অ‍্যান্টনি হাউস[শেষাংশ] (প্রেমের গল্প)

আসতে আসতে ওর জন্য মনের ভেতর একটা আকর্ষণ তৈরি হয়ে যাচ্ছে! অন্তরের এক কোণে ওর জন্য শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে। ওর দু চোখের দৃষ্টি আমার বুকের ভিতর উতাল পাতাল ঢেউয়ের সৃষ্টি করছে। একজন জার্মান মহিলা এভাবে আমার মনের মধ্যে রঙ ছড়াবে তা স্বপ্নেও ভাবিনি!

“আসতে আসতে ওর জন্য মনের ভেতর একটা আকর্ষণ তৈরি হয়ে যাচ্ছে! অন্তরের এক কোণে ওর জন্য শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে। ওর দু চোখের দৃষ্টি আমার বুকের ভিতর উতাল পাতাল ঢেউয়ের সৃষ্টি করছে। একজন জার্মান মহিলা এভাবে আমার মনের মধ্যে রঙ ছড়াবে তা স্বপ্নেও ভাবিনি!…”

প্রসেনজিৎ মজুমদার, আগামী কলরব: একটু সুস্থ হোক। না হয় কাল যাওয়া যাবে। রাত্রিটা সোফাতে শুয়ে কাটিয়ে দিলাম। সকালবেলা জানালা দিয়ে আসা সূর্যের আলো চোখ খোলালো। মিসেস অ‍্যান্টনি ডিনার টেবিলে বসে চিঠি লিখছেন বোধহয়! আমি উঠে বসলাম। মিসেস অ‍্যান্টনি গুড মর্নিং বললেন। তাঁর মুখে হাসির ঝলক। হয়তো তিনি পুরনো ঘটনা সহজে ভুলে যেতে চান। তবু তাঁর মনের ভিতর যে এখনো রকের ঝড় বইছে তা চোখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে। তবে তিনি নিজেকে সামলে নিয়েছেন এই যা।
তাঁর ধৈর্য্য শক্তির পরিচয় আমি কালই টের পেয়েছি। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনার শরীর কেমন আছে?’ –‘ভালো মাই চাইল্ড।’ তিনি আমাকে চা দিয়ে গেলেন। পাশের ঘরে মিঃ অ‍্যান্টনি এখনো ঘুমিয়ে আছেন। চা খেতে খেতে অনেক গল্প হল। মিসেস অ‍্যান্টনির মুখে শুনলাম বাড়ির পিছনে একটা সুন্দর বাগান আছে।
আমি আর দেরি না করে চা খাওয়া শেষ করে গায়ে চাদরটা জড়িয়ে চলে এলাম বাগানে। সত্যিই কি অপূর্ব, রংবেরংয়ের ভিন্ন গাছ মৃদু হাওয়াতে দুলছে। সূর্যের সোনালী আলোর পরশ সমস্ত বাগান জুড়ে যেন এক নতুন সকালের আগমন ঘটিয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত ব্যাথা-বেদনা দুঃখকে ভুলিয়ে দিয়ে এ পাগল মনকে আনন্দে ভরিয়ে তুলেছে।

বাগান থেকে ফিরে এসে এখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। মিসেস অ‍্যান্টনি এসে বললেন,’তুমি এখনি চলে যাবে! আর কয়েকটা দিন থাকলে আমাদের সুবিধা হতো। অ‍্যান্টনি বিছানায় শুয়ে, আমার শরীরের অবস্থা ভালো নেই। কখন কি হয়। আজ আমার ভাইজিকে টেলিগ্রাম করেছি। ও আসলে না হয় যেও।’ এরপর একটু থেমে বললেন,’অবশ্য তোমার যদি কোনও অসুবিধা না থাকে।’
মনে মনে ভাবছিলাম হাতে আর যে কটা দিন আছে জার্মান দেশটা ভালো করে ঘুরতে হবে। কিন্তু তা আর হল না। ওঁরা বয়স্ক মানুষ। আমি এখানে থাকলে যদি ওরা একটু ভরসা পায়, না হয় থাকব।

