ধারাবাহিক রচনা: আমাদের শ্রী অরবিন্দ(পর্ব-৪)

শ্রী অরবিন্দ ও শ্রীমায়ের জীবনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত এই ধারাবাহিকটি ইতিমধ্যে পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। আমাদের বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠকমণ্ডলীর মধ্যে শ্রী অরবিন্দ ও মায়ের জীবনী নিয়ে চর্চা করেন কিংবা শ্রী অরবিন্দ আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত পাঠকও রয়েছেন নিশ্চয়ই। তাঁদের প্রতি আমাদের বিনম্র আবেদন যে, ধারাবাহিকটি পড়তে পড়তে কোনোরকম তথ্যভিত্তিক ত্রুটি চোখে পড়লে অনুগ্রহ করে তৎক্ষণাৎ আমাদের দপ্তরে যোগাযোগ করুন, অথবা লেখার শেষে কমেন্টেও জানাতে পারেন। এছাড়া লেখার নীচে দেওয়া লেখকের ফোন নম্বরে সরাসরি করতে পারেন যোগাযোগ। আমরা ত্রুটি মেরামতে সদা সচেষ্ট।–সম্পাদক

শ্রীমায়ের অতিমানস অবতরণের প্রচেষ্টা

মুকুল কুমার সাহা: আশ্রমের সাধক সংখ্যা ক্রমশই বাড়তে শুরু করল। মা আশ্রমকে স্বনির্ভর করতে বিভিন্ন বিভাগ, উপবিভাগ তৈরি করে দিলেন– যেমন, বয়ন শিল্প (হাতে বোনার কাজ), ধোপাখানা, ছুতার মিস্ত্রীদের কাজ, ডেয়ারি, ফার্মিং(চাষের কাজ), গার্ডেনিং, পারফিউম, এমব্রয়ডারী, স্টিলের বাসন-পত্র তৈরীর কারখানা, আশ্রমিক ও বহিরাগত অতিথিদের জন্য ডাইনিং হল, বহিরাগতদের থাকবার জন্য গেস্ট হাউস, নার্সিং হোম, হোমিওপ্যাথি- এলোপ্যাথি-আয়ুর্বেদ চিকিৎসা ব্যবস্থা, খেলাধুলার জন্য প্লেগ্রাউন্ড, যত রকমের খেলাধূলা আছে প্রায় সমস্ত কিছুর ব্যবস্থা করা, আশ্রম প্রেস প্রভৃতি সকল রকম সুরক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ্যের বর্মে আবৃত করলেন মা তাঁর সন্তানদের।
১৯৪৩ সালের ২রা ডিসেম্বর আশ্রম স্কুল প্রতিষ্ঠা করলেন মা। শ্রী অরবিন্দ মানব শরীর ত্যাগ করার পর ১৯৫১ সালের ২৪শে এপ্রিল মা শ্রী অরবিন্দ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র স্থাপন করলেন। এই সংকল্প শ্রী অরবিন্দের মনে অনেক কাল থেকেই ছিল।

১৯৫৬ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারী শ্রীমা শ্রী অরবিন্দের দেওয়া কাজ সম্পূর্ণ করে দিলেন পৃথিবীতে অতিমানস চেতনার অবতরণ ঘটিয়ে দিয়ে। এই ব্যাপারে পশুপতি ভট্টাচার্য্যের অনুবাদ সম্পূর্ণ তুলে দেওয়া হল: (২৯শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬ বুধবার সাধারন ধ্যানকালে বলা)

“আজকের সন্ধ্যায় স্বয়ং ভগবানের বাস্তব ও নিরেট উপস্থিতি ঘটেছিল তোমাদের মধ্যে। আমার আকৃতি হয়েছিল স্বর্ণা ও বিশ্বকে ছাপিয়ে, আমার সামনে এক বিরাট সোনার কবাট যা, জগৎকে রেখেছে ভগবান থেকে আড়াল করে। ঐ কবাট দেখে তখনই জানলাম এবং ইচ্ছা করলাম–‘এখন সময় হয়েছে’, তখন আমি দুই হাতে মস্ত এক সোনার মুগুর নিয়ে সেই কবাটের উপর আঘাত করলাম। এক আঘাতে সেই কবাট চূর্ণ হয়ে খন্ড খন্ড হয়ে গেল।

দরজা খোলা পেয়ে অতিমানসের আলো ও শক্তি ও চেতনা অনর্গল অবিরাম স্রোতে নেমে এলো পৃথিবীর বুকে।

পৃথিবীতে অতিমানসের অভিব্যক্তি এখন আর অঙ্গীকার মাত্র নেই। এখন তা বাস্তব ঘটনা, জীবন্ত সত্য।

সে চেতনা এখানে এসে কাজ করছে। অচিরে এমন দিন আসবে যখন অতি অন্ধ, অতি অচেতন, অতি অনিচ্ছুক ব্যক্তিও তা প্রত্যক্ষ করবে ও স্বীকার করতে বাধ্য হবে।”

শ্রীমা একসময় বলেছেন এখন অতিমানসের অবতরণের প্রশ্ন ওঠে না। এখন শুধু প্রশ্ন রূপায়নের, যে বস্তু আমাদের সঙ্গে আমাদের মধ্যে রয়েছে তার আত্মপ্রকাশের। ১৯৬১ সালের নূতন বছরের বাণীতে শ্রীমা সমগ্র মানবজাতিকে এই পৃথিবীতে এক উজ্জ্বল দিব্যজগৎ প্রতিষ্ঠা করতে আহ্বান জানালেন। কিন্তু পৃথিবীর মানুষ এই ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হতে সক্ষম নয়। মানুষী চেতনা চিরকালই মন্থর অথচ মানুষের সম্মুখে দিব্যমুহূর্ত উপস্থিত। তখন মা রূপান্তরের কাজ নিজেই গ্রহণ করলেন।

মায়ের কাঙ্ক্ষিত আন্তর্জাতিক মহানগরী ‘অরোভিল‘ প্রতিষ্ঠা করলেন ২৮শে ফেব্রুয়ারী ১৯৬৮ সালে। অরোভিল সনদে তিনি ঘোষণা করেছিলেন,” বর্ত্তমান মানব জাতির সমস্ত সংগ্রামের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতবর্ষ; ভারতবর্ষ হবে তার পুনরুত্থান ভূমি, উচ্চতর ও মহত্তর উদ্দেশ্যে।”
অরোভিল কারোর নয়। অরোভিল সমগ্র মানবজাতির। কিন্তু অরোভিলে বাস করতে গেলে ভাগবত চেতনার স্বেচ্ছাপ্রণোদিত সেবক হওয়া চাই। (পঞ্চম পর্ব আগামী রবিবার)

লেখকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন- 8584063724

৩য় পর্বটি পড়তে ক্লিক করুন-https://agamikalarab.com/2019/10/27/ধারাবাহিক রচনা: আমাদের শ্রী অরবিন্দ(পর্ব-৩)

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s