Featured

মহামারী-কবলিত বিশ্বে জীবনের বার্তা দিল পরিবেশ সংরক্ষণের থিমে ডিজিটাল চিত্র প্রদর্শনী

ঋদ্ধিমান রায়, আগামী কলরব: বিশ্বময় করোনা সংকটের করাল থাবায় বিপর্যস্ত জনজীবন। কোভিড ১৯ এ ব্যাপক হারে আক্রান্ত দেশগুলির প্রায় সবকটিতেই অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে পড়ে স্বাভাবিক জনজীবন ও পরিষেবা। স্তব্ধ হয়ে পড়ে যানবাহনের চাকা ও কলকারখানার ধোঁয়ার চিমনি। এরফলে করোনা-আক্রান্ত পরিবেশের মধ্যেও আমরা উপলব্ধি করতে পেরেছি স্বচ্ছ নির্মল শ্বাস বায়ু। আমরা দেখেছি দূষণমুক্ত নদী-সমুদ্র, ধোঁয়াশামুক্ত পাহাড়, সেই সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া লুপ্ত প্রায় পাখিদের কলকাকলি। যুগ যুগ ধরে দূষণের পাঁকে নিমজ্জিত প্রকৃতিকে আমরা দেখলাম পুনরায় ভরা যৌবন নিয়ে সেজে উঠতে। করোনার মৃত্যু-শ্বাসের মধ্যেও এ জীবনেরই দৃষ্টান্ত।
এবারের আন্তর্জাতিক পরিবেশ দিবসটিও ছিল তাই সমগ্র বিশ্বের কাছেই এক অভিনব আবেগ উন্মাদনার দিন।

বিশিষ্ট সমাজসেবী ও শিক্ষাবিদ চন্দ্রচূড় গোস্বামী এবং তাঁর ফ্যান ক্লাবের প্রচেষ্টায় গত ৫ই জুন থেকে ২১ জুন বিশ্ব যোগ দিবস পর্যন্ত পক্ষকাল যাবৎ অনুষ্ঠিত হল এক অভিনব ডিজিটাল চিত্র প্রদর্শনী। প্রদর্শনীর থিম ছিল– ‘বিশ্ব পরিবেশ ও তার সংরক্ষণ‘। বহু উদীয়মান প্রতিভাশালী শিল্পী এই প্রদর্শনীতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানটিতে বিচারক মন্ডলীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ডঃ গোপী ঘোষ এবং শ্রীমতী মিতালী মুখোপাধ্যায়।

বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ‍্য চিত্রের মধ্যে শিল্পী শীর্ষ আচার্যের চিত্রে ফুটে উঠেছে সম্প্রতি কেরালায় নৃশংস ভাবে হস্তিনী হত্যায় প্রকৃতি মায়ের রুষ্ট হওয়া এবং মানুষকে কৃতকর্মের শাস্তি দান। শিল্পী তনুষ্কা কাঞ্জিলাল দেখাতে চেয়েছেন মোবাইল ফোনের ক্ষতিকারক প্রভাব মানুষের ও পাখির মধ্যে। এর সঙ্গে শিল্পী প্রীতি সেনের তুলির ছোঁয়ায় অরণ্য দেবীর পৃথিবীকে রক্ষা করার চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। শিল্পী শুভাশিস দত্তের থিম ছিল পাঠ্যপুস্তকে পড়া ‘একটি গাছ একটি প্রাণকে আন্তরিক ভাবে আত্মস্থ করা। অন্যদিকে শিল্পী ডঃ গোপী ঘোষ ক্যানভাসে ফুটিয়েছেন প্রকৃতি থেকে ক্রমশ বিলুপ্ত প্রায় চড়াই পাখিকে।

শ্রীমতী মিতালী মুখোপাধ্যায় প্রদর্শনীর প্রয়াসটির সাফল্য কামনা করে সমাজের জন্য বার্তা দেন– একটি চারা, একটি পৃথিবী’। পাশাপাশি অভিনন্দন জানান চন্দ্রচূড় গোস্বামীকে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করার জন্য। পাশাপাশি ডঃ গোপী ঘোষের বক্তব্যের সূত্র ধরে উঠে আসে–‘জল-জমি-অরণ্য, তা বিনা জীবন শূন্য’।

পরিবেশ বিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত চন্দ্রচূড় গোস্বামী
অনুষ্ঠানটির সার্থক রূপায়ণের জন্য অংশগ্রহণকারী শিল্পী-অতিথি এবং অন্যান্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। পাশাপাশি, আগামীদিনেও তাঁর ফ্যান ক্লাবের পক্ষ থেকে পরিবেশ-রক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

প্রদর্শনীটিতে অনেক উদীয়মান শিল্পী তাঁদের প্রতিভার পরিচয় রাখে। এইসব শিশু শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন– ঋষিতা বেরা, জগদীশ রায়, অর্চিস্মান সেন, সৃজনী মন্ডল, ভিবা শ্রী, দিব্যাংশু কুমার, অনন্য গৌতম, নয়নরঞ্জন গঙ্গোপাধ্যায়, উষ্ণীষ সেনগুপ্ত, আত্রী দাস, স্নিগ্ধা গঙ্গোপাধ্যায়, আরাধ্যা, অভিরাজ ঝাঁ, দীপ্তি দুবে, মহাশ্বেতা এবং অনিমা প্রসাদ

Featured

কলকাতার গুপ্ত কথা(ধারাবাহিক)

ঢাকেশ্বরীর ইতিকথা

প্রিয়াঙ্কা সিংহ: বল্লাল সেন রাজা হওয়ার পর নিজের জন্মস্থানকে মহিমান্বিত করার জন্য একটি মন্দির নির্মাণ করেন। কিংবদন্তী আছে তিনি একবার জঙ্গলে আচ্ছাদিত দেবতার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তারপর সেই দেবতার সন্ধান পান এবং সেই স্থানে মন্দির নির্মাণ করেন।
যেহেতু মূর্তিটি তিনি আচ্ছাদিত বা ঢাকা অবস্থাতে পান, তাই এই মূর্তিটির নাম দেয়া হয় ঢাকেশ্বরী।
আমরা অনেকেই কুমারটুলি সর্বজনীন পুজো দেখতে যাই। কুমারটুলি সর্বজনীন পুজো থেকে বেরোনোর সময় একটা ছোট্ট গলি দেখতে পাই। ওই গলি দিয়ে আমরা অনেকে ধন্বন্তরি গঙ্গাপ্রসাদ সেনের বাড়ি দেখতে যাই। গলিতে ঢুকে ডানদিকের রাস্তা সেন বাড়ির দিকে বা গঙ্গার ঘাটের দিকে গেছে।আর বামদিকের রাস্তাতে একটা মন্দির দেখা যায়।মন্দিরটি তেমন আকর্ষণীয় নয়, তাই দর্শনে আগ্রহী হয় না কেউই।

একদিন মনে হল যাই, দেখি। মন্দিরের মূর্তি দেখার পর বাকরুদ্ধ হতে হল!
মন্দিরের পুরোহিতের কাছে গল্প শুনলাম এবং বাড়ি ফিরে কিছু বই থেকে পেলাম এই মূর্তির ইতিহাস।

এই ঢাকেশ্বরী ছিলেন বর্তমান বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বিখ্যাত ঢাকেশ্বরী মন্দিরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। মূর্তিটি দেবী দুর্গারূপী ।
আনুমানিক মন্দিরটি দ্বাদশ শতাব্দীতে নির্মাণ করা হয়েছিল।
আবার প্রশ্ন হল এই মূর্তি সুদূর ঢাকা থেকে কলকাতায় এল কী করে! কীভাবে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের মূর্তি কলকাতার কুমারটুলির দুর্গাচারণ স্ট্রিটের একটি মন্দিরে এল, যা কি না আনুমানিক ৮০০ বছর পুরোনো।

ইতিহাসের চাকা ঘুরিয়ে ফিরে যাওয়া যাক বল্লাল সেনের সময়কালে।
কথিত আছে, এই ঢাকেশ্বরী থেকে ঢাকা শহরের নাম দেওয়া হয়। আকবরের সেনাপতি মান সিংহ পরবর্তীকালে মন্দিরটি সংস্কার করেন এবং এক তেওয়ারী পরিবারকে সেবায়েত হিসাবে নিযুক্ত করেন। দেশভাগের সময় বিগ্রহটি বিশেষ বিমানে করে নিয়ে আসেন রাজকিশোর তেওয়ারী ও হরিপদ চক্রবর্তী।
কলকাতা নিয়ে আসার পর হরচন্দ্র মল্লিক স্ট্রিটে একটি গুদাম ঘরে রেখে পুজো করা হত। পরে ১৯৫০ নাগাদ তৎকালীন কলকাতার স্বনামধন্য ব্যবসায়ী দেবেন্দ্রনাথ চৌধুরী দেবীর মন্দির নির্মাণ করে দেন কুমারটুলী অঞ্চলে।
এখন আমরা যে ঢাকা ঢাকেশ্বরী মন্দিরে মূর্তি দেখতে পাই তা এই মূর্তির প্রতিরূপ। দেবী মূর্তিটি ব্রোঞ্জের, যার ওপর সোনার জলের প্রলেপখচিত। কলকাতার এই মন্দিরটি অনেক ইতিহাস নিয়ে আছে। অথচ কোনো সংস্কারের লক্ষণ চোখে পড়ে না।

(লেখিকার সঙ্গে যোগাযোগ করুন- priyanka.singha1811@gmail.com)

Featured

ধারাবাহিক রচনা: আমাদের শ্রী অরবিন্দ(পর্ব-৩১)

শ্রী অরবিন্দ ও শ্রীমায়ের জীবনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত এই ধারাবাহিকটি ইতিমধ্যে পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। আমাদের বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠকমণ্ডলীর মধ্যে শ্রী অরবিন্দ ও মায়ের জীবনী নিয়ে চর্চা করেন কিংবা শ্রী অরবিন্দ আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত পাঠকও রয়েছেন নিশ্চয়ই। তাঁদের প্রতি আমাদের বিনম্র আবেদন যে, ধারাবাহিকটি পড়তে পড়তে কোনোরকম তথ্যভিত্তিক ত্রুটি চোখে পড়লে অনুগ্রহ করে তৎক্ষণাৎ আমাদের দপ্তরে যোগাযোগ করুন, অথবা লেখার শেষে
কমেন্টেও জানাতে পারেন। এছাড়া লেখার নীচে দেওয়া লেখকের ফোন নম্বরে সরাসরি করতে পারেন যোগাযোগ। আমরা ত্রুটি মেরামতে সদা সচেষ্ট। –সম্পাদক

হঠ যোগ কী?

মুকুল কুমার সাহা: আমরা আগের তিনটি পর্বে ভারতের মুনি-ঋষিদের দেওয়া পুরাতন যোগের উদ্দেশ্য এবং শ্রীঅরবিন্দের যোগের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে কিছু আলোচনা করেছি। আমরা এখন পুরাতন যোগের যোগ-পন্থা সম্বন্ধে কিছু আলোচনা করার চেষ্টা করছি। শ্রী অরবিন্দের ‘The Synthesis of Yoga‘ বইটির বঙ্গানুবাদ করেছেন সাধক শ্রী শ্যামাচরণ চট্টোপাধ্যায়। তিনি এই বইটির নামকরণ করেছেন ‘যোগ সমন্বয়‘। The Synthesis of Yoga এই বইটিতে শ্রী অরবিন্দ পুরাতন যে কয়েকটি যোগ সম্বন্ধে আলোচনা করেছেন তার মধ্যে হঠ যোগ ও রাজ যোগ রয়েছে। তিনি বলেছেন জ্ঞান যোগের উদ্দেশ্য যেমন সমাধি লাভ করা, হঠ যোগ ও রাজ যোগেরও ওই একই উদ্দেশ্য সমাধি লাভ করা। কিন্তু জ্ঞান যোগের পদ্ধতির সঙ্গে রাজ যোগ ও হঠ যোগের পদ্ধতির বিরাট পার্থক্য রয়েছে। হঠ যোগ এক শক্তিশালী, কিন্তু দুরূহ ও কষ্টকর প্রণালী।

সমাধি কাকে বলে সেটা আমাদের প্রথমেই ভালো করে বুঝে নিতে হবে। যোগের স্বরূপ হল ভগবানের সঙ্গে মিলনের প্রয়াস ও তার প্রাপ্তি। আমাদের সাধারণ মানসিকতার আয়ত্তাধীন চেতনার যে স্তর ও তীব্রতা তা অপেক্ষা চেতনার আরো উচ্চস্তরে ও তীব্রতায় উঠে যেতে হয় ভগবানকে লাভ করবার জন্য। সমাধি হচ্ছে চেতনার এইরকম এক উচ্চতর স্তর ও মহত্তর তীব্রতার স্বাভাবিক স্থিতি। এই স্তরে উন্নীত হতে পারলে ভগবানের সত্তাকে জানতে, তার মধ্যে বিলীন হতে, তার সঙ্গে অভিন্ন হতে পারা সম্ভব হয়। সমাধি লাভই যদি যোগের উদ্দেশ্য হয় তাহলে যার প্রকৃতিতে যে যোগ পদ্ধতি কম কষ্টকর বলে মনে হবে তিনি সেই সাধনপন্থা ধরে বরাবর চলতে পারলেই অভীষ্ট সিদ্ধ হবে।

শ্রী অরবিন্দ বলেছেন তাঁর পূর্ণ যোগে হঠ যোগের গুরুত্ব গৌণ। হঠ যোগের মূল ভাব সম্বন্ধে আলোচনা করা ছাড়া আর বেশি কিছু করা আমাদের প্রয়োজন নেই। এই যোগের পদ্ধতিকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া যায়, নয়তো তাদের প্রয়োগ করা যায় শুধু প্রাথমিক বা প্রাসঙ্গিক সহায়তার জন্য।

হঠ-যোগীরা বলেন শরীর ও অন্তঃপুরুষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ বিদ্যমান। তাঁদের কাছে শরীর শুধু এক জীবন্ত জড়ের স্তুপ নয়, এ হল আধ্যাত্মিক সত্তা ও শরীরের মধ্যে(অন্নময় সত্তার মধ্যে) এক রহস্যপূর্ণ সেতু। এই পথে যেতে হলে এক দীর্ঘ দুরূহ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ সাধনার প্রয়োজন হয়। প্রকৃতির বিধান অনুযায়ী সঙ্কীর্ণ ও দুঃখময় যে সব গ্রন্থি, তার মধ্যেই আমরা সাধারণ জীবনে আমাদের চেতনাকে নিয়োজিত রাখি। হঠ যোগ আমাদের ভগবানের সঙ্গে তাঁর চেতনার সঙ্গে ঐক্য বা মিলন সাধন করে।

আমরা যোগের ব্যাপারে গভীর ভাবে চিন্তা করলে, যোগ সম্বন্ধে জানতে চাইলে প্রথমেই আমাদের মনের মধ্যে এটাই উদয় হয় বর্তমানে আমরা সাধারণ চেতনার একটা সাধারণ মানুষ হলেও আমাদের এই শরীরের মধ্যেই কোথাও রয়েছে ভগবানের পূর্ণ চেতনা ও পূর্ণ আনন্দ।

যাই হোক, হঠ যোগ শিক্ষার দুটি প্রধান অঙ্গ হল আসন ও প্রাণায়াম, অন্য গুলি এদের সহায়ক মাত্র। আসনের অর্থ শরীরকে নিশ্চল ভাবে রাখতে অভ্যস্ত করা। আর প্রাণায়ামের অর্থ শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামের দ্বারা প্রাণশক্তিকে চালনা করা ও নিরোধ করা। আসনের সাহায্যে শরীরকে অচঞ্চল স্থির হতে শিক্ষা দেওয়া হয়। প্রকৃতির প্রাণশক্তির অফুরন্ত ভান্ডার থেকে প্রাণশক্তি বা জীবনীশক্তি শরীরের ওপর সর্বদাই এসে পড়ছে, শরীর সেই শক্তিকে সব সময় ধারণ করতে সক্ষম নয়, নানা কাজের মধ্যে দিয়ে অতিরিক্ত শক্তিটুকু ক্ষয় করতে আমরা বাধ্য হই। শরীরকে শান্ত ও নিঃস্পন্দ করার অর্থ এই প্রাণশক্তি সবটুকু নিজের মধ্যে ধারণ করা। প্রাণশক্তিকে শরীরের মধ্যে জমিয়ে রাখতে পারলে শরীর বলীয়ান, স্বাস্থ্যপূর্ণ, কমনীয় হয়ে ওঠে।