মিঃ অ্যান্টনিকে নিয়মিত ওষুধ খাওয়ানো, তাঁকে দেখভাল করার সব দায়িত্বটাই নিজের কাঁধে নিয়েছি যতদিন না মিসেস অ‍্যান্টনির ভাইজি এখানে আসছেন। কয়েকদিনের জন্য না হয় ওই বয়স্ক মানুষটাকে একটু বিশ্রাম দিলাম।
মিসেস অ‍্যান্টনি আমার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। আমাকে নিজের ছেলের মত ভালবাসেন। জানি, এটা ক্ষণিকের ভালোবাসা। কখনোই স্থায়ী হবে না, তবুও উনি যদি কিছুটা সান্ত্বনা পান। একদিন – দুদিন… ধীরে ধীরে মিঃ অ‍্যান্টনি সুস্থ হয়ে উঠছেন। একদিন মিসেস অ‍্যান্টনি আমায় নিয়ে এলেন তাঁদের দোকানে। বেশ বড় দোকান। আগে মাঝে মধ্যে মিঃ অ‍্যান্টনি এখানে আসতেন। অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর এত বড় দোকান পুরোটাই কর্মচারীদের উপর নির্ভর করে চলছে।
আমার সাথে কর্মচারীদের আলাপ করিয়ে দিলেন তিনি। মিসেস অ‍্যান্টনি আজ যেন খুব খুশি।
সত্যিই আমার অবাক লাগে রক কি করে এমন বাবা-মাকে ছেড়ে চলে গেল! একবারও কি ভাবল না এদের কি হবে, কি নিয়ে বাঁচবেন!

দেখতে দেখতে দিন সাতেক পেরিয়ে যায়, মিস্টার অ‍্যান্টনি বেশ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। সেদিন বিকেলে আমি আর মিস্টার অ‍্যান্টনি বাগানে বসেছিলাম। মিস্টার অ‍্যান্টনি খুব ভালো আবৃত্তি করতে পারেন। কখনো শেক্সপীয়ার, তো কখনো ওয়াড্সওয়ার্থ। তাঁর আবৃত্তির স্পর্শে সত্যিই সে বিকেলটা যেন একটা অন্যরকম আমেজ নিয়ে এল।
একসময় মিসেস অ‍্যান্টনি আমাদের ডেকে পাঠালেন। আমরা ঘরে ঢুকলাম।

এতক্ষণ মিস্টার এন্টনির ভার ছিল আমার কাঁধে। এক সুন্দরী কন্যা এসে সেই ভার নিয়ে নিল। সে মিস্টার অ্যান্টনিকে চেয়ারে নিয়ে বসাল। তারপর তাদের কথা চলতে থাকে। লাল টপ, ব্লু জিন্স, ব্রাউন এলো চুল, মুখটাও বেশ সৌখিন– এ হচ্ছে মিস্টার এন্টনির ভাইজি। আমি অন্য একটা চেয়ারে বসে লক্ষ্য করছিলাম এই সুন্দরী কন্যাকে। ওদের সুখ-দুঃখের কথা শেষ হতে মিসেস এন্টনি আমাকে দেখিয়ে বললেন,’ এ হচ্ছে রজত, যার কথা চিঠিতে লিখেছি। রজত, আমার ভাইজি অ‍্যালেক্স।’ অ্যালেক্স বলল,’সত্যিই তুমি যা করেছ তোমাকে কী বলে যে ধন্যবাদ দেবো!’ –,’না না! ধন্যবাদ দেওয়ার কিছু নেই, আমি কিছুই করিনি। বরং এঁদের কাছ থেকে আমি যে যত্ন – ভালোবাসা পেয়েছি তা কোনদিন ভুলবার নয়।’ মিসেস অ‍্যান্টনি মিঃ অ‍্যন্টনিকে নিয়ে পাশের ঘরে চলে যান। ওষুধ খাওয়াতে হবে সেই সঙ্গে একটা ইংজেকশানও দিতে হবে।
আমিও চেয়ার ছেড়ে উঠলাম। অ‍্যালেক্স বলল, ‘আপনি কোথায় যাচ্ছেন! এখনে বসুন।’ –‘আসলে আপনি এতটা পথ জার্নি করে এসেছেন, আপনার একটু বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন। পরে কথা হবে। আমি বরং নিজের ঘরে যাই।’ অ‍্যালেক্স বলল, ‘দাঁড়ান, দাঁড়ান! আর নিজের ঘরে যেতে হবে না। সূর্য ডোবার সময় হয়েছে, এই সময় আকাশটা খুব সুন্দর লাগে। চলুন বরং একটু বাইরে থেকে ঘুরে আসা যাক। কই আসুন! বাগানে ঘুরতে কি কোনও আপত্তি আছে?’ –‘না না আপত্তি থাকবে কেন!’

