নিজেকে জানার অনুপ্রেরণা

আগামী কলরব: একদিন এক যুবক একজন সাধুর সঙ্গে দেখা করতে গেল। দেখা হলে সে সাধুর কাছে তার মনের দ্বন্দ্বের কথা বলল। সে বলল– সাধুবাবা, আমাকে আমার বন্ধুবান্ধবেরা নানারকম পরামর্শ দেয়। কেউ বলে এটা করিস না, কেউ বলে ওটা কর। কেউ আবার আমার সমালোচনা করে বলে আমার দ্বারা এই কাজটা হবে না, ইত্যাদি ইত্যাদি। এই সব শুনে শুনে আমি এখন নিজের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে কোনো কাজ করতে সাহস পাচ্ছি না।

যুবকের বক্তব্য শুনে সাধুবাবা স্মিত হেসে তাঁর ঝুলি থেকে সুন্দর দেখতে একটা চকচকে লাল পাথর বের করে তার হাতে দিয়ে বললেন- এটা নিয়ে গিয়ে এর দাম যাচাই করে আয়। কিন্তু কোনোভাবে এটা বেচবি না।
সাধুর কথা মত যুবক পাথরটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। প্রথমে সে সেটা নিয়ে এক ফলওয়ালার কাছে যায়। ফলওয়ালাকে বলে-এটার বদলে তুমি আমাকে কী দেবে? ফলওয়ালা পাথরটা নেড়েচেড়ে দেখে। তার বেশ পছন্দ হয়। সে বলে এর বদলে আমি তোমায় এক কিলো আপেল দেব। শুনে যুবক পাথরটা ফেরত নিয়ে এগিয়ে যায়। এরপর সে যায় এক মুদিখানায়। মুদিখানার মালিক পাথরের বদলে তাকে দুই কিলো আলু নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তখন সে পাথর নিয়ে এগিয়ে গিয়ে এক সোনার দোকানে যায়। স্যাকরা পাথরটা পরীক্ষা করে দেখে সেটার জন্য কুড়ি লক্ষ টাকা দিতে রাজি হয়। কিন্তু পাথর তো বিক্রি করা যাবে না! সেখান থেকে যুবক যায় শহরের এক বিখ্যাত ধনী লোকের বাড়ি। উজ্জ্বল দ্যুতি দেখে সেই ধনী লোকটিও পাথরের প্রেমে পড়ে, সে পাথরের জন্য যুবককে এক কোটি টাকা দিতে রাজি হয়। যুবক আশ্চর্য হয়। সে পাথর ফেরত নিয়ে দ্রুত সাধুবাবার কাছে ফিরে এসে তার অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিত জানায়।

যুবকের চোখেমুখে প্রশ্ন ও কৌতূহলের ইঙ্গিত দেখে সাধুবাবা হেসে বলেন–তুই তোর সঙ্গে একটি অমূল্য রত্ন নিয়ে ঘুরছিলিস। কেউ এর মূল্য এক কিলো আপেল, কেউ দুই কিলো আলু, কেউ আবার কুড়ি লক্ষ টাকা, আবার কেউ বা এক কোটি টাকা ধরেছে। তুইও এই অমূল্য রত্নটার মতই। তোর বন্ধুবান্ধবরা তোকে যে যার নিজের মত করে ভাবে, আর নিজের ভাবনা অনুযায়ী বলে। এবার এখান থেকে তোকে বেছে নিতে হবে, তুই কার কথা শুনবি, কার সঙ্গে চলবি। তোর দৃষ্টিভঙ্গিও সেইরকম হবে। আমরা প্রত্যেকেই নিত্যদিনের চলার পথে এমন মানুষদের মুখমুখি হই, যারা নিজেদের দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের বিভিন্ন নেতিবাচক উপদেশ দিয়ে থাকে– তোর দ্বারা এটা হবে না, এই কাজটা করতে যাস না, এই চাকরি করিস না, ইত্যাদি। আমরাও তাদের কথা মত ঝুঁকি নিতে চাই না। কিন্তু আমরা ভুলে যাই যে এটা তাদের ভাবনা, আমার নয়। আমরা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নিজেদের বিচার করতে যাই।

আমার মধ্যে কতটা শক্তি আছে, কতটা গুণ কিংবা পারদর্শিতা আছে, সেটা একমাত্র আমিই জানতে পারি। আমার প্রতিভার মূল্য অন্যের কাছে না থাক, আমার কাছে থাকতেই হবে।
এই ভাবনা যাদের মধ্যে দৃঢ় থাকে জগতে তারাই উন্নতি করতে পারে, তারাই যে কোনো অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। (সংগ্রাহক: ঋদ্ধিমান রায়)

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s