জল সংরক্ষণের কয়েকটি সরল ঘরোয়া পদ্ধতি

ঋদ্ধিমান রায়, আগামী কলরব: পৃথিবীতে মোট ৭৫ শতাংশ জল থাকলেও বিশুদ্ধ জলের পরিমাণ মাত্র ২.৫ শতাংশ। আবার এই বিশুদ্ধ জলের মধ্যে মাত্র এক শতাংশ জল আমাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে। এই জলই আমরা পান করি। কেন্দ্রীয় জল আয়োগ (সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন) এর রিপোর্ট অনুযায়ী সমগ্র ভারতের জলাধারগুলির জলস্তর অত্যন্ত দ্রুত গতিতে হ্রাস পেয়ে চলেছে। দক্ষিণ ভারতের ক্ষেত্রে এই হ্রাসের পরিমাণ ভয়াবহ। অন্ধ্রপ্রদেশ বা তামিলনাড়ুতে প্রায় ৫৫ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে জলস্তর। এইরকম চলতে থাকলে সেদিন বেশি দূরে নেই, যেদিন এক বোতল জলের জন্য মানুষ মানুষকে মেরে ফেলতে দ্বিধা করবে না; ঠিক যেভাবে বঙ্কিমচন্দ্রের ‘আনন্দমঠ’এ ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের যে ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে! যেখানে দেখা যায় একদল কঙ্কালসার মানুষ ক্ষুধার জ্বালায় নিজেদের মধ্যেই একজনকে হত্যা করে পুড়িয়ে তারই দেহের মাংস পুড়িয়ে খেতে উদ্যত হয়েছে।

যে ১ শতাংশ জলের উপর গোটা পৃথিবীর ৭৭০ কোটি মানুষ নির্ভরশীল, সেই জলও ক্রমাগত দূষিত হয়ে চলেছে। বর্তমানে রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন দেশ যৌথ উদ্যোগে জল সংরক্ষণের জন্য নানারকম পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

শুধুমাত্র রাষ্ট্রসংঘ কিংবা সরকারের ওপরই জল সংরক্ষণের দায় বর্তায় না। কারণ সত্যি বলতে– “প্রিয় ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য/ ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা।”

আমরা সাধারণ নাগরিকরা নানাভাবে প্রতিনিয়ত জেনে বা না জেনে প্রচুর পরিমাণে জল নষ্ট করে থাকি। একথা সত্য, প্রযুক্তি বা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে জল সংরক্ষণ করা আমাদের পক্ষে কঠিন, কিন্তু কিছু সাধারণ ঘরোয়া পদ্ধতি মেনে চলে প্রতিদিনই আমরা বহুল পরিমাণে এই অপচয় রোধ করতে পারি। আর সেটা দেশের অধিকাংশ নাগরিক নিয়মিত করতে পারলে নিঃসন্দেহে আমরা প্রাণীকুলকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারব।

Source- goingevergreen.org

save water save life

প্রথমত, বাথরুমের কোনো পাইপ বা ট্যাঙ্ক সামান্য ফুটো হয়ে ফোঁটা ফোঁটা জল পড়তে থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই আমরা তা এড়িয়ে যাই। কিন্তু এই ফোঁটা ফোঁটা জল একদিন ধরে ক্রমাগত পড়লে সেই অপচয়ের পরিমাণ হয় ১০০ গ্যালন অর্থাৎ ৩৭৮ লিটারেরও অধিক! দ্বিতীয়ত, অকারণে ফ্লাশ ব্যবহার বন্ধ করা যেতে পারে। একবার ফ্লাশ চালালে প্রায় ১০ লিটার জল খরচ হয়। তৃতীয়ত, শাওয়ার ব্যবহার হ্রাস করতে করতে একেবারে বন্ধ করা ভালো, কারণ শাওয়ার সাধারণত আমাদের শরীর ভেজাতে যথেষ্ট সময় নেয়। বরং অর্ধেক জল আমাদের শরীরেই লাগে না বালতি এবং মগ ব্যবহার করে স্নান করলে স্বল্পসময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ জল ব্যবহার করেই ভাল ভাবে স্নান করে নেওয়া যায়।
চতুর্থত, বৃষ্টির জল বালতি বা জালায় ধরে তা ছেঁকে নিয়ে আমরা সেটা পায়খানা কিংবা বাসন মাজা- কাপড় কাচার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারি। এভাবে বহু পরিমাণ বিশুদ্ধ জল আমরা সঞ্চয় করতে পারি।
আবার পাড়ার টাইম কল থেকে জল সংগ্রহ হয়ে গেলে অধিকাংশ স্থানে আমরা কেউ কল বন্ধ করার প্রয়োজন মনে করি না। অঝোরে জল নষ্ট হতে থাকে। প্রকৃতপক্ষে ওই জল আসছে নীচের জলস্তর থেকে। আর এভাবে ক্রমাগত এত পরিমান জল খরচ হতে হতে জলস্তর শূণ্য হয়ে পড়ে।
জল রক্ষা করার সবচেয়ে সহজতম উপায় হল বৃক্ষরোপণ। গাছই একমাত্র তার শিকড়কে মাটির গভীরে প্রবেশ করিয়ে জলস্তরকে আকর্ষণ করতে পারে।

একটি বাড়িতে প্রত্যহ গড়পড়তায় ৩৫০ গ্যালন জল ব্যবহার করা হয়। উপরোক্ত পদ্ধতিগুলি মেনে চললে আমরা প্রত্যহ ১২৫ গ্যালন জল খুব সহজেই সাশ্রয় করতে পারি, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৩৫ শতাংশ জলের অপচয় বন্ধ করা সম্ভব।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s