হঠ যোগ সম্বন্ধে জানতে আমরা আর একটি পর্বের জন্য অপেক্ষা করব। কারণ হঠ যোগের স্বল্প ক্রিয়ার মাধ্যমে(আসন ও প্রাণায়াম) আমাদের শরীরকে নীরোগ রাখতে বর্তমানে এর ব্যবহার সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। যোগীদের কাছে এর আসল উদ্দেশ্য ছিল ভগবানকে লাভ করা, সেই সঙ্গে আসন ও প্রাণায়ামের ফলস্বরূপ কুন্ডলিনী শক্তিকে জাগরিত করে সাধারণ মানুষের অলভ্য অদ্ভুত শক্তির অধিকারী হওয়া।

(দ্বিত্রিংশ পর্ব আগামী রবিবার)

লেখকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন- 8584063724

৩০ম পর্বটি পড়তে ক্লিক করুন- https://agamikalarab.com/2020/06/17

Featured

Shyama Prasad Mukherjee: The nation mourns for 67 years injustice, Mystery unveiled

Gautam Guha, Agami Kalarab: Shyama Prasad Mukherjee is an example of great leadership and political milestone. He was born on July 6, 1901. He would have preferred to spend a lifetime in the hallowed portal of goddess Saraswati. However, the perilous political situation in undivided Bengal in the late 1930s compelled him to pursue active politics. Over the ensuing 14 years, he came to occupy an important place in national politics, wrote the Vice-President of India M Venkaiah Naidu in The Pioneer. At the age of 33, he became the youngest vice-chancellor of Calcutta University in 1934. Mookerjee demanded the partition of Bengal in 1946 to prevent the inclusion of its Hindu-majority areas in a Muslim-dominated East Pakistan. A meeting held by the Mahasabha on April 15, 1947, in Tarakeswar, authorised him to take steps for ensuring partition of Bengal. Dr Mukherjee is a most distinguished son of India. Not only did he serve as a Cabinet Minister in JLN’s first Cabinet, he had a long record of distinguished public service during freedom struggle prior to that. He had served as a minister in the Bengal government in 1937, and before that, for decades in the legislative assembly. His stint as the VC of Calcutta University is still remembered. Nehru was well aware of Mookerjee’s pro-Hindu leanings and association with the Hindu Mahasabha. But it was his ability and eminence that had ensured him a ministerial birth.
Mookerjee will always be remembered for integrating Jammu & Kashmir with the rest of India. He scripted an uprising with his famous slogan- “Ek desh mein do Pradhan, do Vidhan, do Nishan nahi chalenge, nahi chalenge”. (The country will never accept a system which allows two Prime Ministers, two Constitutions and two National flags). To protest against the dubious ‘permit raj’ in Jammu & Kashmir, Mookerjee went to Kashmir in 1953 as an Indian citizen without seeking any permission from the State Government. The idea was to prove the point that Jammu & Kashmir is an integral part of India and thus there is no need for an ‘entry permit’ for an Indian citizen. But, while crossing the border into Kashmir at Lakhaanpur, Mookerjee was arrested by the then Jammu & Kashmir Government and jailed in a dilapidated house. He was shifted from the Central Jail in Srinagar to a cottage in the outskirts and was in fact attended to by senior doctors. However, it may be argued that the state government could have treated an opponent with better care. A month after his arrest, his health worsened and the patriot died while in custody paying price for his effort to integrate India. Mookerjee’s mysterious death in custody raised resentment and suspicion. There were demands for independent enquiry, including earnest appeals from his aged mother Jogmaya Devi to then Prime Minister Jawaharlal Nehru. But unfortunately no inquiry commission was set by the Nehru government. The event became yet another chapter in history of mysterious political deaths in India. But Mookerjee’s martyrdom compelled the Nehru government to remove the ‘permit raj’, the post of Wazir-e-Azam (Prime Minister) and Sadr-e-Riyasat (President) in Jammu & Kashmir. His sacrifice forced the Indian government to bring Jammu & Kashmir under the ambit of Indian Constitution, Union Parliament, Supreme Court of India and the Election Commission of India. Till 1953, these institutions did not have any role there. Syama Prasad Mookerjee’s services were lost to the country at a time when they were required the most.

Shyama Prasad Mukherji College of University of Delhi was established in 1969 in his memory. On 7 August 1998, the Ahmedabad Municipal Corporation named a bridge after Mukherjee. Delhi has a major road named after Mukherjee called Shyama Prasad Mukherjee Marg, Kolkata, too, has a major road called Shyama Prasad Mukherjee Road. In 2001, the main research funding institute of the Government of India, CSIR, instituted a new fellowship named after him. However, his legacy will stay on to guide the nation, nationalism and nationhood. It will inspire the lives and times for generations to come.
Mookerjee was a nationalist to the core. ‘Country comes first’ was his watchword and ‘Live and let live’ was the motto of his life. At present, few flattering pseudo seculars and leftist historians are trying to downplay his contribution to India’s independence and the formation of West Bengal. He lived and died for the cause of the nation.Syamaprasad will be regarded as having died a martyr’s death in Kashmir. It is a grim tragedy that a great patriot of his stature should have died a premature death while in detention without trial-none of his near and dear ones being present beiside him at the home of his death. Shyamaprashad, in order to foil the evil design of Sheikh Abdulla the self proclaimed Premir of Jammu and Kashmir,not only gave up his precious life for the sake of the country but forced the Government of India to accept that there must be One Nation, ‘Ek Nishan Ek Bidhan and Ek Pradhan‘ in India.

Featured

অশরীরী (অলৌকিক গল্প)

প্রসেনজিৎ মজুমদার, আগামী কলরব: ঘড়িতে নটা বেজে আঠারো, বাড়ির বাইরে ঠান্ডা হাওয়া, সেই সঙ্গে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হয়ে চলেছে। সন্ধ‍্যার সময় কালবৈশাখী ঝড় বয়ে গিয়েছে, সঙ্গে মুষলধারায় বৃষ্টি। ঘরে বসে পড়ছি, এমন সময় দরজায় টোকা মারার শব্দ। এখন আবার কে এলো এই বৃষ্টির মধ্যে! বাবা টিভিতে খবর শুনছে পাশের ঘরে বসে। মা রান্না ঘরে, তাই আমাকেই দরজাটা খুলতে হল। মড়মড় শব্দে দরজাটা খুলতেই চমকে উঠলাম-- 'একি তুই? ভিজে স্নান হয়ে গেছিস যে! আয়-আয় শিগগির ভিতরে আয়।! রোহিত আমার কলেজের বন্ধু। সামনে ফাইনাল ইয়ার পরীক্ষা, তাই কলেজে যাওয়া হয় না। ওর সাথে কথাও হয়নি বেশ কিছুদিন। রোহিত ঘরের ভিতরে আসে। আমি তোয়ালেটা দিয়ে বললাম 'মাথাটা মুছে ফেল, জল বসলে ঠান্ডা লেগে যাবে সামনে আবার পরীক্ষা।'

এতক্ষণ লক্ষ্য করিনি ওর বাঁ হাতের কনুই কেটে রক্ত ঝরছে মেঝেতে। ‘
কিরে, তোর হাত কাটল কীভাবে?’ রোহিত কোনও উত্তর দিল না। আমি ড্রয়ার থেকে তুলো আর ডেটল এনে তার ক্ষত জায়গা পরিষ্কার করে ওষুধ লাগিয়ে দিলাম। ওর হাতটা কেমন ঠান্ডা, চামড়াও ফ্যাকাসে হয়ে গিয়েছে। বোধহয় এতক্ষণ বৃষ্টিতে ভিজেছিল তাই। আলমারি থেকে একটা জামা বার করে দিয়ে বললাম ‘এটা পরে ফেল।’ এবার ওর মুখ ফুটে কথা বেরোলো, গলাটা ধরা ধরা– ‘না রে, আমাকে এক্ষুনি যেতে হবে। অনেকদিন তোর সাথে দেখা হয়নি, তাই পরীক্ষার জন্য কেমন প্রিপারেশন নিয়েছিস জানতে এলাম।’ –‘ওহ্, তা বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে খবরটা নেওয়ার খুব দরকার ছিল কি? পরেও তো নেওয়া যেত।’
মা রান্নাঘর থেকে এসে দেখলে রহিত ভিজে কাকের মত কাঁপছে। মা বলল,’তা বাবা রোহিত, তুমি এলে তো এই বৃষ্টির দিনে কেন? সেই কবে শেষবার এসেছিলে। রহিত কে কতবার বলেছি তোমাকে যেন আসতে বলে। কিন্তু তুমি তো আর এলে না। তা পরীক্ষার জন্য তৈরি তো?’ –‘এই মোটামুটি মাসিমা’, বলে রোহিত। –‘তুমি দাঁড়িয়ে কেন! বস, তোমার জন্য গরম গরম লুচি দুটো ভেজে আনি?’।
–‘না মাসিমা আমি খাব না, আমার তাড়া আছে, যেতে হবে। পরে অন্য দিন এসে গরম গরম লুচি খেয়ে যাব।’ –‘ঠিক আছে’, বলে মা রান্না ঘরে চলে গেল। আমি আর ওকে থাকার জন্য জোর করলাম না। সামনে পরীক্ষা, তার মধ্যে ভিজে রয়েছে।
দরজাটা এখনো খোলা, ঠান্ডা হওয়া ঘরে এসে ঢুকছে। রহিতকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিতে এসে মনের মধ্যে কৌতূহল জাগল। জিজ্ঞেস করলাম, ‘তোর হাতটা কাটল কীভাবে?’ ও বলল,’অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে, আমার বাইকের সাথে লরির।
–‘তোর বাইকটা এখন কোথায়?’ –‘ওখানেই পড়ে আছে হয়তো।’
–‘তার মানে তুই সেটা আনিস নি!’
সে আমার দিকে তাকিয়ে হাসল, তারপর ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যে দৌড় দিল। আমার বাড়ি থেকে ওর বাড়ি মিনিট ত্রিশের দূরত্ব। কয়েক সেকেন্ডে ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে সে মিলিয়ে গেল। আমি দরজা বন্ধ করে ঘরের ভিতরে ফিরে এলাম।

মনে মনে ভাবছি ও আগাগোড়াই এরকম কেয়ারলেস, একবার বাইক চালাতে গিয়ে পকেট থেকে ফোনটাই পড়ে গেল, ওর কোন মালুম নেই! চেয়ারে বসে উল্টানো বইটা সোজা করে ধরলাম। চোখে পরলো মেঝেতে রক্তের ফোঁটা। সেটা মুছতে যাব এমন সময় টেলিফোনটা বেজে উঠল। ফোন ধরে বুঝলাম রহিতের দাদা ফোন করেছে, তার গলার স্বর কেমন চাপা। সে যা শোনালো তাতে আমার সমস্ত শরীরের রক্ত বরফের মত জমাট বাঁধতে শুরু করল। পিঠের শিড়দাঁড়ায় বিন্দু বিন্দু ঘাম জমতে শুরু করল। বুঝলাম হাত কাঁপছে!

রহিত বাইক নিয়ে সন্ধ্যার সময় এক্সিডেন্ট করে। মাথার পিছনে প্রচন্ড আঘাত লাগার কারণে অনস্পটেই মারা যায়। তার মৃত শরীর পোস্টমর্টেমের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রহিতের দাদা সেখান থেকেই ফোন করেছে আমায়।
কি বলছে রহিতের দাদা! এইমাত্র সে আমার বাড়ি থেকে বেরোল। তাহলে আমি কি এতক্ষণ একটা মৃত শরীরের সাথে কথা বললাম! রিসিভারটা এখনো আমার কানে। ওদিক থেকে কোনও শব্দ নেই, মেঝেতে রক্তের ফোঁটাটা এখনো টাটকা। ঝোড়ো হাওয়ার এক ঝটকাতে ঘরের দরজাটা খুলে গিয়ে সমস্ত ঘরটা দমকা হাওয়া ওলট-পালট করছে। এর মধ্যে ফুটে উঠল এক অদ্ভুত রহস‍্যময় হাসি! ভয়ংকর সেই হাসি হাসতে হাসতে কে অনবরত বলে চলেছে, ‘আমি জিতেছি, আমি জিতেছি।’
এই একই শব্দ আমার চারপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। আর ওই হাসি আমাকে পাগল করে তুলছে! বাধ্য হয়ে কানে হাত চাপা দিলাম। মনে হল এ হাসি আমার পরিচিত। এ যে রহিত! রহিতেরই হাসি! ভাবতে চেষ্টা করলাম রোহিত কীসের জন্য এমন কথা বলছে। সে কীসের জন্য হাসছে? জিতেছেই বা কী কারণে?
মুহূর্তে চোখের সামনে ভেসে উঠলো সেই দিনটার কথা। মাস ছয়েক আগে একদিন কলেজে আমার সাথে রোহিতের তর্ক হয়। ওর ধারণা, যাদের অপঘাতে মৃত্যু হয় তারা নাকি অশরীরী। কিন্তু আমি মানতে চাইনি। আমার মতে অশরীরী বলে কিছুই হয় না, সব কিছুই আমাদের মনের ভুল। মনে করলে আছে, আবার মনে না করলে নেই। কিন্ত রোহিত সেটা মানেনি। তাই কি আজ রোহিত প্রমাণ করে দিয়ে গেল অশরীরী সত্যিই আছে!

Featured

পশ্চিমবঙ্গের জন্মদিবস যৌথ উদ্যোগে পালন করল আগামী কলরব এবং তালিম একাডেমি

ঋদ্ধিমান রায়, আগামী কলরব: পিতা হলেন পরিবারের পালনকর্তা। তাই, পিতার ঋণ স্বীকার করা প্রত্যেকের কাছেই পবিত্র কর্তব্য। আমাদের পশ্চিমবঙ্গবাসীর তথা হিন্দু বাঙালি জাতির পিতা অবশ্যই স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের কৃতি পুত্র ভারতকেশরী ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। দুঃখের বিষয়, আমরা বহু বাঙালি আজও তাঁর আত্মত্যাগ সম্পর্কে বিস্মৃত। আমাদেরই এক অংশ তাঁকে সঙ্কীর্ণ রাজনীতির পাঁকে তুলে এনে তাঁর দিকে নির্মম ভাবে কাদা ছুঁড়তে উদ্যত! কিন্তু ইতিহাস এই মনীষীর মহানতাকে সাক্ষী রেখে চলেছে। দেশ ভাগের প্রাক্কালে যখন ভারত-পাক ভৌগোলিক বিভাজন নিয়ে রীতিমত দর কষাকষি চলেছে, সেই সময় জিন্নার ধূর্ত কৌশলে তৈরি হচ্ছে অবিভক্ত বাংলাকে পাকিস্তানভুক্ত করার ব্লুপ্রিন্ট! জিন্নার এই শয়তানি সেদিন সারা দেশে একমাত্র ধরতে পেরেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। তিনিই একমাত্র বুঝেছিলেন বাংলা পাকিস্তানভুক্ত হলে হিন্দু বাঙালির অস্তিত্ব ধ্বংস হবেই। শেষ প্রহরে ৪৭ এর ২০জুন প্রায় একার চেষ্টায় হিন্দু-অধ্যুষিত পশ্চিমবঙ্গকে জিন্না তথা পাকিস্তানের করাল গ্রাস থেকে ছিনিয়ে আনেন শ্যামাপ্রসাদ। সমগ্র পৃথিবী সেদিন শুনেছিল ভারতকেশরীর দর্প ভরা হুঙ্কার– জিন্না ভারত ভাগ করেছে, আমি পাকিস্তান ভাগ করলাম!
সেদিন নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায় হিন্দু বাঙালি জাতি। আজ বাংলাদেশ থেকে ক্রমশই বিলুপ্তির পথে হিন্দু– যা প্রমাণ করে ভারতকেশরীর দূরদর্শিতা। আর আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমরা পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা তাঁকে অস্বীকার করার অর্থই নিজের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা!
পশ্চিমবঙ্গ শুধুমাত্র ভারত নয়, পৃথিবীর প্রত্যেক হিন্দু বাঙালির একমাত্র আশ্রয়স্থল। ঋষি বঙ্কিম-স্বামীজি-শ্রী অরবিন্দ থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ, নেতাজী, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় প্রমুখ অজস্র মনীষীর আদর্শ-চিন্তনের স্পর্শে গঠিত বঙ্গের এই যে রত্তি অংশটুকু ড শ্যামাপ্রসাদ আমাদের বেঁচে থাকার জন্য রেখে দিয়ে গেছেন, এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আজ আমাদেরই। বাঙালির সনাতন সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ইতিহাস ইত্যাদি সমস্ত কিছুকে যদি আমরা আমাদের জীবন-মননের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রাখতে না পারি, তাহলে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মসহ আত্মবিস্মৃতির অন্ধকারে তলিয়ে যাব। সেদিন আমাদের এই একমাত্র নিরাপদ বাসস্থানটুকুও হাতছাড়া হওয়া শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা হয়ে দাঁড়াবে!