অগত্যা যেতেই হল। অ্যালেক্স বলল,’আমি এই বাগানটা খুব ভালোবাসি। এই বাগানটা সম্পূর্ণ আমার নিজের হাতে তৈরি।’ বাগানে আসতে আমি খুব মুগ্ধ হয়ে গেলাম। পশ্চিম আকাশ জুড়ে লাল আবিরের খেলা। আর তার মৃদু ছোঁয়া লেগেছে সমস্ত বাগান জুড়ে। সূর্য যেন তার সমস্ত রঙ ঢেলে দিচ্ছে বাগানে। মনে হয় এটাই স্বর্গ।
এমন একটা পরিবেশ, এমন একটা সময়, আর পাশে অ‍্যালেক্সের মতন সুন্দরী মেয়ে! এই সমস্ত কিছু পেয়ে নিজেকে আজ ভাগ‍্যবান মনে হচ্ছে। অ‍্যালেক্স তার অভিজ্ঞতা আর জ্ঞানে ভরা সাঁজিটা উন্মুক্ত করে দিয়েছে আমার জন্য। তার অগাধ জ্ঞান দেখে আমি সত্যিই বিস্মিত। অপূর্ব সে নারীর হৃদয়, অপূর্ব সে নারীর জ্ঞান ভান্ডার! অ‍্যালেক্সের দুই চোখের দিকে চেয়ে থাকি। ওর মুখ থেকে শুনলাম রকের সাথে তারই বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হয়নি। ইউরোপে তো আত্মীয়ের মধ্যে বৈবাহিক সূত্র খুব স্বাভাবিক ব্যাপার! মনে মনে ভাবি, রকের পছন্দের বাহার ছিল বলে মনে হয় না! নইলে সে অ‍্যালেক্সের মত মেয়েকে ছেড়ে যেতে পারত না। অথচ সে যে মেয়ের জন্য ঘর ছাড়ল সেই মেয়ে তাকে ছেড়ে চলে গেল।
রক চলে যাওয়ার পর অ‍্যালেক্স এ বাড়িতে আসা কমিয়ে দেয়। সে লিটারেচার নিয়ে চর্চা করে। সেই সূত্রে বাইরে বাইরে তাকে থাকতে হয়।

পরেরদিন অ‍্যালেক্সের সাথে বেশ কয়েক জায়গায় ঘুরে আসলাম। দিন সাতেক ঘরে বসে থাকতে থাকতে মনটা অস্থির হয়ে উঠেছিল বাইরের প্রকৃতি আর চাকচিক্য দেখবার জন্য।অ‍্যালেক্সের সাথে বেড়িয়ে তার সম্পর্কে আরো কত কি জানলাম।
অ‍্যালেক্স ছোটবেলায় বাবা মাকে হারায় একটা অ্যাক্সিডেন্টে। তারপর থেকে সে মিসেস অ‍্যান্টনির তত্ত্বাবধানে মানুষ। সাহিত্যকে সে মন দিয়ে ভালবেসেছে। এখন রিসার্চ করছে। বিভিন্ন কলেজ ইউনিভারসিটি থেকে তার ডাক আসে সাহিত্য সংক্রান্ত লেকচার করবার জন্য। উদ্ভিদ, প্রাণী, প্রকৃতি, পরিবেশ, সমাজ সমস্ত কিছু নিয়ে তার কাজ। বলতে গেলে সাহিত্য এবং পরিবেশ রক্ষায় মস্ত বড় দায়িত্ব কর্তব্য সে নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে। অ‍্যালেক্সের সাথে ঘন্টা চারেক ঘোরাফেরা করবার পর তার মুখটা আমার কাছে আরও পরিচিত হয়ে উঠল। ঘরে ফিরে নিজেকে আজ বেশ ফ্রেশ মনে হচ্ছে। মিস্টার আর মিসেস অ‍্যান্টনি দুজনেই সুস্থ। অ‍্যালেক্সও চলে এসেছে তাদের দেখাশোনার জন্য। আমার এখানে থাকার আর কোনও দরকার আছে বলে মনে হয় না। ওদেরকে জানিয়ে দিলাম যে আমি কাল সকালেই চলে যাব। আমাকে দেশে ফিরতে হবে। আমার ভিসার সময় প্রায় শেষের দিকে। নিজের সুটকেস গুছিয়ে আমি তৈরি, কাল সূর্য উঠার পূর্বেই আমি অ‍্যান্টনি হাউসকে বিদায় জানাব।

