ধারাবাহিক রচনা: আমাদের শ্রী অরবিন্দ(পর্ব-২০)

শ্রী অরবিন্দ ও শ্রীমায়ের জীবনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত এই ধারাবাহিকটি ইতিমধ্যে পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। আমাদের বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠকমণ্ডলীর মধ্যে শ্রী অরবিন্দ ও মায়ের জীবনী নিয়ে চর্চা করেন কিংবা শ্রী অরবিন্দ আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত পাঠকও রয়েছেন নিশ্চয়ই। তাঁদের প্রতি আমাদের বিনম্র আবেদন যে, ধারাবাহিকটি পড়তে পড়তে কোনোরকম তথ্যভিত্তিক ত্রুটি চোখে পড়লে অনুগ্রহ করে তৎক্ষণাৎ আমাদের দপ্তরে যোগাযোগ করুন, অথবা লেখার শেষে কমেন্টেও জানাতে পারেন। এছাড়া লেখার নীচে দেওয়া লেখকের ফোন নম্বরে সরাসরি করতে পারেন যোগাযোগ। আমরা ত্রুটি মেরামতে সদা সচেষ্ট। –সম্পাদক

চেতনার অবতরণ(ঙ) এর কিছু আলোচনা

মুকুল কুমার সাহা: চেতনার অবতরণ এর পঞ্চম পর্বে, অর্থাৎ এই পর্বের আগের পর্বে আমরা দেখলাম, জড় বা অচেতনার মধ্যে চেতনা সুপ্ত ভাবে রয়েছে। অধ্যাত্ম-বিজ্ঞান বলছে, এই জড় যখন দীর্ঘ সময়ের পর তার মধ্যে থেকে চেতনাকে প্রকাশ করতে সমর্থ হয়, ঠিক তখনই তার উপরের স্তর বা সূক্ষ্ম জগৎ থেকে আর এক শক্তির অবতরণ হয়। এই নীচের ও উপরের শক্তি ও চেতনার মিলনের ফলে অন্য ধরণের এক সৃষ্টির প্রকাশ হয়। (উদাহরণস্বরূপ, অধ্যাত্ম-জ্ঞানীদের মত অনুসারে বলা যায় নীচের মাটি জড় জগতের অন্তর্গত। তার ঠিক উপরের স্তরকে প্রাণময় জগৎ বলা হয়। যখন এই মাটিতে প্রাণময় জগৎ থেকে প্রাণ অর্থাৎ সূক্ষ্ম শক্তি অবতরণ করে তখনই উদ্ভিদ ও প্রাণীর সৃষ্টি হয়। প্রাণের উপরের স্তরকে বলা হয় মনোময় জগৎ। সেখান থেকে মনের শক্তি ও চেতনা যখন জড়ে অবতরণ করে তখন জড়- প্রাণ ও মনের শক্তির মিলনে উন্নত ধরণের সৃষ্টি অর্থাৎ মন ও বুদ্ধিযুক্ত মানুষের সৃষ্টি হয়। মনের উপরের স্তরকে বিজ্ঞানময় লোক বলে। শ্রী অরবিন্দ যার নাম দিয়েছেন অতিমানস। পৃথিবীতে এই অতিমানসের অবতরণের ফলে কী ধরণের সৃষ্টি হয়, সেটাই দেখার। শ্রী অরবিন্দ বলেছেন পৃথিবীতে যেমন উদ্ভিদ-গাছপালা-পশুপখি রয়েছে, মানুষ রয়েছে এ সবই থাকবে; তার সঙ্গে আর এক ধরণের উন্নত মানবের দেখা মিলবে।)

পৃথিবীতে বা জড় জগতে শেষ পর্যন্ত ধাপে ধাপে নীচের উত্তরণ ও ঊর্ধ্ব -এর বিভিন্ন চেতনার অবতরণ হতে হতে সচ্চিদানন্দ নিজের স্তরে যেমন সেই চেতনারও অবতরণ ঘটাবেন একসময় এই পৃথিবীতে। এটাই অধ্যাত্ম জ্ঞানীদের মত।

শ্রীমায়ের প্রতীক

জড় বিজ্ঞান বা বস্তু বিজ্ঞান নিজের পদ্ধতি ধরে এগিয়ে চলেছে। বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখছেন নিজেদের পথ অনুসরণ করে এবং তাঁরা বলছেন, বস্তুতে এক সময় হঠাৎ পরিবর্তন হচ্ছে। অধ্যাত্ম-জ্ঞানীরা বলছেন এই হঠাৎ পরিবর্তনের আসল রহস্য হচ্ছে উপরের আর এক সূক্ষ্ম শক্তির অবতরণ।

আমরা সাধারণ মানুষ, জড় বিজ্ঞান বা বস্তু বিজ্ঞানের উপর নির্ভরশীল। বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করে আমাদের যা বলছেন বা দিচ্ছেন, আমরা সেইসব গুলিই কেবল গ্রহণ করতে সমর্থ। তাই আমরা আশা করব বস্তু বিজ্ঞানীরা যেন এই রহস্যটি আবিষ্কার করতে সমর্থ হন। শ্রী অরবিন্দের লেখা পড়তে পড়তে কোথাও যেন দেখেছিলাম, তিনি বলছেন জড় বিজ্ঞান যেভাবে এগিয়ে চলছে, বিজ্ঞানীরা এই রহস্যের সন্ধান খুব দ্রুত পেয়ে যাবেন। তাঁরা হয়ত এর নাম দেবেন অন্য কিছু।

আমরা দুর্বল অর্ধ সচেতন মানুষ, আমরা আশা করব বস্তু বিজ্ঞানীরা যেন এই রহস্যের সন্ধান খুব তাড়াতাড়ি পেয়ে যান, কেন না তাঁদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সহজেই উপকৃত হতে পারবে। কারণ, অধ্যাত্ম বিজ্ঞানের সাধনা বা যোগ সাধনার সামর্থ্য বা যোগ্যতা আমাদের মত সাধারণ মানুষের সকলের নেই বলেই মনে হয়।
আগামী পর্বে ‘চেতনার অবতরণ- এর ষষ্ঠ পর্ব’ শুরু করা হবে।

(একবিংশ পর্ব আগামী রবিবার)

লেখকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন- 8584063724

১৯ম পর্বটি পড়তে ক্লিক করুন- https://agamikalarab.com/2020/03/01/

1 Comment

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s