এখন আপনার প্রিয় আগামী কলরব এসে গেল ইউটিউব চ্যানেলেও! খুব শীঘ্রই আমরা আপনার জন্য আনতে চলেছি আকর্ষণীয় সব অনুষ্ঠান। নীচের লিঙ্কে গিয়ে এখনই সাবস্ক্রাইব করে রাখুন অনুষ্ঠানের আপডেট পেতে🙏

পশ্চিমবঙ্গের জন্মদিনটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যৌথ ভাবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিল ‘তালিম একাডেমি‘ এবং ‘আগামী কলরব’ ব্লগ। এই দুটি বন্ধুপ্রতিম সংস্থার সাংস্কৃতিক নিবেদন “বঙ্গজ” এবার মূলত আমাদের প্রাণের ঠাকুর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শ্রদ্ধা জানিয়ে উপস্থাপিত করা হল। অনুষ্ঠানটিতে প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের পাশাপাশি বহু উদীয়মান শিল্পী অংশগ্রহণ করেছেন। বাঙালি জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের জন্মদিন উপলক্ষ্যে নিবেদিত “বঙ্গজ” অনুষ্ঠানটি প্রত্যেক বাঙালির হৃদয়ে আত্মপ্রতিষ্ঠার বাসনা সঞ্চার করুক, এই আশা রাখি। দুই পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানটি দেখতে এবার সরাসরি প্রবেশ করুন ‘আগামী কলরব’ এর ইউটিউব চ্যানেলে। লিঙ্ক দেওয়া হল–

বঙ্গজ (পর্ব- ১)
বঙ্গজ (পর্ব- ২)
Featured

প্ল্যানচেট (অলৌকিক গল্প)

দিব্যায়ন পাল, আগামী কলরব: রক্তিম এবং সুশান্ত খুব ভালো বন্ধু, একসাথেই ছোট থেকে বড় হয়েছে। এক স্কুল-কলেজে পড়েছে।
কলেজে পড়াকালীন রক্তিম অকস্মাৎ গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায়। তারপর থেকেই সুশান্ত একা, কোনোদিন ভাবেনি তাকে তার প্রিয় বন্ধুকে ছাড়াই থাকতে হবে।

একদিন সে তার এক পুরোনো বন্ধু রাজদীপ এর কাছে জানল সে পরলোকতত্ত্ব বিষয়ে চর্চা করে। পরলোক জগতের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে সক্ষম হয় সে। সুশান্ত তাকে বলে সে একবার রক্তিম এর সাথে কথা বলতে চায়। রাজদীপ সুশান্তর কথা শুনে রাজি হল, কিন্তু সতর্ক করল তার কথা শুনে কাজ করতে হবে। সুশান্ত যদি কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নেয় নিজেই অসুবিধায় পড়বে। প্ল্যানচেট চলাকালীন অনেকক্ষণ ধরে কিছু না হওয়ায় রাজদীপ সুশান্তকে বলে যদি রক্তিম এর আত্মার আসার ইচ্ছা হত, ত সে এতক্ষণে চলে আসত।

সুশান্ত হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে আসে। রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে সময়মত।

মধ্যরাতে হঠাৎ করে সুশান্তের ঘরে ঠান্ডা হাওয়া ঢুকতে লাগল। একে শীতকাল, তারপর ঠান্ডা হাওয়া! সুশান্তর ঘুম ভেঙে গেল। সে বিছানা থেকে উঠে জানালা বন্ধ করল। কিন্তু তখনই তার মনে পড়ল সে তো জানলা বন্ধ করেই ঘুমিয়েছে! সে ভাবল হাওয়ায় হয়তো কোনোভাবে জানলা খুলে গেছে। সুশান্ত জল খেয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়ল। কয়েক মিনিট সবে– সুশান্তর ঘুমের মধ্যেই মনে হল ওর ঘরের দরজা নিজে থেকে খুলে গিয়ে ঘরের মধ্যে একটি কালো ছায়া প্রবেশ করল। সুশান্তর খাটের সামনে এগিয়ে এল ছায়াটি। ঘুমের মধ্যে অস্বস্তি লাগতে শুরু করল, কিছুক্ষণ পরে তার ঘুম ভেঙে গেল। চোখ খুলেই সুশান্ত সামনে দেখতে পেল কালো ছায়াটিকে। ছায়া তার দিকে জ্বলন্ত চোখে তাকিয়ে আছে। সুশান্ত দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করল, কিন্তু তার পা অসাড় হয়ে গেল। সুশান্ত তার দিকে তাকিয়ে থাকতে পারল না, অজ্ঞান হয়ে গেল।

পরেরদিন অনেক বেলাতেও বাড়ির লোকের ডাকাডাকিতে দরজা না খুললে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পাওয়া গেল সুশান্তের মৃতদেহ। পরে জানা গেল সুশান্তের হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে গিয়ে মৃত্যু হয়। আশ্চর্যের ব্যাপার হল, সুশান্তর কোনোরকম হার্টজনিত রোগই ছিল না!

কিন্তু প্রশ্ন হল, গতরাতে আদতেই রক্তিমের আত্মা এসেছিল, না কি অন্য কোনো অশুভ আত্মা?

Featured

ধারাবাহিক রচনা: আমাদের শ্রী অরবিন্দ(পর্ব-৩০)

শ্রী অরবিন্দ ও শ্রীমায়ের জীবনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত এই ধারাবাহিকটি ইতিমধ্যে পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। আমাদের বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠকমণ্ডলীর মধ্যে শ্রী অরবিন্দ ও মায়ের জীবনী নিয়ে চর্চা করেন কিংবা শ্রী অরবিন্দ আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত পাঠকও রয়েছেন নিশ্চয়ই। তাঁদের প্রতি আমাদের বিনম্র আবেদন যে, ধারাবাহিকটি পড়তে পড়তে কোনোরকম তথ্যভিত্তিক ত্রুটি চোখে পড়লে অনুগ্রহ করে তৎক্ষণাৎ আমাদের দপ্তরে যোগাযোগ করুন, অথবা লেখার শেষে
কমেন্টেও জানাতে পারেন। এছাড়া লেখার নীচে দেওয়া লেখকের ফোন নম্বরে সরাসরি করতে পারেন যোগাযোগ। আমরা ত্রুটি মেরামতে সদা সচেষ্ট। –সম্পাদক

শ্রী অরবিন্দের পূর্ণ যোগের উদ্দেশ্য

মুকুল কুমার সাহা: ভারতের প্রাচীন ঋষিরা তাঁদের অভিজ্ঞতালব্ধ অধ্যাত্মজ্ঞান মানবজাতিকে বিতরণ করেছেন। শ্রী অরবিন্দ সেই বিপুল অধ্যাত্মজ্ঞানের বিভিন্নতা থেকে শিক্ষাগ্রহণ করেছেন। তিনি মানবজাতিকে ভগবান সম্বন্ধে, মহাপ্রকৃতি সম্বন্ধে যে শিক্ষা দান করেছেন; মানুষী ব্যষ্টি চেতনার সঙ্গে দিব্য চেতনার সম্বন্ধ স্থাপন করতে যে যোগ পন্থার পথ দেখিয়েছেন তা হল–

বিশ্বে যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে এই সমস্ত কিছু সৃষ্টির পশ্চাতে রয়েছেন ভগবান বা ভগবতী জননীর মহাচেতনা; আবার সকল সৃষ্টির ভিতরে তিনিই রয়েছেন এক অভিন্ন আত্মা রূপে। সকল সত্তা(ব্যক্তিরূপ) এই অভিন্ন আত্মার মধ্যে মিলিত। কিন্তু ভগবতী জননী তাঁর চেতনার বিভিন্নতা দিয়ে সকলকে স্বতন্ত্র রূপে বিভক্ত করেছেন। স্বতন্ত্র দেহ-প্রাণ ও মনের অজ্ঞানতা নিয়ে ঊর্ধ্বের এই আদি অনন্ত ভগবান বা সকলের ভিতরের মহান আত্মা সম্বন্ধে প্রায় সকলেই অজ্ঞ। মনস্তাত্ত্বিক যোগসাধনা দ্বারা এই স্বতন্ত্রতা ও অজ্ঞানতার আড়াল ঘুঁচিয়ে সকলের ভিতরের মহান আত্মা এবং ঊর্ধ্বের ভগবান ও ভগবতী জননীর সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করা যায়।

শ্রী অরবিন্দ বলেছেন ভগবান বা ভগবতী জননীর চেতনা এখানে এই জড়ের মধ্যেও সুপ্ত হয়ে রয়েছেন। বিবর্তন ক্রিয়ার দ্বারা তিনি নিজেকে ধীরে ধীরে উন্মোচিত করছেন। প্রথমে জড় নিশ্চেতন, এই নিশ্চেতন জড়ের মধ্যে চেতনা স্ফূরিত হয়েছে দীর্ঘকাল সময় পার করে। এই চেতনামুক্তির প্রথম ধাপ জীবনের বিকাশ। দ্বিতীয় ধাপ মনের বিকাশ(আশ্রম সাধক নলিনীকান্ত গুপ্ত তাঁর ‘চেতনার অবতরণ’ পর্বে এ সম্বন্ধে বিশদে ব্যাখ্যা করেছেন, যা আমরা পূর্বে আলোচনা করেছি)। মন পর্যন্ত এসেই বিবর্তন থেমে থাকবে না, এর চেয়েও বড় রকমের আধ্যাত্মিক ও অতিমানসিক চেতনা বিকাশের জন্য বিবর্তনের পরবর্তী ধাপ অপেক্ষা করছে। পরবর্তী ধাপে ভগবানের অতিমানস শক্তি পৃথিবীতে নেমে এসে এখানেই পশু মানবকে দিব্য মানবে পরিণত করবে। (শ্রী অরবিন্দ এক জায়গায় বলেছেন– অতিমানস সম্বন্ধে জ্ঞান আমি সরাসরি পেয়েছি, ধার করা নয়, তবে পরবর্তীকালে আমি বেদে ও উপনিষদে এর সঙ্গে কিছু কিছু মিল পেয়েছি)।

আগেকার ধাপগুলিতে উদ্ভিদ, পশু ও মানব সৃষ্টিতে তাদের চেতন ইচ্ছার অভাবে প্রকৃতিই বিবর্তনের ভার নিয়েছিলেন। মানুষের বেলাতে মানুষকেই যন্ত্র স্বরূপ করে তার চেতন ইচ্ছার মাধ্যমে মহাপ্রকৃতি এই কাজ করতে সক্ষম হবেন। মানুষের তরফে যে সাধনা করতে হবে, যে যোগ করতে হবে, শ্রী অরবিন্দ সেই যোগের নাম দিয়েছেন পূর্ণ যোগ। পূর্ণ যোগের উদ্দেশ্য এই পৃথিবীতেই মানুষ পূর্ণতা পাবে, পৃথিবীতেই দিব্য জীবনের সূচনা হবে। পৃথিবীই হয়ে উঠবে পরমের পরম আনন্দময় ধাম।

শ্রী অরবিন্দ তাঁর বাংলা লেখায় পূর্ণ যোগের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে নিজে যা লিখেছেন সেগুলোই তুলে দেওয়া হল–

“পূর্ণযোগের পন্থায় পদার্পণ করিয়াছ, পূর্ণ যোগের অর্থ ও উদ্দেশ্য কী তাহাই একবার তলাইয়া দেখিয়া অগ্রসর হও। সিদ্ধির উচ্চ শিখরে আরূঢ় হইবার মহৎ আকাঙ্ক্ষা যাহার, তাহার দুটিকথা সম্যক জানা প্রয়োজন, উদ্দেশ্য ও পন্থা। পন্থার কথা পরে বলিব, আগে উদ্দেশ্যের পূর্ণ চিত্র তোমাদের চোখের সামনে পূর্ণভাবে দৃঢ়রেখায় ফলান দরকার।

পূর্ণতার অর্থ কী? পূর্ণতা ভাগবতসত্তার স্বরূপ, ভগবতী প্রকৃতির ধর্ম। মানুষ অপূর্ণ, পূর্ণতার প্রয়াসী, পূর্ণতার দিকে ক্রমবিকাশ, আত্মার ক্রম অভিব্যক্তির ধারায় অগ্রসর। পূর্ণতা তাহার গন্তব্যস্থান, মানুষ ভগবানের একটি অর্ধবিকশিত রূপ সেই জন্য সে ভাগবত পূর্ণতার পথিক। এই মানুষ রূপ মুকুলে ভাগবত-পদ্মে পূর্ণতা লুক্কায়িত, তাহা ক্রমে ক্রমে আস্তে আস্তে প্রকৃতি ফুটাইতে সচেষ্ট আছে। যোগ-অভ্যাসে যোগশক্তিতে সে মহাবেগে তড়িৎ বিকাশে ফুটিতে আরম্ভ করে। লোকে যাহাকে পূর্ণ মনুষ্যত্ব বলে, মানসিক উন্নতি, নৈতিক সাধুতা, চিত্তবৃত্তির ললিত বিকাশ, চরিত্রের তেজ, প্রাণের বল, দৈহিক স্বাস্থ্য, সে ভাগবত পূর্ণতা নয়। সে প্রকৃতির একটি খণ্ড-ধর্মের পূর্ণতা। আত্মার পূর্ণতায়, মানসাতীত বিজ্ঞানশক্তির পূর্ণতায় প্রকৃত অখণ্ড পূর্ণতা আসে। কারণ, অখণ্ড আত্মাই আসল পুরুষ, মানুষের মানসিক প্রাণিক ও দৈহিক পুরুষত্ব তাহার একটি খণ্ড বিকাশ মাত্র। আর মনের বিকাশ বিজ্ঞানের একটি খণ্ড বাহ্যিক বিকৃত খেলা, মনের প্রকৃত পূর্ণতা আসে যখন সে বিজ্ঞানে পরিণত হয়। অখণ্ড আত্মা জগৎকে বিজ্ঞানশক্তি দ্বারা সৃজন করিয়া নিয়ন্ত্রিত করে, বিজ্ঞান শক্তির দ্বারা খণ্ডকে অখণ্ডে তুলিয়া দেয়। আত্মা মানুষের মধ্যে মানসরূপ পর্দায় লুক্কায়িত রহিয়াছে, পর্দা সরাইয়া আত্মার স্বরূপ দেখা দেয়। আত্মশক্তি মনে খর্ব্বাকৃত অর্ধপ্রকাশিত, অর্ধ লুক্কায়িত রূপ ও ক্রীড়া অনুভব করে, বিজ্ঞানশক্তি যখন খুলে তখনই আত্মশক্তির পূর্ণ স্ফূরণ।।”

(একত্রিংশ পর্ব আগামী রবিবার)

লেখকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন- 8584063724

২৯ম পর্বটি পড়তে ক্লিক করুন-https://agamikalarab.com/2020/06/09

Featured

রেলের আংশিক বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে শিয়ালদা স্টেশনে অবস্থান বিক্ষোভ বিএমএস সমর্থিত শ্রমিক সংগঠনের

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগামী কলরব: কেন্দ্রীয় সরকারের রেলের আংশিক বেসরকারিকরণের ভাবনাচিন্তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনগুলি আন্দোলন শুরু করেছে। বিগত তিন মাস লক ডাউনের কড়াকড়ির মধ্যে জমায়েত ও আন্দোলন পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না। কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাজ্যগুলি আন লক পর্বে বেশ কিছু বিধি নিষেধ শিথিল করায় গত ১০ই জুন রেলের এই বেসরকারিকরণের ভাবনার বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অবস্থান বিক্ষোভের আয়োজন করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ শ্রমিক সংগঠন ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ।
সমগ্র দেশের পাশাপাশি কলকাতায় শিয়ালদা স্টেশনেও যথাযথ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ স্বীকৃত সংগঠন পূর্ব রেলওয়ে কর্মচারী সংঘের নেতৃত্বে দুটি পৃথক অবস্থান বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়।
আনুষ্ঠানিক ভাবে আয়োজিত এই অবস্থান বিক্ষোভে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা শিক্ষাবিদ চন্দ্রচূড় গোস্বামী এবং রাজ্য বিএমএস প্রতিনিধি অশোক কুমার সাউ।
চন্দ্রচূড় গোস্বামী তাঁর বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সরকার ও ভারতীয় মজদুর সংঘকে রেল কর্মীদের স্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থ উভয় দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনুরোধ জানান। সরকার ও শ্রমিক সংগঠনগুলিকে বর্তমান পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাটির সমাধানের পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। এর পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব সুষ্ঠু ভাবে বজায় রেখে সমাবেশটির আয়োজন করায় আয়োজকদের শুভেচ্ছাও জানান চন্দ্রচূড় গোস্বামী।
অন্যদিকে, অশোক কুমার সাউ পূর্ব রেলওয়ে কর্মচারী সংঘের শিয়ালদা বিভাগের সভাপতি আর.কে পাঠককে সমাবেশটি আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ভারতীয় মজদুর সংঘের পশ্চিমবঙ্গ শাখার পক্ষ থেকে রেলকর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় পূর্ব রেলওয়ে কর্মচারী সংঘকে সবরকম ভাবে সাহায্যের আশ্বাস দেন।

Featured

ধারাবাহিক রচনা: আমাদের শ্রী অরবিন্দ(পর্ব-২৯)

শ্রী অরবিন্দ ও শ্রীমায়ের জীবনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত এই ধারাবাহিকটি ইতিমধ্যে পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। আমাদের বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠকমণ্ডলীর মধ্যে শ্রী অরবিন্দ ও মায়ের জীবনী নিয়ে চর্চা করেন কিংবা শ্রী অরবিন্দ আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত পাঠকও রয়েছেন নিশ্চয়ই। তাঁদের প্রতি আমাদের বিনম্র আবেদন যে, ধারাবাহিকটি পড়তে পড়তে কোনোরকম তথ্যভিত্তিক ত্রুটি চোখে পড়লে অনুগ্রহ করে তৎক্ষণাৎ আমাদের দপ্তরে যোগাযোগ করুন, অথবা লেখার শেষে কমেন্টেও জানাতে পারেন। এছাড়া লেখার নীচে দেওয়া লেখকের ফোন নম্বরে সরাসরি করতে পারেন যোগাযোগ। আমরা ত্রুটি মেরামতে সদা সচেষ্ট। –সম্পাদক

যোগ সাধনার উদ্দেশ্য

মুকুল কুমার সাহা: আমরা আগের পর্বে যোগ কী, সেই বিষয়ে আলোচনা করছিলাম। স্বাভাবিক ভাবেই ভগবান প্রসঙ্গ এসে পড়েছে আমাদের আলোচনায়। ‘চেতনার অবতরণ পর্ব’ পড়ে আমরা জেনেছি, সচ্চিদানন্দ (ব্রহ্ম) কেবলই সৎ-চিৎ-আনন্দের সমষ্টি, নিরাকার নিরাবয়ব নৈর্ব্যক্তিক স্রোত নয়। তারা হল আবার সাকার সাবয়ব সূক্ষ্ম ব্যক্তিরূপী শক্তি। সচ্চিদানন্দের ব্যক্তিরূপকে বলা হয় সচ্চিদানন্দময় ও সচ্চিদানন্দময়ী (পুরুষোত্তম ও পরা শক্তি, ভগবান-ভগবতী)। যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে পরা শক্তির বা ভগবতী জননীর ইচ্ছায়, ভগবান বা পুরুষোত্তম তাঁর সৃষ্টিতে সমর্থন দিয়ে চলেছেন। ভগবান-ভগবতী জননী যে কী তা মানুষের কাছে অজ্ঞেয়। পন্ডিচেরীর শ্রী অরবিন্দ আশ্রমে একদিন এক শিশু শ্রীমার ক্লাসে শ্রীমাকেই জিজ্ঞাসা করেছিল,”মা, ভগবান কী?” উত্তরে শ্রীমা বলেছিলেন,“তুমি প্রশ্ন করতে পারো, কিন্তু উত্তর আশা কোরো না।” এর থেকেই বোঝা যায় ভগবান-ভগবতী জননীর ব্যক্তিরূপ যে কী, তা মানুষ ধারণা করতে সক্ষম নয়।

আমরা জেনেছি মানুষের সঙ্গে ভগবানের মিলনকেই যোগ বলে। হিন্দু সনাতন ধর্মে অসংখ্য প্রকার যোগের কথা উল্লেখ করা আছে, যেমন– সাংখ্য যোগ, ক্রিয়া যোগ, লয় যোগ, হঠ যোগ, রাজ যোগ, কর্ম যোগ, জ্ঞান যোগ, ভক্তি যোগ, ধ্যান যোগ, বিজ্ঞান যোগ, তন্ত্র যোগ, ব্রহ্ম যোগ, বিবেক যোগ, বিভূতি যোগ, প্রকৃতি পুরুষ যোগ, মোক্ষ যোগ, পুরুষোত্তম যোগ, রাজধিরাজ যোগ প্রভৃতি। ভারতের অন্যান্য ধর্মে ভগবানের সঙ্গে মিলনের যে পদ্ধতি তাকে তাঁদের মহাপুরুষেরা কী বলেছেন সে সম্পর্কে আমার বিস্তারিত জানা নেই।

শ্রী অরবিন্দ মানব জাতিকে যে যোগ দিয়েছেন তার নামকরণ করেছেন পূর্ণ যোগ।

এখন মনে প্রশ্ন জাগবে মানুষ ‘যোগ’ করে কেন? এর উদ্দেশ্য কী?

আমরা ‘চেতনার অবতরণ পর্ব’ পড়ে জানতে পেরেছি পূর্ণ ভগবানের আংশিক প্রকাশকে বলে জীবাত্মা। এই জীবাত্মারা ঊর্ধ্ব প্রকৃতিতে অবস্থান করেন, যাকে পরা প্রকৃতি বলা হয়। ওই জীবাত্মা থেকে আসা ক্ষুদ্র একটু অংশ মানবশরীরে অবস্থান করে, যে মানবশরীর ভগবানের নিম্ন প্রকৃতির বা অপরা প্রকৃতি থেকে সৃষ্টি হয়েছে। জীবাত্মার ক্ষুদ্র অংশকে বলা হয় অন্তরাত্মা, হৃদপুরুষ, জীব এবং শ্রী অরবিন্দ যার নাম দিয়েছেন চৈত্য সত্তা।

এই অন্তরাত্মা বা চৈত্য পুরুষ জন্ম-জন্মান্তর পার হয়ে, দুঃখ ও সুখের, তিক্ত ও মধুর যাবতীয় অভিজ্ঞতার সহায়ে তার চেতনাকে ক্রমেই বৃহত্তর বিপুলতর করে চলে। অন্তরাত্মা পূর্ণতা পাওয়ার পর সে এই অপরা প্রকৃতির জীবন চক্র আর পছন্দ করে না। সে ঠিক করে এই জীবনে এই শরীরেই সে প্রকট হবে। তখনই তার যোগসাধনার অধিকার জন্মায়।

শ্রী অরবিন্দের আগে পর্যন্ত যোগ সাধনার দুটি উদ্দেশ্য ছিল। ঋষিদের ও শ্রী অরবিন্দের লেখা থেকে জানা যায় দুটি গোলার্ধের(Hemisphere) কথা। উপরেরটা ব্রহ্মের বা ভগবানের সধাম বা দিব্য জগৎ, সেগুলি পরা প্রকৃতির অন্তর্গত। সেখানে সগুণ ও নির্গুণ অবস্থায় ভগবানের নানা রূপ, নানা চেতনা যুগপৎ বর্তমান আছে। বৈষ্ণব শাস্ত্র পড়লে এই চিন্ময় জগৎগুলির সম্পর্কে কিছু কিছু জানা যায়। বৈষ্ণবেরা বলেন– সেই জগতে সেখানকার কোনো কিছুই ধ্বংস হয় না বা নষ্ট হয় না, সেখানকার সব কিছুই পরম আনন্দময়।

শ্রী অরবিন্দের আগের যুগে যোগ সাধনার দুটি উদ্দেশ্য ছিল–১. অন্তরাত্মা বা চৈত্য সত্তা সাধন বলে নিজেকে একেবারে মুছে ফেলে ভগবানের সহিত পূর্ণ রূপে এক হয়ে যাওয়া। এই সাধনায় সিদ্ধি লাভ হলে সাধকের পৃথক অস্তিত্ব আর থাকে না, সৃষ্টির পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়।
২. অন্তরাত্মা ভগবানের সঙ্গে মিলিত হয়ে নিজের অস্তিত্ব বজায় রেখে ওইসব উচ্চতর গোলার্ধে ভগবানের নিত্যলীলায় অংশগ্রহণ করতে পারে।

শ্রী অরবিন্দের পূর্ণ যোগের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে পরের পর্বে আলোচনা করা হবে।

(ত্রিংশ পর্ব আগামী রবিবার)

লেখকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন- 8584063724

২৮ম পর্বটি পড়তে ক্লিক করুন- https://agamikalarab.com/2020/06/02

Featured

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে ৫০০০ আম গাছের চারা রোপণ করা হল বিষ্ণুপুর বিধানসভা অঞ্চলে

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগামী কলরব: বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষ সংরক্ষণ ও রোপণের ছবি দেখা গেল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিভিন্ন জায়গায়। আজ ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ সুপার ডক্টর ভোলানাথ পান্ডে ও বিষ্ণুপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল যৌথ উদ্যোগে ৫০০০ আম গাছের চারা বসান । বিধায়ক জানান তিনি তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটি গ্রাম, জেলা, সমিতি, গ্রাম পঞ্চায়েত, প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় গাছ রোপণ করবেন এবং কর্মী-সমর্থকদের অনুরোধ করবেন যাতে তারাও প্রচুর গাছ লাগান। আমফান ঝড়ে প্রকৃতির যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ করার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে বেশি বেশি করে বৃক্ষরোপণের আর্জি জানান তিনি। এছাড়াও ডায়মন্ডহারবার জেলা পুলিশ সুপার ভোলানাথ পান্ডে বলেন,’ আমি আমার জেলা পুলিশের অন্তর্গত সমস্ত থানা গুলিকে অনুরোধ করে বলেছি যে প্রতিটি থানা এরিয়ার এলাকায় বৃক্ষরোপণ করতে।’ পাশাপাশি, তিনি আর বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল আজ আমগাছিয়া ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ সুপার অফিসের বাগানে আম গাছ বসিয়ে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর শুরু করেন। অনুষ্ঠানে দিলীপ মণ্ডল দাবি করেন– ১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়কের ধার ধরে থাকা প্রায় ১০০ বছরের পুরনো গাছগুলি আমফান ঝড়ে হেলে পড়লেও সেগুলি পুনরায় খাড়া করে দেওয়া যেত। কিন্তু কিছু অসাধু লোকজন সেগুলি কেটে নিয়ে যায়। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তিনি গাছ সংরক্ষণের আবশ্যিকতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

Featured

ধারাবাহিক রচনা: আমাদের শ্রী অরবিন্দ(পর্ব-২৮)

শ্রী অরবিন্দ ও শ্রীমায়ের জীবনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত এই ধারাবাহিকটি ইতিমধ্যে পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। আমাদের বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠকমণ্ডলীর মধ্যে শ্রী অরবিন্দ ও মায়ের জীবনী নিয়ে চর্চা করেন কিংবা শ্রী অরবিন্দ আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত পাঠকও রয়েছেন নিশ্চয়ই। তাঁদের প্রতি আমাদের বিনম্র আবেদন যে, ধারাবাহিকটি পড়তে পড়তে কোনোরকম তথ্যভিত্তিক ত্রুটি চোখে পড়লে অনুগ্রহ করে তৎক্ষণাৎ আমাদের দপ্তরে যোগাযোগ করুন, অথবা লেখার শেষে কমেন্টেও জানাতে পারেন। এছাড়া লেখার নীচে দেওয়া লেখকের ফোন নম্বরে সরাসরি করতে পারেন যোগাযোগ। আমরা ত্রুটি মেরামতে সদা সচেষ্ট। –সম্পাদক

যোগে বিভিন্ন রূপে ভগবান

মুকুল কুমার সাহা: আমরা আমাদের শ্রী অরবিন্দকে জানবার চেষ্টা করছি। আগের পর্বগুলি পড়ে মনে হতে পারে, শ্রী অরবিন্দ কী কী বলেছেন আমরা তো এখন কিছুই জানতে পারছি না। এর উত্তরে জানাই, শ্রী অরবিন্দ যোগের সাধকরা যা যা লিখেছেন সবই শ্রী অরবিন্দের ও শ্রীমার আলোকে পাওয়া। তা ছাড়া, একদিন আশ্রম সাধক নিরোদবরণকে তাঁর যে কোনো একটা প্রশ্নের উত্তরে শ্রী অরবিন্দ বলেছিলেন,”এগুলো তো যোগের গোড়াকার কথা এসব তুমি জানো না? না বাবু, আমি যোগের অ আ ক খ তোমাকে শেখাতে পারব না।”

আমরা সাধারণ মানুষ যোগ কী তাই হয়ত ভালো করে জানি না, সেই জন্য শ্রী অরবিন্দকে জানবার আগে এবং তাঁর যোগ কী সেটা জানবার আগে প্রথমে তার সাধকদের লেখা থেকে বোঝবার চেষ্টা করছি।

আমরা আশ্রমসাধক নলিনীকান্ত গুপ্তের লেখা পড়ে জানতে পেরেছি মানুষ সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে, তারপর জেনেছি আমাদের চৈত্য সত্তাকে, সব শেষে জেনেছি চৈত্য সত্তাকে পূর্ণতা পেতে হলে অনেক জন্ম-জন্মান্তরের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এখন আমরা জানার চেষ্টা করব যোগ সাধনা সম্পর্কে। উপনিষদ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যোগ সাধনার যোগ্যতা সকলের থাকে না। ইচ্ছা করলেই এ জীবন গ্রহণ করা যায় না। উপনিষদের ঋষি স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেছেন, “ন্যায়মাত্মা বলহীনেন লভ্যঃ“(দুর্বলের অধ্যাত্ম সাধনা বিড়ম্বনা)। আমাদের সকলের হয়ত যোগ সাধনা করবার মত যোগ্যতা নেই, কিন্তু যোগ কী এটা জানতে তো কোনো দোষ নেই, অন্তত পক্ষে যাদের মনে এ সম্বন্ধে একটুও কৌতূহল জেগেছে। তাই আমরা ‘যোগ’ কী এখন সেটা জানার চেষ্টা করছি। পরে, আমরা জানতে চেষ্টা করব বিভিন্ন ধরণের যোগ সম্পর্কে, সব শেষে জানব শ্রী অরবিন্দের পূর্ণ যোগ কী।

আগেও বলেছি এখনো বলছি, যোগ কী এই ব্যাপারে জানতে আশ্রমসাধক নলিনীকান্ত গুপ্তের রচনাবলীর অষ্টম খণ্ডের উপর নির্ভর করেই আমি লিখতে চেষ্টা করছি। আমার লেখার উদ্দেশ্য হচ্ছে ভীষণ কঠিন জিনিসকে সহজ করে সকলকে জানাতে চেষ্টা করা। জানি না আমার পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব কী না?