রাত দশটা। আমার ঘরের দরজায় টোকা পড়ল। অ‍্যালেক্স! –‘দরজা খোলা আছে। ভেতরে আসুন।’ আমি ডায়রি লেখা বন্ধ করলাম। অ‍্যালেক্স বলল,’সবে বন্ধুত্ব শুরু। এখনই চলে যাবেন! আর কিছুদিন থাকলে হত না!’ –‘আসলে…’ আমার মুখের কথা মুখেই রয়ে গেল। ও বলল,’আমার অনেক চেনা পরিচিত আছে। তুমি চাইলে তোমার ভিসার মেয়াদ আর ছয় মাস বাড়ানো যেতে পারে।’ সুন্দরী মেয়েটির অনুরোধ ফেলতে পারলাম না। আর ফেরা হল না।

পরেরদিন আ‍্যালেক্সের সাথে বেরিয়ে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর এপ্লিকেশনটা জমা করলাম। তারপর ওখান থেকে শপিংমল। সত্যিই সুন্দরী মেয়ের সাথে বেরোলে যেন আলাদা অনুভূতি। আসতে আসতে ওর জন্য মনের ভেতর একটা আকর্ষণ তৈরি হয়ে যাচ্ছে! অন্তরের এক কোণে ওর জন্য শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে। ওর দু চোখের দৃষ্টি আমার বুকের ভিতর উতাল পাতাল ঢেউয়ের সৃষ্টি করছে। একজন জার্মান মহিলা এভাবে আমার মনের মধ্যে রঙ ছড়াবে তা স্বপ্নেও ভাবিনি!

আর দিন সাতেক পর হয়। মিস্টার অ‍্যান্টনি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ।
সেদিন দুপুরে আমি আর অ‍্যালেক্স সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করছি, মিস্টার অ‍্যান্টনি এসে উপস্থিত হন আমার ঘরে। তারপর আমাকে উদ্দেশ‍্য করে বললেন,’দেখো। তোমার সাথে কিছু জরুরী কথা ছিল।’ –‘হ্যাঁ বলুন!’ –‘দেখো বাবা, যদি তুমি চাও এখানে সব সময়ের জন্য থেকে আমার দোকানের দায়িত্ব নিতে পারো, এতে আমি তোমাকে সাহায্য করবো।’ অ‍্যালেক্স বলল,’এ তো ভালো কথা! প্রয়োজনে আমিও আপনার সাহায্যে আসতে পারি।’
ঠিক বুঝতে পারছি না আমার কী করা উচিত! রাতে মিসেস অ‍্যান্টনি আবার আসেন আমার ঘরে, তার কাঁপা কাঁপা হাত দিয়ে আমার হাত দুটো ধরে বললেন,’দেখো বাবা! তুমি মনে ভেবো না যে আমরা তোমাকে জোর করে ধরে রাখছি। তুমি যদি চাও তাহলে ইন্ডিয়ায় ফিরে যেতে পারো। তবে তুমি বলেছো তোমার বাবা-মা কেউ নেই। জানি না তুমি সেখানে ফিরে কী করবে! তুমি যদি আমাদের ছেলে হয়ে এখানে থাকো তাহলে তোমার কোনও অসুবিধা হবে না। আর আমি জানি, তুমি আমাদের খুব ভালোবাসো, আমরা শেষ বয়সে একটু সুখে থাকতে চাই। তোমাকে সাহারা করে বাঁচতে চাই। সকালে অ‍্যান্টনি তোমাকে ঠিক বুঝিয়ে বলতে পারেনি। তাই হয়ত তোমার মনে কোনও সংশয় তৈরি হয়েছে। সেটা দূর করতে এসেছি। তুমি রক হয়ে আমাদের কাছে থেকে যাও।’ আমার হাত দুটো জড়িয়ে ধরে বুক ফাটা কান্না! অঝোরে চোখের জল ঝরছে। মিসেস অ‍্যান্টনির চোখের জল মুছে বললাম,’আপনি কিছু ভাববেন না। আমি এখানেই থাকব!’
হয়ত তাঁকে সান্ত্বনা দিলাম। এটা তো সত্যি, আমার বাবা-মা দুজনেই মারা গিয়েছেন। সেই পাঁচ বছর বয়সে কোনো এক আত্মীয় আমাকে হোমে দিয়ে এসেছিলেন। আমার সেখানে বিশেষ কারোর জন্য পিছু টান নেই। সে যাই হোক।

