ছিল নিকিতাও ঠিক তার মায়ের ধাত পেয়েছে। সীমা অকালে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ায় প্রিয়তোষ সীমার সাথে পথ চলতে পারেনি।
কি অপূর্ব! প্রিয়তোষ নিকিতার সুন্দর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। আশ্চর্য দেখতে হয়েছে সে। নিকিতা ঘুমন্ত অবস্থাতে নড়ে ওঠে, তার বুকের উপর থেকে সরে যায় চাদর। প্রিয়তোষের চোখ যায় নিকিতার নগ্ন বুকে।প্রিয়তোষের শরীর কেমন করে ওঠে। তার যৌবন খিদে আরো বৃদ্ধি পায়। সে নিকিতার যৌবন শরীরটাকে চায়, প্রিয়তোষ তার নগ্ন বুকে শক্ত হাত রাখতে গিয়েও পারে না।তার সমস্ত শরীর কেঁপে ওঠে, তার অন্তরের মূল্যবোধ জেগে যায়, প্রিয়তোষ ও ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। তারপর ফ্রিজ থেকে হুইস্কির বোতলটা বার করে গ্লাসে ঢালে, কিন্তু তার সমস্ত শরীর কাঁপছে, হুইস্কির গ্লাসটা হাত থেকে পড়ে যায়। প্রিয়তোষ ধপ করে বসে পড়ে মেঝেতে তার সমস্ত শরীর উত্তেজিত।কাঁপা কাঁপা হাতে হুইস্কির বোতলটা মুখে ঢুকিয়ে এক নিঃশ্বাসে শেষ করে ফেলে আর বলতে থাকে– নিকিতা আমার মেয়ে, আমার রক্ত দিয়ে ওর সৃষ্টি, ওর শরীরের প্রতিটি কোষ যে আমার শরীরের অংশ। ও আমার নিঃশ্বাস আমার জীবন, আর আমি কিনা ওকে দিয়ে আমার শরীরের খিদে মেটাতে যাচ্ছি! ছি! ছি!
সে দুর্বল শরীরে ফ্রিজ থেকে আর একটা হুইস্কির বোতল বার করতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যায় ভাঙ্গা কাচের টুকরোর উপর।

প্রিয়তোষের হাত থেকে রক্ত ঝরছে। নিকিতা আওয়াজ পেয়ে ছুটে আসে এঘরে। বাবার এমন অবস্থা দেখে তার দুচোখ ভরে ওঠে জলে। –‘বাবা তোমার কী হয়েছে?’ নিকিতা প্রিয়তোষকে তুলে তার ঘরে নিয়ে যায়, ডেটল দিয়ে ধুয়ে হাতে ওষুধ লাগিয়ে দেয়। প্রিয়তোষ মেয়ের মুখের দিকে চেয়ে থাকে। এ যে তার মা! প্রিয়তোষের দুর্বল শরীর ঝিমতে থাকে।নিকিতা তার বাবার মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়ায়। প্রিয়তোষ যে তার মাকে ফিরে পেয়েছে। নিকিতা বাবার পাশে বসে থাকতে থাকতে কখন যেন বাবার বুকের কাঁচাপাকা লোমের উপর মুখ রেখে ঘুমিয়ে পড়ে।

আজ সকালে কলেজে গেল নিকিতা। ঘন্টা দেড়েকের মধ্যে সে কলেজ থেকে ফিরে আসবে।
কিছুক্ষণ পর নিকিতা একটা ক্লাস করে ফিরে এসে দেখে তার বাবা সকালে যে চেয়ারে বসে ছিল এখনও সেখানেই বসে আছে। তার বাবার শরীর খারাপ, তাই সে বাবাকে একা ফেলে কোথাও যেতে পারবে না।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s