অধ্যাত্মজ্ঞানীরা বলেন– মানুষের সঙ্গে ভগবানের মিলনকেই যোগ বলে। এখন মনে প্রশ্ন জাগবে, মানুষের ব্যাপারটা না হয় বুঝলাম, কিন্তু ভগবান কী? মহাপুরুষেরা বলছেন, মানুষ হতে উচ্চতর বৃহত্তর একটা কিছু জাগ্রত সত্য-চৈতন্য ও আনন্দকে বুঝে নিয়ে শুরু করলেই যথেষ্ট হবে।

শ্রী রামকৃষ্ণ দেবের একটা সহজ সরল কথা, “ব্রহ্ম যে কী, তা মুখে বলা যায় না।” তাঁর কথা থেকেই বোঝা যায় ভগবানকে মন বুদ্ধি দিয়ে বোঝা সম্ভব নয়।

এখন মনে প্রশ্ন জাগবে, বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে ভগবান সম্বন্ধে, ভগবানের রূপ সম্পর্কে বিভিন্ন ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। কোনো ধর্মগ্রন্থে ভগবানকে শুধুই নিরাকার বলা হয়েছে। কোনো ধর্মগ্রন্থে ভগবানকে সাকার সত্তা রূপে বর্ণনা করা হয়েছে। আবার কোনো কোনো ধর্মগ্রন্থে ভগবানকে নিরাকার ও সাকার উভয়ই বলা হয়েছে। কোনটা ঠিক? সৃষ্টির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মানুষের বুদ্ধি যতটা পরিণত হয়েছে তার সাহায্যে আমরা এইটুকু বুঝতে সক্ষম হব হয়ত প্রাচীনকাল থেকে আজ পর্যন্ত যে সব ধর্ম সম্প্রদায় এখনো টিকে রয়েছে, প্রত্যেকটি ধর্মের মধ্যেই সত্য রয়েছে, তা না হলে এই সব ধর্ম সম্প্রদায়গুলোর এতদিন টিকে থাকা কি সম্ভবপর হত!

তা হলে আমরা বেশ বুঝতে পারছি ভগবান কোথাও শুধুই নিরাকার, কোথাও শুধুই সাকার, কোথাও আবার নিরাকার এবং সাকার একইসঙ্গে। পৃথিবীর বিভিন্ন মহাপুরুষেরা ভগবানকে যে যে ভাবে অনুভব করেছেন তাঁরা সেই ভাবেই তাঁকে ব্যক্ত করেছেন। শ্রী রামকৃষ্ণ দেবের ছোট্ট বাক্যটিতে মনোযোগ দিলে এই প্রশ্ন মনে জাগবে ভগবান সাকার হতে পারেন, তিনি নিরাকার হতে পারেন, আবার একসঙ্গে সাকার ও নিরাকার উভয়ই হতে পারেন, আবার তিনি এমন কিছু হতে পারেন যা আমাদের বুদ্ধি ধারণা করতে সক্ষম নয়।

আমাদের বুদ্ধিকে এই রকম শিক্ষা দিলে হয়ত সে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে যে সত্য আছে তা খুঁজে দেখতে সচেষ্ট হবে। তা না হলে নিজেই যেটা ভালো বুঝবে সেটাকেই ঠিক বলে ভাববে, অন্যটাকে ভুল বলতে পিছপা হবে না।

(ঊনত্রিংশ পর্ব আগামী রবিবার)

লেখকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন- 8584063724

২৭ম পর্বটি পড়তে ক্লিক করুন- https://agamikalarab.com/2020/05/26

Featured

করোনা-বিধ্বস্তদের মুখে অন্ন তুলে দিচ্ছে সরশুনার সেলফ ও শ্রাবন্তী কলাকেন্দ্র

তাপস রায়: “যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই”– এই স্লোগানটির সঙ্গে আমরা সকলেই কমবেশি পরিচিত। কিন্ত যুদ্ধ কোথায়? বারুদের গন্ধই বা কই? না, এই যুদ্ধে কামানের গর্জন নেই, নেই পোড়া বারুদের গন্ধ। এ এক শব্দহীন, গন্ধহীন, কোনও এক অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই। শুধু এক বলতে বাঁচার আর্তিটুকু। হ্যাঁ বাঁচা; সুস্থ ভাবে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকা, যার জন্য প্রয়োজন অর্থের। কিন্তু অত্যাবশ্যক এই লকডাউন পরিস্থিতিতে খেটে খাওয়া দিন-মজুর মানুষগুলোর যে আজ পকেট প্রায় ফাঁকা। কোনোমতে একবেলার গ্রাসাচ্ছাদনই এখন তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। তবে অভূতপূর্ব এই পরিস্থিতিতে এইরকম প্রচুর অসহায় মানুষের দুপুরের খাবার তাদের হাতে তুলে দিতে পেরে অপার তৃপ্তি লাভ করছেন সেলফশ্রাবন্তী কলাকেন্দ্রের প্রতিনিধিরা। সরশুনা স্যাটেলাইট টাউনশিপে তাদের নিজেদের কার্য্যালয় থেকে এই পরিষেবাকে নিয়মিত বজায় রাখতে উদ্যোগী এই দুই সংগঠন। আর তাতে উৎসাহ জোগাতে এগিয়ে এসেছেন প্রাক্তন ফুটবলার ভুবন চ্যাটার্জী, গায়ক সনজিৎ মন্ডল, পরিচালক রাজা সেন, শিল্পী শুভম কাঞ্জিলাল, অভিনেতা সুমন কুন্ডু, অর্থনীতিবিদ ডঃ কৌশিক গুপ্ত সহ অন্যান্য বিশিষ্টজন। সেলফ-এর দেবব্রত রায়-এর কথায় উঠে এল যে করোনা নিয়ে ভুবন বাবু-র লেখা গান থামিয়েছে করোনার আতঙ্ক, জাগিয়েছে ক্যান্সার আক্রান্ত প্রৌঢ় সুকুমার মাইতিদের প্রাণ। তাই অসুস্থ সুকুমার বাবুর ইচ্ছাতে তার পরিবার ১২০ জন অসহায় মানুষের জন্য এক বস্তা চাল তুলে দেন সেলফের হাতে। এভাবেই বুঝি নিভে যাওয়া প্রাণ প্রদীপ জ্বলে উঠতে পারে। আলোকিত হতে পারে চারিদিক।

Featured

Savarkar shinning: Cellular Torture to Secular Torture

Gautam Guha, Agami Kalarab: Today 28th May is 137th birth anniversary of great nationalist leader Vinayak Damodar Savarkar. The concocted history of the leftist historians is not enough to discredit the prince of revolutionaries who demanded ‘Purna Swaraj’ when the much celebrated secular icons of India’s Freedom Struggle stood for Home-rule! The great legacy of the Savarkar that survived the ‘cellular torture’ will not surrender to the ‘secular tortue’. Savarkar used the term “Hindutva” to describe “Hinduness” or the “quality of being a Hindu”. Savarkar regarded Hinduism as an ethnic, cultural and political identity. Hindus, according to Savarkar, are those who consider India to be the land in which their ancestors lived, as well as the land in which their religion originated. He advocates the creation of a Hindu state in that sense. Savarkar includes all Indian religions in the term “Hinduism” and outlines his vision of a Hindu Rashtra (Hindu Nation) as “Akhand Bharat” (Undivided India), stretching across the entire Indian subcontinent. He was frequently called:- “We Hindus are bound together not only by the tie of the love we bear to a common fatherland and by the common blood that courses through our veins and keeps our hearts throbbing and our affections warm, but also by the tie of the common homage we pay to our great civilization – our Hindu culture.”

To commemorate this great philosopher, freedom fighter the airport at Port Blair, Andaman and Nicobar’s capital was renamed Veer Savarkar International Airport in 2002. One of the commemorative blue plaques affixed on India House fixed by the Historic Building and Monuments Commission for England reads “Vinayak Damodar Savarkar, 1883–1966, Indian patriot and philosopher lived here”. During and after the emergency, few opportunistic political parties and foot-licker historians have been making propaganda and conspiring to derail Veer Savarkar. But few of Mainstream historians of his time like Jadunath Sarkar considered the historiography of Savarkar as biased and inferior. However, with the advantage of hindsight one can say that the view of history that Savarkar held and the narrative he had woven today stands vindicated by the events of history which have unfolded since then. Savarkar’s conception of the history of India as the struggle for survival of an age-old spiritual civilisation has to be treated as a serious framework for viewing the subject. He was also emphatic about certain vital points. He states in his Hindu Pad Padshahi, that while the historic enmity between Radical Islamist aggression and Hindu resistance should not be projected into current normal Hindu-Muslim relations, the lessons from history, however, should not be forgotten. The lessons from history which he brought to the notice of current Hindu society included the rejection of birth-based varna system and body-based honour of women. Thus, Savarkar quotes Chandragupta Maurya: “More than any of you, nominal caste-born Kshatriyas, who bowed your heads to the Milechas, the Greek emperor and his commanders, I, a ‘peerless’ Chandragupta, have a greater claim to being a Kshatriya in as much as with my sword I have completely vanquished those very Milechas in every battlefield.” In this work, Savarkar considers the caste system and the concept of bodily pollution as well as various food taboos as perversions. For him, these are all impediments in attaining sanghatan or union. In an astonishing parallel in his book ‘Thoughts on Pakistan’ (1941), Dr B R Ambedkar comes to a similar conclusion. Calling the caste system and untouchability as phenomena of social stagnation, he terms appeasement of Radical Islamist aggression as a vice similar to social stagnation. Veer Savarkar’s struggle throughout his life was the result of a complete nationalistic thought which brings taught everyone to be proudly known as an Indian, regardless of any race, language, religion, caste or religion. Savarkar’s theory is very relevant in the current social situation, we should study Savarkar’s theories in order to revive Hinduism and to prevent radicalized jihadist mentality.

Featured

ধারাবাহিক রচনা: আমাদের শ্রী অরবিন্দ(পর্ব-২৭)

শ্রী অরবিন্দ ও শ্রীমায়ের জীবনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত এই ধারাবাহিকটি ইতিমধ্যে পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। আমাদের বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠকমণ্ডলীর মধ্যে শ্রী অরবিন্দ ও মায়ের জীবনী নিয়ে চর্চা করেন কিংবা শ্রী অরবিন্দ আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত পাঠকও রয়েছেন নিশ্চয়ই। তাঁদের প্রতি আমাদের বিনম্র আবেদন যে, ধারাবাহিকটি পড়তে পড়তে কোনোরকম তথ্যভিত্তিক ত্রুটি চোখে পড়লে অনুগ্রহ করে তৎক্ষণাৎ আমাদের দপ্তরে যোগাযোগ করুন, অথবা লেখার শেষে কমেন্টেও জানাতে পারেন। এছাড়া লেখার নীচে দেওয়া লেখকের ফোন নম্বরে সরাসরি করতে পারেন যোগাযোগ। আমরা ত্রুটি মেরামতে সদা সচেষ্ট। –সম্পাদক

প্রকৃতিতে মানুষ

মুকুল কুমার সাহা: ‘চেতনার অবতরণ’ এর শেষ পর্বে আমরা জানতে পেরেছি সচ্চিদানন্দময় পুরুষোত্তমের নিজের অবতরণ সম্বন্ধে। পূর্ণ ভগবান দেহধারী ব্যক্তি রূপ নিয়ে অবতীর্ণ হন একটা রূপান্তর সাধনের জন্য। তিনি পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে নিজে দেখিয়ে দেন কীভাবে প্রকৃতির রূপান্তর সাধন করতে হয় এবং কীভাবে নিম্নতন চেতনা থেকে ঊর্ধ্বতর চেতনাস্তরে উন্নীত হতে হয়। তাঁর দেহশক্তি প্রকৃতির প্রাকৃত দেহশক্তিকে বাধ্য করে তাঁকে ঊর্ধ্বায়িত ও রূপান্তরিত করতে।

চেতনার অবতরণ পর্বটি আমাদের বুঝতে সাহায্য করেছে ঊর্ধ্ব হতে কীভাবে সচ্চিদানন্দের বিভিন্ন ধরণের অবতরণের ফলে সৃষ্টি হয়েছে ও হয়ে চলেছে। সচ্চিদানন্দের বিভিন্ন সৃষ্টির মধ্যে এক ধরণের সৃষ্টিতে আমরা মানুষ। জড় সৃষ্টির মধ্য থেকে আমরা পেয়েছি আমাদের জড় দেহ। সূক্ষ্ম প্রাণশক্তি থেকে আমরা পেয়েছি আমাদের প্রাণশক্তি বা জীবনীশক্তিকে। সূক্ষ্ম মনোময় শক্তি থেকে আমরা পেয়েছি আমাদের মনকে। জড়, প্রাণ, মন এই তিন শক্তি হচ্ছে ভগবানের নিম্ন শক্তি, যাকে বলা হয় অপরা প্রকৃতি। ভগবানের আর এক প্রকৃতি আছে, যাকে বলা হয় পরা প্রকৃতি। পরা প্রকৃতি হচ্ছে অনাদি ভগবানের অনন্ত কালাতীত চিৎশক্তি। ভগবানের ঊর্ধ্ব প্রকৃতি বা পরা প্রকৃতি হতে জীবাত্মা আবির্ভূত হয়েছেন। জীবাত্মারা পরা প্রকৃতিতেই অবস্থান করেন। সেই জীবাত্মার একটু মানব শরীরের মধ্যে অন্তরাত্মা, হৃদ পুরুষ বা চৈত্য সত্তা নাম নিয়ে অবস্থান করছেন।

আমরা মানুষ, আমরা বিশুদ্ধ ও মিশ্র অখণ্ড একটি বস্তু নই। প্রকৃতির সকল স্তর আমাদের মধ্যে গ্রথিত, সৃষ্টির সকল স্রোতই আমাদের মধ্যে বহমান। প্রথমে দেহ, আর দেহকে সঞ্জীবিত করে রেখেছে জীবনী শক্তি বা প্রাণশক্তি। দ্বিতীয় মন, বুদ্ধি-বিচার-চিন্তা-ভাবুকতা প্রভৃতির খেলা এই ক্ষেত্রের। তৃতীয় অধ্যাত্মবোধ, যার স্বরূপ বিজ্ঞানময়, আনন্দময় যা অমৃতত্বের অধিষ্ঠান। দেহ ও প্রাণ নিয়ে মানুষের পশু ভাব, মন ও বুদ্ধি নিয়ে মানুষের মানুষ ভাব, আর তুরীয় জ্ঞান আনন্দ নিয়ে মানুষের দেব ভাব বা ভাগবত ভাব। বিবর্তন চক্রে প্রকৃতি মানুষকে প্রথমে পশু ভাবে, পরে মানুষ ভাবের মধ্য দিয়ে নিয়ে অগ্রসর হয়ে চলেছেন। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের কিছু কিছু মানুষ দেব ভাবে আরোহণ করেছেন। যাঁদের কথা আমরা বিভিন্ন বইতে অথবা তাঁদের সংস্পর্শে এসেছিলেন যাঁরা, তাঁদের লেখনী থেকে জানতে পারি।