মিসেস অ‍্যান্টনি ফিরে যাওয়ার আগে বললেন,’অ‍্য‍ালেক্সকে তোমার কেমন লাগে?’ আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি মিসেস অ‍্যান্টনির দিকে। –‘অ‍্যালেক্সের চোখমুখ দেখে বুঝেছি এই কয়েকদিনে তুমি ওর মনে জায়গা করে নিয়েছো! সেই সঙ্গে আমাদেরও।’ চোখ মুছে মিসেস অ‍্যান্টনি ঘর ছেড়ে চলে যান।

ওই দিন রাতেই আমি অ্যান্টনী হাউস ছেড়ে চলে আসি গুম্সের বাড়িতে। গুম্স আমার ভালো বন্ধু। ওকে সমস্ত কথা জানাতে ও বলল,’এ তো ভাল প্রস্তাব! ইন্ডিয়াতে ফিরে তোমার কোন লাভ হবে না।’ –‘কিন্তু! আমার জন্মভূমি মাতৃভূমি ছেড়ে থাকবো কীভাবে?’ আমার সমস্ত মন চঞ্চল।
যে দুদিন গুম্সের বাড়িতে ছিলাম, বারংবার দুই চোখে ভেসে উঠত অ‍্যালেক্সের মুখটা। ওকে যে ভালোবেসে ফেলেছি! থাকতে পারলাম না ফিরে আসতে হল অ‍্যান্টনি হাউসে। মিস্টার-মিসেস অ‍্যান্টনি দুজনে খুব খুশি। আমার আসার খবর পেয়ে অ‍্যালেক্স দৌড়ে আসে ঘরের ভিতর থেকে। কাছে আসতেই একটা মস্ত চুম্বন! এর চেয়ে ভালোবাসার প্রমাণ আর হয় না। এটাই তো ভালোবাসার শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
গুম্সের সাথে আলাপ করিয়ে দিলাম মিস্টার-মিসেস অ্যান্টনি আর অ‍্যালেক্সকে। অ‍্যালেক্স যেমন সুন্দরী তেমন বুদ্ধিমতী, শিক্ষিতা। খুব সহজেই অন্যকে আপন করে নিতে পারে। ওর থেকে ভালো জীবনসাথী আর পাওয়া যাবে না। তাছাড়া ওর সাথে আমার একটা বিষয়ে খুবই মিল, তা হল সাহিত্য। সবার সম্মতিতে একটা ভালো দিনে আমাদের আংটি বদল হল। জাঁকজমক অনুষ্ঠান করে বিয়েটা সম্পন্ন হল।

এতদিন একা ছিলাম। কিন্তু আজ রকের জন্য আমি সমস্ত কিছু ফিরে পেলাম। আমার বিয়ের যৌতুক হিসেবে মিস্টার অ‍্যান্টনি তাঁর অত বড় দোকানটা লিখে দিলেন আমার আর অ‍্যালেক্সের নামে। আমি এখানে সমস্ত কিছু পেয়ে খুব খুশি।

কেউ কোনওদিন নিজের জন্মভূমিকে ভুলতে পারে না। আমিও পারব না। সেখানে আমার ছোট পৈত্রিক বাড়িটা আজও আছে, সেখানেই আমার ছেলেবেলা, এ কখনো ভুলবার নয়! হয়তো বছরে দুবার কিংবা একবার সেখানে যেতেই হবে। অ‍্যালেক্সকে নিয়ে যাব নিজের দেশে। ও দেখবে আমার ছেলেবেলার স্মৃতি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস অ‍্যালেক্স কখনো আমার কথা ফেলতে পারবে না। ও আমাকে ভালোবাসে। আমার জীবনে অ‍্যালেক্সকে সঙ্গী হিসাবে পেয়ে আমি খুব খুশি। তবে মাঝে মাঝেই মন কেঁদে ওঠে আমার গ্রাম বাংলার জন্য। (সমাপ্ত)

আগের অংশটি পড়তে ক্লিক করুন–https://agamikalarab.com/2020/02/02/

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s