ছোট গল্প: আত্মদৃষ্টি

প্রসেনজিৎ মজুমদার: প্রদীপ ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলতেই অবাক! দরজার কাছে জমাট বেঁধে রয়েছে রক্ত। সে আশ্চর্য হয়ে ভাবে এখানে এত রক্ত এলো কোথা থেকে! যেন কেউ খুন হয়েছে। তার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসে। সে জল দিয়ে ঘষে ঘষে রক্ত মুছে ফেলে।

রক্ত মুছলে কি হবে ! যে রক্ত তার মনে জমাট বেঁধে আছে তা সহজে উঠবার নয়! যেদিকেই তাকাচ্ছে সেখানেই রক্ত। কখনো বিছানার চাদরে,কখনো জলের বোতলে,কখনো বা তার শরীরে। সে কিছুতেই এ রক্ত মুছে ফেলতে পারছে না তার দুহাতে ভরে রয়েছে লাল তাজা রক্ত। বারবার সাবান দিয়ে হাত ধুয়েও সে রক্ত মুছে ফেলতে পারছে না।
প্রদীপ চিৎকার করতে থাকে,’এ আমার কি হচ্ছে! আমি কি পাগল হয়ে যাচ্ছি?’ চিৎকার করতে করতে দুহাত মাথায় দিয়ে বসে পড়ে মেঝেতে। কেন সে চারিদিকে শুধু রক্তই রক্ত দেখছে !


তিন দিন আগে সন্ধ্যার সময় কাজের মেয়ে বন্দনা এসে যখন বলল যে সে প্রদীপের সন্তানের মা হতে চলেছে প্রদীপের তা সহ্য হয়নি। সে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,’সামনে আমার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।’ তারপর তার বিস্ফারিত চোখ যায় টেবিলের উপর থাকা ছুরিটায়। মুহূর্তের মধ্যে বন্দনা কিছু ভেবে ওঠার আগেই প্রদীপ টেবিলের উপর থেকে ছুরিটা নিয়ে একের পর এক কোপ বসাতে থাকে বন্দনার যৌবনভরা বুকে। মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে বন্দনার শরীর। রক্তে ভেসে যাচ্ছে সমস্ত মেঝে! প্রদীপের চোখেমুখে লাল রক্ত ছিটিয়ে পড়েছে। সে দুই হাত দিয়ে সেই রক্ত ঢাকার চেষ্টা করে। তারপর বন্দনার রক্তমাখা শরীর পুঁতে দেয় ঘরের মেঝেতেই। তার উপর লেপে দেয় সিমেন্ট।

আর কেউ তাকে সন্দেহ করবে না। সব প্রমান সে মিটিয়ে ফেলেছে। হাসতে থাকে, বীভৎস কুৎসিত ভয়ঙ্কর সে হাসি। তার চোখে মুখে সেই ভয়ঙ্কর হাসির ছায়া মেশানো আনন্দ।
তবে আজ সে কি সত্যিই পাগল হয়ে যাচ্ছে, এমন কুৎসিত ভয়ঙ্কর পাপ কাজ করার আনন্দে!

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s