আমরা সাধারণ মানুষ। আমরা আমাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রিত করি মানুষের দৃষ্টি দিয়ে। মানবজীবনের কেন্দ্র হচ্ছে বুদ্ধি, এই বুদ্ধি দিয়েই আমরা স্থির করি কী ভালো কী মন্দ। বুদ্ধির দ্বারা, বিচার বিতর্কের দ্বারা আমরা সত্যকে পেতে চেষ্টা করি। মহাপুরুষেরা বলেছেন– মানুষের জীবন চারটি উপকরণে গঠিত– দেহ-প্রাণ-চিত্ত ও মন এবং বুদ্ধি (বুদ্ধি মনেরই একটি বিশেষ ক্রিয়া)। মানুষের অস্তিত্ব সম্বন্ধে জানতে পারি তার দেহ খানি দেখে। মানুষ কর্ম করে তার প্রাণ শক্তি বা জীবনী শক্তির সাহায্যে। মানুষ ভোগ করে চিত্তের সাহায্যে। মানুষ সব কিছু জানে মন দিয়ে। এইগুলিই মানুষের অজ্ঞানের দেহ-প্রাণ-মনের রাজ্য। মানুষের আরো একটি প্রকৃতি আছে। এটি অন্তরাত্মার, অধ্যাত্মসত্তার প্রকৃতি। মানুষের নিম্ন প্রকৃতির রাজ্যে রয়েছে সুখ-দুঃখ দ্বৈত ভালোমন্দের খেলা। অন্যদিকে ঊর্ধ্ব প্রকৃতিতে বা অধ্যাত্মসত্তায় রয়েছে জ্ঞান ও আনন্দের প্রাচুর্য।

(অষ্টবিংশ পর্ব আগামী রবিবার)

লেখকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন- 8584063724

২৬ম পর্বটি পড়তে ক্লিক করুন- https://agamikalarab.com/

Featured

সব্যসাচী রাসবিহারী

অর্জুন জানা, আগামী কলরব: ইস! আগে জানলে একটা status দেওয়া যেত। লোকে জানত আমি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কত ভালো ভাবে মনে রেখেছি। Lockdown এর বাজারে সবাই যখন সারাক্ষণ mobile ঘাটছে, তখন তো নিশ্চয়ই সবাই দেখত।
আমাদের চিন্তা ঠিক এমনই। তাই এই মহান দেশপ্রেমিককে আমরা ভুলে গেছি। যাঁর প্রচেষ্টা ও সুভাষচন্দ্রের সুদক্ষ নেতৃত্বে আমরা আজ স্বাধীন। তাঁর জন্মদিনের শুভ সময়ে তাঁর উদ্দেশ্যে এই ছোট্ট লেখা। যদিও তাঁর কর্মকাণ্ড এই ছোট্ট লেখায় বলা অসম্ভব।

আমরা ব্যোমকেশের গল্পে পড়েছি, আবার ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’ সিনেমাতেও দেখেছি কি নিপুণ ছদ্মবেশ এই গোয়েন্দারা নিতে পারেন। কিন্তু গল্পের বাইরে এমন লোক পাওয়া খুব মুশকিল যাদের ছদ্মবেশে দেখে তাদের পরিবারের লোক অন্তত চিনতে পারবেন না। তবে এই বঙ্গভূমিতে এমন লোকও ছিলেন, যাঁর ছদ্মবেশ ধরতে পারে এমন গোয়েন্দা দুঁদে ব্রিটিশের ছিল না!

বাল্য জীবন

দিনটা ১৮৮৬র ২৫শে মে। তৎকালীন পূর্ব বর্ধমান জেলার সুবলদহ গ্রামে জন্ম নেন বিনোদবিহারী বসু ও ভুবনেশ্বরী দেবীর সন্তান। রাসবিহারী, নামটা দিয়েছিলেন তাঁর দাদু কালীচরণ বসু। রাসবিহারী বসুর মা যখন গর্ভবতী তখন তাঁর অসুস্থ শরীরের জন্য গ্রামের পশ্চিম পাড়ার বিষ্ণু মন্দিরে মানত করা হয় সুস্থভাবে সন্তানের জন্মের জন্য, তাই পরে দাদু কৃষ্ণের নামে নাম দেন রাসবিহারী। প্রথমে গ্রামের পাঠশালা পরে মর্টন স্কুল ও ডুপ্লে কলেজ থেকে নিজের পড়াশুনা শেষ করেন রাসবিহারী। ছোটবেলা থেকেই ছিল লাঠি খেলার অভ্যাস ও জাতীয়তাবাদী চিন্তা। এমনও শোনা যায়, ইংরেজদের মূর্তি তৈরি করে লাঠি খেলার ছলে তিনি সেইগুলি ভেঙে ফেলতেন। বাল্যাবস্থাতেই দাদু কালীচরণ বসু এবং শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় তাঁর মনে জেগে ওঠে মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার জন্য বিপ্লবী চিন্তাধারা।

ভারতে বিপ্লবী কর্মকাণ্ড

প্রথম জীবনে নানান বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে তিনি নিযুক্ত ছিলেন। ১৯০৮ সালে আলিপুর বোমা বিস্ফোরণ মামলায় অভিযুক্ত হয়ে শেষে বাংলা ছেড়ে চলে যান দেরাদুনে। সেখানে বন গবেষণা সংস্থায় হেড ক্লার্ক পদে কাজ করতে শুরু করেন। সেখানে তাঁর সাথে যোগাযোগ হয় যুগান্তর দলের অমরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও আর্য সমাজের বিপ্লবীদের। ১৯১২ সালের ২৩শে ডিসেম্বর, ভারতবর্ষের সদ্য স্থাপিত রাজধানী দিল্লীতে স্বাগত জানান হচ্ছে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জকে। চাঁদনীচকের এক বাড়িতে একজন রোগা মহিলা দাঁড়িয়ে রয়েছেন ভাইসরয়কে দেখবার জন্য। হঠাৎ বোমার শব্দে কেঁপে উঠল রাস্তা। ১৬ বছর বয়সী বসন্ত বিশ্বাস মহিলার ছদ্মবেশে বোমা ছুঁড়েছিলেন হাতিতে বসা লর্ড হার্ডিঞ্জকে লক্ষ্য করে। প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন হার্ডিঞ্জ, তবে জখম এড়াতে পারেননি। এই হামলার পরিকল্পনা করেন রাসবিহারী বসু। এরপর চলে রাসবিহারী ও পুলিশের ইঁদুর-বিড়াল খেলা। অনেকে বলেন যখন তাঁর ওপর এক লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়, তখন নাকি তিনি পুলিশের চিফ কমিশনারের ঠিক উল্টো দিকে বসে ট্রেনে সফর করেছিলেন। রাসবিহারী গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন সারা ভারতব্যাপী সশস্ত্র সেনা সংগ্রাম। কিন্তু বিশ্বাসঘাতকতার জন্য সেই পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৯১৫ সালের ১২ই মে কলকাতার খিদিরপুর বন্দর থেকে জাপানি জাহাজ ‘সানুকি-মারু’-তে করে তিনি মাতৃভূমি ত্যাগ করেন তাঁকে স্বাধীন করার উদ্দেশ্যে। ছদ্মবেশের জাদুকর রাসবিহারী বসু আগেই জাল পাসপোর্ট তৈরি করে রেখেছিলেন রবীন্দ্রনাথের আত্মীয় রাজা প্রিয়নাথ ঠাকুর ছদ্মনামে।

জাপানে রাসবিহারী

ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লীগের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতির দায়িত্বে রাসবিহারী

জাপানে এসেই তাঁর সাক্ষাৎ হয় পাঞ্জাবের বিপ্লবী ভগবান সিংয়ের সঙ্গে। তারপর তিনি দেখা করেন বিখ্যাত চৈনিক জাতীয়তাবাদী নেতা সান-ইয়াত সেনের সাথে। সান-ইয়াত রাসবিহারীকে তাঁর গুরু তোয়ামা মিৎসুরুর সঙ্গে দেখা করার পরামর্শ দেন। এর কয়েক মাস পর তাঁর সাথে পরিচয় হয় আরও এক দুর্দান্ত বিপ্লবী হেরম্বলাল গুপ্তের। গুরু সর্বদাই সর্বস্থানে শিষ্যদের রক্ষা করেন। রাসবিহারী ও হেরম্বলালকে জাপানি পুলিশদের হাত থেকে সবসময়ই রক্ষা করেছিলেন গুরু তোয়ামা মিৎসুরু। ধীরে ধীরে রাসবিহারী বসু গড়ে তোলেন তাঁর বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের দল। তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন বহু আদর্শবান জাপানি, সামরিক কর্তা ও বুদ্ধিজীবীগণ। সেই সমস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কিছু উল্লেখ্য হলেন কুজো ইয়োশিহাসা, উচিতা রিয়োহেই, ওওকাওয়া শুমেই, সুগিয়ামা শিগেমারু, শিমোনাকা ইয়াসাবুরো এবং আরও অনেকে। রাসবিহারী বসুর জাপান আগমনের কয়েক মাস পরেই জাপান সফরে আসেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম মহান বিপ্লবী লালা লাজপত রায়। তাঁর আগমনে একটি সংবর্ধনা সভার আয়োজন করতে চাইছিলেন রাসবিহারী, যাতে জাপানি নাগরিকরা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেন। এরমধ্যেই হেরম্বলাল তৎকালীন প্রখ্যাত প্যান-এশিয়ানিস্ট এবং ভারতীয় দর্শন শাস্ত্রের গবেষক ওওকাওয়া শুমেই এর সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপন করেছেন। তাঁরই পরামর্শে টোকিওর উয়েনো শহরের বিখ্যাত সেইয়োকেন মিলনায়তনে তাইশো সম্রাট ইয়োশিহিতোর সিংহাসন আরোহণকে কেন্দ্র করে একটি অভিষেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। সেই সভায় ভারতের স্বাধীনতার পক্ষে রক্ত গরম করা জ্বালাময়ী বক্তৃতা দেন লালা লাজপত রায়, রাসবিহারী বসু ও হেরম্বলাল গুপ্ত। তোয়ামা মিৎসুরু এবং আরও অনেকে বক্তৃতা দেন সেই সভায়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্রিটিশ গুপ্তচরদের প্রেরিত সংবাদ পেয়ে ব্রিটিশ দূতাবাস থেকে বিপ্লবীদের ধরিয়ে দেবার জন্য জাপানকে চাপ দেয়া হয়। ফলে জাপান সরকার বিপ্লবীদের জাপান ত্যাগের নির্দেশ জারি করে। লালা লাজপত রায় চলে যান আমেরিকাতে। রাসবিহারী ও হেরম্বলালকে গুরু তোয়ামা আশ্রয় দেন। তাঁদের দুজনকে গুরু তোয়ামা নিজের বাড়ির কাছেই সিনজুকু শহরে অবস্থিত সুবিখ্যাত ব্যাবসায়ী প্রতিষ্ঠান ‘নাকামুরায়া’র মালিক সোমা আইজোর সাথে আলাপ করে সেই প্রতিষ্ঠানের একটি পরিত্যক্ত ছবি আঁকার স্টুডিওতে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। কিছুদিন পর হেরম্বলাল সেই জায়গা ছেড়ে অন্য জায়গায় যান ও মাসচারেক পর আমেরিকা চলে যান। থেকে যান রাসবিহারী একা। তবে তাঁর সেই একাকিত্ব কাটাতে নিজেকে এগিয়ে দেন এক মাতৃময়ী দেশপ্রেমিকা, যিনি নিজের দেশ ছাড়াও ভালোবেসেছিলেন ভারতবর্ষকে, আপন করেছিলেন বঙ্গসন্তান, বঙ্গসংস্কৃতি ও বঙ্গরন্ধনকেও।

দাম্পত্য জীবন

স্ত্রী তোশিকোর সঙ্গে

পরিত্যক্ত স্টুডিওতে গা ঢাকা দিয়ে আছেন রাসবিহারী, এদিকে চিন্তিত হয়েছেন গুরু তোয়ামা। শেষপর্যন্ত গুরু তোয়ামা সোমা আইজোকে তার বড় মেয়ে তোশিকোর সাথে রাসবিহারীর বিয়ের প্রস্তাব দেন। বিয়ে হলে জাপানি নাগরিকত্ব পেতে সুবিধা হবে রাসবিহারী বসুর। অকস্মাৎ এই প্রস্তাবে চমকে যান সোমা আইজো ও তাঁর স্ত্রী কোকো আইজো। মেয়েকে এই বিয়ের প্রস্তাব ও বিয়ের ফলে যা যা সমস্যা হতে পারে সব বললেন কোকো। তোশিকো চেয়েছিলেন কিছুটা সময়, চিন্তা করবার জন্য। তিন সপ্তাহ পরে তোশিকো জানান যে তিনি রাজি আছেন। এদিকে রাসবিহারীকে তাঁর মতামত চাইলে তিনি বলেন, “বিপ্লব আমার ধ্যানজ্ঞান। বিয়ের কথা কখনও ভাবিনি। আমার যা জীবন তাতে এসব ভাবার কথাও না। তবে মিস্টার তোয়ামা যদি এটাই চান এবং মিস তোশিকো যদি রাজি থাকেন তা হলে আমি বিয়ে করবো”। ১৯১৮ সালের ৯ই জুলাই অতিগোপনে তোশিকো-রাসবিহারীর বিয়ে হয় টোকিওতে। বিয়ের পর শিবা অঞ্চলে একটি ভাড়া বাড়িতে ওঠেন দম্পতি। কিন্তু কিছুদিনেই টের পেয়ে যায় গোয়েন্দারা। শুরু হলো বাড়ি বদল। শাশুড়ি কোকোর ডায়রি থেকে জানা যায় ৮ বছরে মোট ১৭ বার বাড়ি বদল করেন দুইজনে। বিয়ের পর প্রায়ই রাসবিহারীর মনে হতো এই বিয়ে বুঝি জোর করে হয়েছে, তোশিকো এতে খুশি নন। তাই একদিন এই প্রশ্নটা করেই ফেললেন তোশিকোকে যে তিনি কি সত্যিই রাসবিহারীকে ভালোবাসেন ? তাঁর জন্য প্রাণ দিতে পারেন ? প্রশ্ন শুনেই তোশিকো ছুটে যান জানালার দিকে, পাহাড়ের উপত্যকায় ঝাঁপ দিয়ে নিজের ভালোবাসার প্রমাণ দিতে, পিছন থেকে এসে জড়িয়ে ধরেন রাসবিহারী। তারপর থেকে কোনোদিন তাঁদের মধ্যে এই প্রশ্ন ফিরে আসেনি। ১৯২০ তে জন্ম নেয় তাঁদের পুত্র মাসাহিদে যিনি মাত্র ২৪ বছর বয়সে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রাণ হারান। এর দু বছর পর ১৯২২ সালে তাদের কন্যা তেৎসুকো জন্মগ্রহণ করে। ১৯২৩ সালে রাসবিহারী বসু জাপানের নাগরিকত্ব পান। শেষ হয় বাড়ি বদল আর লুকোচুরি। কিন্তু দাম্পত্য জীবন বেশীদিন স্থায়ী হলো না। বহু পরিশ্রম, স‍্যাঁতস‍্যাঁতে অন্ধকার ঘরে বাস, অভুক্ত অবস্থা ও কঠিন দারিদ্রের ফলে যক্ষা রোগে ও সাথে নিউমোনিয়াতে ১৯২৭ সালে মারা যান তোশিকো। রেখে যান স্বামী ও দুই সন্তান। রাসবিহারী তাঁর স্ত্রীকে শিখিয়েছিলেন বাংলা বলতে, একেবারে বাঙালি ধাঁচে শাড়ি পরতে আর বাঙালি রান্না করতে। স্ত্রীর মৃত্যুর একবছর পর নাকামুরায়ার দ্বিতলে ‘ইন্দো নো মোন’ নামে ভারতীয় কারি রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন। আজও এই রেস্টুরেন্ট জাপানে জনপ্রিয়। তিনিই প্রথম জাপানে ভারতীয় মশলায় রাঁধা মুরগির মাংসের কারি প্রচলন করেন। এই রেস্টুরেন্টই ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রাণ কেন্দ্র।

রাসবিহারী ও আজাদ হিন্দ বাহিনী

বাঁদিকে, জাপানে সুভাষ বসুকে স্বাগত জানানোর কার্যক্রমে।(সুভাষ বসুর পিছনে)। ডানদিকে, নেতাজীর হাতে আনুষ্ঠানিক ভাবে তুলে দিচ্ছেন আজাদ হিন্দ ফৌজের নেতৃত্ব

