কুখ্যাত জালিয়ানওয়ালাবাগের প্রতিশোধ নিতে ব্রিটিশ ভূমিতে পৌঁছে যান যিনি!

জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড

ঋদ্ধিমান রায়, আগামী কলরব: ভারতের রক্তাক্তময় ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড বিশেষ নজর কাড়ে। ১৯১৯ সালের ১৩ই এপ্রিল চারদিক ঘেরা জমিতে কয়েক হাজার নিরীহ নিরস্ত্র মানুষকে কার্যত টিপে মেরে ফেলা হয় কর্ণেল ডায়ারের নেতৃত্বে।

Jalianwala bagh massacre

সেদিন সেইখানে জল বিতরণের জন্য উপস্থিত ছিলেন এক যুবক। সৌভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান এবং সেই রক্ত ভেজা মাটি স্পর্শ করে প্রতিশোধের প্রতিজ্ঞা করেন। কয়েক বছর পর সেই যুবক ভগত সিং এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে পাঞ্জাবের শক্তিশালী বিপ্লবী সংগঠন গদর পার্টিতে যোগ দেন। ১৯২৭ সালে নিষিদ্ধ অস্ত্র বহন করার অপরাধে তাঁর কারাদণ্ড হয়। বছর চার পর মুক্তি পেলে তিনি জার্মানিতে অন্তর্ধান করে সেখানে থেকে বিপ্লবের কাজ চালানোর পরিকল্পনা করেন। কিন্তু বছর বারো পূর্বের পবিত্র প্রতিজ্ঞাটি যে তাঁর বুকে ধিকিধিকি জ্বলছে সর্বদা! ইঞ্জিনিয়ার পরিচয়ে তিনি পাড়ি দেন ইংল্যান্ডে।

এখানে একটা তথ্য সম্পর্কে জেনে রাখা দরকার। জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের সময় পাঞ্জাবের গভর্ণর ছিলেন মাইকেল ও ডায়ার। কিন্তু জালিয়ানওয়ালাবাগে গুলিবর্ষণের নির্দেশ দেন কর্ণেল ডায়ার। এই কর্ণেল ডায়ার আবার ১৯২৭ সালেই মারা যান। অন্যদিকে জেনারেল ও ডায়ার জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডে কর্ণেল ডায়ারের ভূমিকাকে প্রত্যক্ষ বিবৃতি দিয়ে সমর্থন এবং প্রশংসা করেন। একই সময়ে দুই ডায়ারের পাঞ্জাবে দায়িত্বপালন এবং জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডে উভয়ের যোগ থাকার ঘটনায় সেই বিপ্লবী যুবক বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। তিনি শুধু একটা বিষয় জানেন- জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত যে ডায়ার, তিনি আছেন ইংল্যান্ডেই।

১৯৪০ সালের ১৩ই মার্চ লন্ডনের ক্যাক্সটন হলে একটা অনুষ্ঠানে মাইকেল ও ডায়ারের সম্মুখিন হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ আসে। বইয়ের মধ্যে রিভলবার লুকিয়ে নিয়ে হলের জনসমুদ্রে মিশে যান যুবক। সঠিক সময় বুঝে অত্যন্ত ধীরে সুস্থে ডায়ারের একেবারে সামনে পৌঁছে ক্ষিপ্র গতিতে তিনবার ট্রিগার টিপে গুলিবিদ্ধ করেন ডায়ারের দেহ। পাশে থাকা দুই ইংরেজ আহত হয়ে লুটিয়ে পড়েন, কিন্তু ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ডায়ারের। পালানোর সুযোগ থাকলেও অস্ত্র সহ পুলিশের কাছে ধরা দেন যুবক। তাঁর আসল পরিচয় হল– শহীদ- ঈ- আজম উধম সিং

উধম সিং

Udham Singh

বিচারে ৩১ শে জুলাই ১৯৪০ এ ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। বিচারকেরা ডায়ার হত্যার কারণ জানতে চাইলে নির্ভীক উধম সিং ভাঙ্গা ইংরেজিতে জানান– I did it because I had a grudge against him. He deserved it. He was the real culprit. He wanted to crush the spirit of my people, so I have crushed him… I am happy that I have done the job. I am not scared of death. I am dying for my country. I have seen my people starving in India under the British rule. I have protested against this, it was my duty. What greater honour could be bestowed on me than death for the sake of my motherland?

লন্ডনের ক্যাক্সটন হলে

কারাবাসের সময় উধম সিং নিজের নাম বদলে রাখেন ‘রাম মহম্মদ সিং আজাদ’, যার প্রথম তিনটি শব্দ হিন্দু মুসলমান আর শিখ সম্প্রদায়কে সূচিত করে, এবং ‘আজাদ’ অর্থে তিনি স্বাধীন।

Ram Muhammad Singh Ajad

1 Comment

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s