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ব্রহ্মদেশে দীর্ঘ ২২ বছর কারাদণ্ডের পর মুক্তি পেয়ে থাইল্যান্ড যান বাবা অমর সিং। সেখানে তিনি ব্যাংককে শিখ ধর্মপ্রচারক জ্ঞানী প্রীতম সিংকে মালয় ও ব্রহ্মদেশের ব্রিটিশ ভারতীয় সৈন্যদের মধ্যে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রচারের জন্য পাঠান। ১৯৪১ সালের ৮ই ডিসেম্বর জাপান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। তারপরের দিনই অর্থাৎ ৯ই ডিসেম্বর বাবা অমর সিংয়ের নেতৃত্বে ব্যাংককে ভারতীয় স্বাধীনতা লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪২ সালের ৯ই মার্চ লীগের সিঙ্গাপুর সম্মেলন বসে ও স্থির হয় যে সুভাষচন্দ্র বসুকে পূর্ব এশিয়াতে ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণের অনুরোধ করা হবে। ২৮শে মার্চ লীগের সদস্যদের নিয়ে টোকিও সম্মেলন বসে কিন্তু এই সম্মেলনে যোগ দিতে আসার সময় জ্ঞানী প্রীতম সিং, স্বামী সত্যানন্দ ও আরও কিছু সদস্যের মৃত্যু হয়। শেষ পর্যন্ত এই সম্মেলনে লীগের কর্মপরিষদ গঠন ও রাসবিহারী বসুকে কর্মপরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি পদে নিযুক্ত করা হয়। রাসবিহারী বসুর নেতৃত্বে লীগের দ্রুত বিকাশ ঘটে। ১৫ই জুন ব্যাংকক সম্মেলনে প্রথম আজাদ হিন্দ ফৌজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কর্মপরিষদের হাতে আসে। লীগের সদর দপ্তর ব্যাংককে স্থাপন করা হয়। তবে এরপর লীগের সাথে কোনোরকম পরামর্শ না করেই জাপানিরা আজাদ হিন্দ ফৌজের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ শুরু করে। ফলে লীগ ও জাপানিদের দূরত্ব বেড়ে যায়। জাপানিদের এই ব্যবহার সহ্য করতে পারেননি রাসবিহারী বসু। শেষ পর্যন্ত জেনারেল মোহন সিং ও অন্যদের সাথে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় লীগ ভেঙে যায়। এরপর রাসবিহারী বসু নিজের প্রচেষ্টায় পুনরায় লীগ ও সামরিক বাহিনী গড়ে তোলেন। লীগের দপ্তর ব্যাংকক থেকে সিঙ্গাপুরে স্থানান্তরিত করা হয়। ১৯৪৩ সালের ৪ঠা জুলাই রাসবিহারী বসু লীগ ও আজাদ হিন্দ ফৌজের দায়িত্বভার তুলে দেন সুভাষচন্দ্র বসুর হাতে। ১৯৪৫ সালের ২১শে জানুয়ারি এই মহান দেশপ্রেমী, বিপ্লবী, জাতীয়তাবাদী নায়ক পরলোক গমন করেন।

জাপান সরকার রাসবিহারী বসুকে “Order of the Rising Sun” সম্মানে ভূষিত করে। তবে যে দেশের জন্য তাঁর এই জীবনের কর্মকাণ্ড, তার কাছ থেকে তিনি কিছুই পাননি। ১৯৫৭ সালে প্রথম জাপান সফরে যান তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তৃতায় একবারও রাসবিহারী বসুর নাম আসেনি। একটি বারের জন্যও তিনি রাসবিহারী বসুর জাপানের বাড়ি ও সমাধি ক্ষেত্রে যাননি। যাঁর প্রচেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রমে গঠিত আজাদ হিন্দ ফৌজের সংগ্রামে অর্জিত স্বাধীনতা, সেই স্বাধীন ভারত তাঁর আত্মত্যাগের কথাকে ভুলে গেছে। যদি রাসবিহারী বসু আজাদ হিন্দ বাহিনী না গড়তেন ও সুভাষচন্দ্র বসু তাকে নেতৃত্ব না দিতেন তবে কি ১৯৪৭সালে দেশ স্বাধীন হত? স্বাধীন ভারতের প্রত্যেক নাগরিকের এর উত্তরটি ভাববার অবকাশ রয়েছে।

Featured

করোনা সংক্রমণ: চিনের প্রতি পক্ষপাতিত্ব বন্ধ না করলে WHO কে সম্পূর্ণ অনুদান বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগামী কলরব: করোনা সংক্রমণ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে ফের হুমকি দিলেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। করোনা সংক্রান্ত সঠিক তথ্য বিশ্বের কাছে পরিবেশন করা হচ্ছে না বলে এর আগে ট্রাম্প WHO কে দেওয়া অনুদান অর্ধেক কমিয়ে দেন। এবারে WHO তথা সংস্থার নির্দেশক ডাঃ টেড্রাস করোনা সংক্রমণ সম্পর্কিত সঠিক তথ্য প্রকাশ না করলে সম্পূর্ণ অনুদানই বন্ধ করার হুমকি দিয়ে WHO কে চিঠি পাঠালেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি। ট্রাম্প আরো বলেন– ডাঃ টেড্রাস এর ভুল পদক্ষেপে গোটা পৃথিবীকে ভুগতে হচ্ছে। এখন একমাত্র রাস্তা, WHO যদি নিজেকে চীনের প্রভাবমুক্ত করে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের এই সম্পূর্ণ অনুদান বন্ধের হুমকি WHO এর পক্ষে যথেষ্ট উদ্বেগজনক। কারণ, চিন যেখানে WHO কে মাত্র ৩৬ মিলিয়ন ডলার আর্থিক সাহায্য দেয়, সেখানে আমেরিকা দেয় ৫০০ মিলিয়ন ডলার।
গোটা পৃথিবীতে করোনা সংক্রমণ এমন ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে যাওয়ার পিছনে চিনের সন্দেহজনক ভূমিকা নিয়ে ইতিপূর্বে বারে বারে সরব হয়েছেন ট্রাম্প। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও তুলছে বহু দেশ। আমেরিকা জানিয়ে এসেছে, যদি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ভুলবশত ছড়িয়ে পড়ে, তা হলে সেটা ভুল। কিন্তু যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তা ছড়ানো হয়ে থাকে তো তার ফল ভুগতে হবে।
আমেরিকার রাষ্ট্রপতি আরো বলেন যে তিনি শুধু এটা জানতে চান যে গত বছর ডিসেম্বরে যখন চিনে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে এবং এও জানা যায় যে ভাইরাসটি এক ব্যক্তির শরীর থেকে দ্রুত অন্য ব্যক্তির শরীরে সংক্রামিত হয়, এরপরও WHO প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এক মাস দেরি করল কেন। পাশাপাশি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক এক আধিকারিক ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য প্রকাশ করে চলেছেন কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প। সেই সঙ্গে আমেরিকার পরিষ্কার বক্তব্য– হুবেই অঞ্চল এই ভয়াবহ ভাইরাস সংক্রমণের শিকার হলেও চিনের অন্যান্য প্রদেশে সংক্রমণের হার নেই অথবা অত্যন্ত কম, যা যথেষ্ট সন্দেহজনক। এই ঘটনা থেকেই মনে হয় চিনের ভূমিকা পরিষ্কার ছিল না, এবং চিন সম্পূর্ণ মানব সভ্যতার ক্ষতি করতে প্রয়াসী।

Featured

হরিদেবপুরের ১২২ নম্বর ওয়ার্ডে খাদ্য সামগ্রী বিলি ভারতীয় মজদুর সংঘের

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগামী কলরব: ক্রমবর্ধমান করোনা সংকটের ফলে গোটা দেশ তৃতীয় দফার লকডাউনের মধ্যে দিয়ে চলেছে এই মুহূর্তে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মত পশ্চিমবঙ্গেরও দিন আনা দিন খাওয়া মানুষদের পাশে দাঁড়াচ্ছে বহু সংগঠন। গত ১৩ই মে কলকাতার হরিদেবপুর থানার অন্তর্গত ১২২ নম্বর ওয়ার্ডের ডলিভিলা অটো স্ট্যান্ড এলাকায় স্থানীয় প্রায় ২০০ টি পরিবারের মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিলি করা হল আরএসএস এর অন্তর্গত একমাত্র শ্রমিক সংগঠন ভারতীয় মজদুর সংঘের পক্ষ থেকে। সেবা কাজটির আয়োজকদের মধ্যে ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের রাজ্য প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী চন্দ্রচূড় গোস্বামী, অনামিকা দে, অশোক কুমার সাউ এবং অভিজিৎ মোহান্তা। আয়োজকেরা প্রত্যেক পরিবারের হাতে চাল-ডাল-নুন-আলু-তেল-সয়াবিন তুলে দেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে অনামিকা দে জানান, তাঁরা এর আগে ওই এলাকার আশেপাশে আরো কয়েকটি এমন সেবা কাজ পরিচালনা করেছেন। অন্যদিকে, চন্দ্রচূড় গোস্বামী বলেন,’এমন একটি সেবা কাজ পরিচালনা করে আমরা তৃপ্ত। করোনার ফলে সমাজের দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষজনেরা অত্যন্ত বিপদে পড়েছেন। আমরা যতটা সম্ভব তাঁদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। ইতিপূর্বে আমরা সংস্কার ভারতী ও ক্রীড়া ভারতীর পক্ষ থেকেও এই এলাকায় সেবা কাজের আয়োজন করেছি। সংঘের সেবা কাজের ব্রত পালনে আমরা সর্বদা সচেষ্ট।
এর সঙ্গেই তিনি এই সেবা কাজে অনেক দূর থেকে এসে অংশগ্রহণ করার জন্য অশোক কুমার সাউ ও অভিজিৎ মোহান্তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

Featured

Dharamveer Sambhaji: Forever invincible to tyrants

Gautam Guha, Agami Kalarab: In his short rule spanning nine years, Sambhaji gained recognition for his valour and patriotism. He continues to be celebrated, particularly in Maharashtra as the ruler who choose death over conversation. Son of brave Maratha warrior Chhatrapati Shivaji Maharaj was a scholar of Sanskrit and other eight languages. He single handedly fought with the massive army of Aurangzeb for 9 years. Many visiting dignitaries at the coronation ceremony have written about his acumen, intelligence, personality and most important of all, his modesty. As a prince, Sambhaji proved his bravery and military brilliance on more than one occasion. Sambhaji Maharaj had established a separate department in his province for the ‘reconversion ceremony’ of the Hindus who had earlier converted into other religions.
1681 was the year when war finally began between the Marathas and the megalomaniac Mughals in its true sense. It became obvious that the vast lands under his control was not enough to satiate Aurangzeb’s lust for power and the ambition to unfurl the Kesari Dhwaj across the lengths and breadths of Bharata meant that the Marathas could not and would not back away from the war. During the same time, a Mughal general, Hussein Ali Khan, attacked Northern Konkan. However, Sambhaji managed to push him back to Ahmednagar. It was now 1682 and monsoons had begun forcing both sides to halt their military operations. However, Aurangzeb was conspiring to secure a deal with the Portuguese which would have allowed the Mughals a supply route to Deccan via the sea. Of course, the Marathas could not let that happen and thus attacked the Portuguese and penetrated deep into their territory. However, the Portuguese were able to secure their headquarters. The Marathas, for an overwhelming majority of the War, were terribly ill-equipped when compared to the Mughals.

Symbolic picture

Therefore, they could not afford a head-on battle. They would be obliterated. And, as the situation with the Portuguese demonstrated, they were surrounded by enemies from all sides.What they did have working in their favour was their superior knowledge of the territory they ruled and were acutely aware of the unique features of the terrain which they could exploit to maximize their gains. Thus, it turned out to be a war of attrition and under those circumstances, a war of attrition was the only one they could win.Thus, a year later, Aurangzeb was forced to rethink his strategy. Instead of further attacks on the Marathas directly, he attempted to consolidate Mughal power in the south by conquering Bijapur and Golkonda. The rulers of those empires were Shia Muslims and being the fanatic Sunni that he was, Aurangzeb did not hesitate to sever his treaty with them. However, the Marathas saw an opportunity to take the offensive to Mughals in the North Coast while the latter was busy in their expeditions in the South.
They suffered minimum damage but inflicted maximum destruction. It became the dominant theme in the battles to come. The Marathas were quick and sharp in their attacks while the Mughals, vast as their resources were, were often caught unaware until the very last minute. In many ways, the Marathas had successfully implemented a very cunning strategy, using the resources of the Mughals themselves to wage war against them.
Bijapur and Golkonda, however, soon fell to Mughals and their rulers were captured and imprisoned. With the Shia empires out of his way, he could again shift his focus to his primary target to the Marathas.
The next couple of years brutal fenetic Aurangzeb was unable to make any major dent on his Hindu foes as the latter continued to strengthen their position. However, in 1687, at the battle of Wai, the Mughals succeeded in inflicting a severe blow to Maratha aspirations. The key Maratha commander Hambirao Mohite fell in battle and troops began deserting the Maratha forces. The real tragedy, nevertheless, befell the Hindu empire in 1688 when Sambhaji was captured by Mughal forces at Sanghameshwar. The events that followed would perhaps definitively seal the fate of the Mughal empire in India and of Aurangzeb himself.
There has been a certain code of conduct that honourable men have tried to adhere to during war across the ages. These codes are difficult to adhere, especially since you have to apply them while dealing with a sworn enemy. But then, having the resolve to adhere to them is what honour is all about. And it’s also a fact that invariably, it has been monotheistic rulers who have demonstrated time and again that their religious zeal often prevents them from honouring such dignified traditions. Aurangzeb was no different. His treatment of Sambhaji would resonate across the ages and would serve as a testament to the grave peril our forefathers suffered under and the great threats they braved in their battle to restore Dharma in the ancient land of our Gods.Following Sambhaji’s capture, which was felicitated by treacherous men in his own ranks, he was presented in front of Aurangzeb who presented him with the option to convert or ready to persecute. Accounts differ as to what exactly transpired but it’s well accepted that Sambhaji refused to convert which led to the brutal treatment he was subjected to. Following such failed attempts, Aurangzeb had him paraded on a donkey wearing the clothes of a clown. He was brutally tortured by 40 days. His eyes were plucked and so was his tongue. The nails on his fingers were removed and so was his skin. Sambhaji was made to rot in prison under such circumstances and his torture was prolonged over a fortnight. After every torture, Aurangzeb would ask him if he had had enough and wanted to convert – but the courageous king kept refusing. By doing so he earned the title of Dharmaveer (Protector of Dharma) by which he is known to this day. Aurangzeb ordered for Sambhaji’s body to be cut into pieces and be thrown into the river. Residents of the nearby village named ‘Vadhu’ collected as many pieces of his body as they could find, sewed them together and performed the final rites on his body. These villagers later went on to use the surname ‘Shivale’, which means ‘sewing’ in the Marathi language. In hindsight, Aurangzeb had sealed his fate with this act of exceptional barbarity. There were many, previously, who were averse to siding with the Marathas openly due to their personal dislike for Sambhaji. However, the horrid cruelty that the Maratha King was subjected to inspired everyone to rally underneath the banner of the Kesari and swear a sacred vow that they would not rest until the last vestiges of the Mughal empire were uprooted from this sacred land of ours.The act of protecting his faith over life earned him much praise, particularly among Hindu nationalist historians. Historian Y.G. Bhave, in his book, ‘From the Death of Shivaji to the Death of Aurangzeb: The Critical Years,’ writes about Sambhaji: “His leadership of nine years had been quite inspiring for the Maratha spirit of resistance. But his death by torture at the hands of the fanatic Moghul emperor set the Maratha hearts on fire.” The capture and death of Sambhaji is believed to have infused new determination among the Marathas to overcome the Mughal power.

Featured

ধারাবাহিক রচনা: আমাদের শ্রী অরবিন্দ(পর্ব-২৬)

শ্রী অরবিন্দ ও শ্রীমায়ের জীবনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত এই ধারাবাহিকটি ইতিমধ্যে পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। আমাদের বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠকমণ্ডলীর মধ্যে শ্রী অরবিন্দ ও মায়ের জীবনী নিয়ে চর্চা করেন কিংবা শ্রী অরবিন্দ আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত পাঠকও রয়েছেন নিশ্চয়ই। তাঁদের প্রতি আমাদের বিনম্র আবেদন যে, ধারাবাহিকটি পড়তে পড়তে কোনোরকম তথ্যভিত্তিক ত্রুটি চোখে পড়লে অনুগ্রহ করে তৎক্ষণাৎ আমাদের দপ্তরে যোগাযোগ করুন, অথবা লেখার শেষে কমেন্টেও জানাতে পারেন। এছাড়া লেখার নীচে দেওয়া লেখকের ফোন নম্বরে সরাসরি করতে পারেন যোগাযোগ। আমরা ত্রুটি মেরামতে সদা সচেষ্ট। –সম্পাদক

মুকুল কুমার সাহা: আশ্রম সাধক নলিনীকান্ত গুপ্তের রচনাবলীর অষ্টম খণ্ড থেকে নেওয়া ‘চেতনার অবতরণ’ পর্বটি আমাদের এই পর্বেই শেষ হচ্ছে। শ্রী অরবিন্দ এবং শ্রীমার যোগপথে নিবেদিত অগ্রণীসাধক নলিনীকান্ত গুপ্তের অষ্টম খণ্ডের বিভিন্ন পর্ব থেকে কিছু কিছু করে নিয়ে আমার পরবর্তী পর্ব গুলো রচনা করব বলে ঠিক করেছি। আমার পরের পর্বগুলো পড়ে কারোর মনে যদি অতৃপ্তি থেকে যায়, তাহলে তাঁরা মূল বইটি পড়ে নিলেই সমস্ত কিছু বিশদে জানতে পারবেন এই আশা রাখি।

বিভিন্ন যোগ মার্গের মহাপুরুষদের কথা থেকে বা লেখনী থেকে যা যা প্রকাশিত হয়েছে খুব যত্ন করে মনোযোগ সহকারে সেগুলি পড়তে থাকলে (মূল বই অথবা উপযুক্ত অনুবাদের মাধ্যমে) বুঝতে অসুবিধা হয় না ভগবান বা ভগবতী জননী পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন পরিবেশে কত রকম ভাবে নিজেকে প্রকাশ করেছেন বা করে চলেছেন।

গত পর্বে জানা গেছে আমাদের অন্তরাত্মা বা চৈত্য পুরুষের পরিপুষ্টির জন্য অনেক অনেক জন্ম-মৃত্যুর প্রয়োজন হয়। চৈত্য পুরুষ যখন জন্ম জন্মান্তরের পথ পার হয়ে নিজ দেহ-প্রাণ-মনের কর্তা হয়ে উঠতে সক্ষম হয়, তখনই মানুষের ব্যক্তিরূপ নব নব সিদ্ধির প্রকাশলীলায় অংশগ্রহণে সমর্থ হয়।

চেতনার অবতরণ (অন্তিম পর্ব)

পুরাণ বর্ণিত দশ অবতারের রূপ

ঊর্ধ্ব হতে চারটি অবতরণের ফলে আমরা তবে দেখলাম সৃষ্টি হয়েছে ও চলেছে– চলেছে উত্তরণের দিকে, কিন্তু ক্রম লয় নয়, ক্রম রূপান্তরের দিকে। অবতরণের শেষ আরেকটি ধারা এখনো রয়ে গিয়েছে– এই পঞ্চম অবতরণ হল যেন উত্তম এর চেয়েও উত্তম রহস্য, উত্তমোত্তম বা পরাৎপর রহস্য। কী তবে সে জিনিস? তা হল ভগবানের, সচ্চিদানন্দময় পুরুষোত্তমের নিজের অবতরণ তার ব্যক্তিরূপে– তাঁর সাধারণ বা ব্যাপক সত্তা ও চেতনা হিসেবে নয়, কিংবা তাঁর সৃষ্ট বা তাঁর অংশ জীবের আধারকে আশ্রয় করে নয়– তাঁর আপন ভাগবত ব্যক্তিত্বেরই সাক্ষাৎ অবতরণ। অবতার বলতে আমরা সচরাচর এই জিনিসটিই বুঝে থাকি। পূর্ণ ভগবান দেহধারী ব্যক্তিরূপ নিয়ে অবতীর্ণ হন এই পার্থিব আয়তনে জড়সৃষ্টির মধ্যে, বিবর্তনের ধারায় একটা বিশেষ ঊর্ধ্বায়ন, একটা ক্রমান্তর একটা রূপান্তর ও ধর্মান্তর সাধনের জন্য। মানবীয় স্তরে তিনি মানুষী তনু গ্রহণ করেন তার দুই উদ্দেশ্য– প্রথম, নিজের জীবন ধারায় দৃষ্টান্ত দিয়ে দেখান কী রকমে প্রকৃতির পরিবর্তন সাধিত হয়, কী রকমে একটা নিম্নতর চেতনা থেকে ঊর্ধ্বতর স্তরে উন্নীত হওয়া যায়– ভগবানের আরেক নাম তাই যোগেশ্বর; কারণ, যোগ হল সেই সজ্ঞান সাধনা যার বলে নিজের সত্তা ঊর্ধ্বায়িত হয়ে যুক্ত হয় উপরের সত্তায়। তাঁর দৃষ্টান্তের মানুষও তাঁর পথ অনুসরণ করতে পারে– সে প্রেরণা সে জ্ঞান তার সুলভ হয়। ভগবানের শরীর গ্রহণের দ্বিতীয়— এবং গুহ্যতর– উদ্দেশ্য ও সার্থকতা হল এই যে জড়কে জড়ায়তনকে কেবল অধ্যাত্মচেতনার দ্বারা পরিচালিত নিয়ন্ত্রিত করা যথেষ্ট নয়, অধ্যাত্মচেতনার হাতে আয়ুধ রূপে থাকা দরকার জড়শক্তি, জড়কে জড় দিয়ে বিজিত অভিভূত করবার জন্য– ভগবতী দশভূজার হাতে দশ প্রহরণ রয়েছে কেন তবে? অবতারের দেহশক্তিই যেন প্রকৃতির প্রাকৃত দেহ শক্তিকে পরিশেষে বাধ্য করে ঊর্ধ্বায়িত রূপান্তরিত হতে।

ভগবানের অবতারী ব্যক্তিরূপ কেবল মানুষের স্তরে মানুষ-আকারেই আবদ্ধ নয়। ভারতীয় দশাবতারের চিত্রে যে পাওয়া যেতে পারে আদিকাল হতে প্রকৃতির বিবর্তনে একটা ক্রম পারস্পর্যের ইতিহাস, এ কথাটির উপর অনেকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। প্রকৃতির পরিবেশ যেরকম, চেতনার যে পরিস্থিতি তার অনুসরণে, তার প্রয়োজনের বশে ভগবতী তনু রূপ গ্রহণ করে, এবং প্রকৃতির ও চেতনার রূপান্তরের আহ্বান অনুসারে নিজের রূপান্তরেরও ক্রমবিকাশ ঘটায়।

মানবজাতির এক ভবিষ্যৎ– খুব সম্ভব এক আশু– রূপান্তরের কথা কল্কি অবতারের রূপকে বর্ণিত হয়েছে বলে মনে হয়। দ্রষ্টারা বলেছেন কল্কি আসছেন শ্বেত অশ্ব আরোহণে। শ্বেত অশ্ব হতে পারে শুভ্র চিন্ময় সক্রিয় বেগবতী শক্তি। মনোময় মানুষ এবার চিন্ময় হয়ে উঠবে, বর্তমান বিবর্তনক্রমের এই অন্তর্নিহিত প্রয়াস ও সাধনা।

(সপ্তবিংশ পর্ব আগামী রবিবার)

লেখকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন- 8584063724

২৫ম পর্বটি পড়তে ক্লিক করুন- https://agamikalarab.com/2020/05/07

Featured

ধারাবাহিক রচনা: আমাদের শ্রী অরবিন্দ(পর্ব-২৫)

শ্রী অরবিন্দ ও শ্রীমায়ের জীবনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত এই ধারাবাহিকটি ইতিমধ্যে পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। আমাদের বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠকমণ্ডলীর মধ্যে শ্রী অরবিন্দ ও মায়ের জীবনী নিয়ে চর্চা করেন কিংবা শ্রী অরবিন্দ আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত পাঠকও রয়েছেন নিশ্চয়ই। তাঁদের প্রতি আমাদের বিনম্র আবেদন যে, ধারাবাহিকটি পড়তে পড়তে কোনোরকম তথ্যভিত্তিক ত্রুটি চোখে পড়লে অনুগ্রহ করে তৎক্ষণাৎ আমাদের দপ্তরে যোগাযোগ করুন, অথবা লেখার শেষে কমেন্টেও জানাতে পারেন। এছাড়া লেখার নীচে দেওয়া লেখকের ফোন নম্বরে সরাসরি করতে পারেন যোগাযোগ। আমরা ত্রুটি মেরামতে সদা সচেষ্ট। –সম্পাদক

মুকুল কুমার সাহা: চেতনার অবতরণের ঝ পর্বে আমরা দেখলাম, মানুষের অন্তর্হৃদয়ে একটা বিশেষ কিছু অবতরণ করেছে; অধ্যাত্মজ্ঞানীরা যার নাম দিয়েছেন “জীবাত্মা”। জীবাত্মা বলতে তাঁরা বুঝিয়েছেন, ভগবানের সচ্চিদানন্দময় অংশগুলিকে। ভগবান যেখানে এক একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য নিয়ে সসীম ও সুষীম হয়ে নিজেকে ব্যক্ত করেছেন, তাঁরাই হচ্ছেন জীবাত্মা। আমাদের জীবন-মৃত্যু নিয়ে যে সৃষ্টিলীলা, তার ঊর্ধ্বে জীবাত্মারা রয়েছেন। সমগ্র জড় প্রকৃতি, প্রাণময় প্রকৃতি ও মনোময় প্রকৃতিকে ভগবানের যে নিম্ন শক্তি পরিচালনা করছেন, তাঁকেই আমরা একসঙ্গে প্রকৃতি বা নিম্ন প্রকৃতি বলে থাকি। জীবনমৃত্যু নিয়ে যে সৃষ্টিলীলা, তার ঊর্ধ্বে আর এক প্রকৃতি রয়েছে, তাকে পরা প্রকৃতি বলা হয়। জীবাত্মারা পরা প্রকৃতির মধ্যেই অবস্থান করেন। নিম্ন প্রকৃতির বিবর্তন চক্রে পৃথিবীতে নানা ধরণের জীব সৃষ্টির পর সবশেষে যখন মানুষের দেখা মিলেছে, তখন ঊর্ধ্ব প্রকৃতি থেকে জীবাত্মার প্রতিরূপ বা প্রতিচ্ছায়া অবতরণ করেছে মানুষের অন্তর্হৃদয়ে। তাকেই আমরা বলি হৃদপুরুষ বা অন্তরাত্মা বা চৈত্য পুরুষ। এই চৈত্য পুরুষকে আশ্রয় করেই মানুষের যে ব্যক্তিরূপ তাকেই সত্যকার ব্যক্তিরূপ বলা হয়।

আমরা যারা আমাদের সত্যকার ব্যক্তি রূপকে প্রথমে আমাদের মন বুদ্ধি দিয়ে জানব বলে ঠিক করেছি, এবং পরে সত্যকার ব্যক্তি রূপের প্রেরণায় নিজেদের জীবনকে পরিচালিত করব বলে মনস্থ করেছি; চেতনার অবতরণ পর্বটিকে সেই জন্য আমরা খুব যত্ন করে ধাপে ধাপে পড়ে নিচ্ছি।

চেতনার অবতরণ পর্ব (ঞ)

মানুষের মধ্যে হৃদ পুরুষেরও একটা ক্রম পরিণতি আছে, গোড়া থেকেই সে তার পূর্ণতা নিয়ে আবির্ভূত হয় না– জীবাত্মার কোনও পরিণাম নাই। তা নিত্যপূর্ণ। হৃদ পুরুষের লক্ষ্য হল এখানেই তার রাজ্যে জীবাত্মার স্বারূপ্য সাযুজ্য লাভ। হৃদ পুরুষ যখন বিবর্তনের প্রথম স্তরে দেখা দিয়েছে তখন সে থাকে যেন একটা বীজ মাত্র– মানুষের বাহ্য রূপ ও কর্মের অনেক পিছনে একটা বীজ বা একটুখানি ভস্মাচ্ছাদিত স্ফুলিঙ্গের মত; তার প্রথম অনুভূতি হয় অঙ্গুষ্ঠমাত্র পুরুষেরই আকারে। মানুষের জীবনযাত্রা আরম্ভ এই ক্ষুদ্র যবনিকা-অন্তরিত দীপ শিখাটি নিয়ে। সে জীবনযাত্রার, মানুষের জন্ম-জন্মান্তরের রহস্যই হল যাতে বীজটি ক্রমে মঞ্জরিত শাখায়িত পল্লবিত হয়ে ওঠে, স্ফুলিঙ্গ ক্রমে বহ্নি কুণ্ডে দীপশিখা ক্রমে সৌর জ্যোতির্মণ্ডলে পরিণত হয়। বীজের বৃক্ষের পরিণতির জন্য প্রয়োজন জল-বায়ু-সার; অগ্নির জন্য প্রয়োজন ইন্ধন। তেমনি হৃদ পুরুষের প্রকাশের অভিব্যক্তির জন্য প্রয়োজন পার্থিব জন্মের অভিজ্ঞতারাজি। নচিকেতা যে অগ্নিচয়ন সাধনায় যম কর্তৃক দীক্ষিত হয়েছিলেন, (যে অগ্নি হল “অনন্তলোকাপ্তিমথো প্রতিষ্ঠাৎ… নিহিতংগুহায়া‍ং“, যিনি হলেন দেহ প্রাণ মন এই তিনের সন্ধি– “ট্রিভিরেত্য সন্ধিং“) মনে হয়, তা এই অমর আন্তর-অগ্নি, মৃত্যুর অতীত এই চৈত্য পুরুষ।

শিশু যেমন বাড়তে থাকে জীবনের অনুভব উপলব্ধি অভিজ্ঞতা আত্মসাৎ করে করে ব্যক্তি পুরুষও তেমনি ক্রমে পরিপুষ্ট হয়ে ওঠে, তার সামর্থের শক্তির জ্ঞানের মাত্রা ও পরিধি বৃদ্ধিলাভ করে, জন্মের পর জন্মে যত সে অভিজ্ঞতা-উপলব্ধি চয়ন করে আত্মসাৎ করে চলে। এবং যত সে পুষ্ট ও পরিস্ফুট হয় ততই সে সম্মুখে এসে দাঁড়ায় অর্থাৎ সাক্ষাৎভাবে দেহ-প্রাণ-মনের নিয়ন্তা ও কর্তা হয়ে ওঠে এবং মন প্রাণ দেহ শেষে তাকে চিনতে পারে ও স্বীকার করে নেয় তাদের স্বরূপ, তাদের “নিজ-ত্ব” বলে। চৈত্য পুরুষ যখন সাক্ষাৎভাবে কর্তা ও নিয়ন্তা হয়ে উঠবার সংকল্প করেছে এবং দেহ-প্রাণ-মন তাতে একটা নিভৃত অনুমতি দিয়েছে, তখনই হল মানুষের প্রাকৃত জীবন পরিত্যাগ করে অধ্যাত্ম জীবনে উঠে চলা– এরই নাম আধ্যাত্মিক দীক্ষা। সাধারণ লৌকিক প্রাকৃত জীবনে চৈত্যপুরুষ হৃদপুরুষ আন্তর্ব্যক্তিত্ব থাকে অনেক পশ্চাতে অন্তরালে, তার প্রভাব গৌণ, তার আদেশ পরোক্ষ মাত্র।

হৃদ পুরুষের সাক্ষাৎ অপরোক্ষ ঈশিতার কল্যাণে মানুষের ব্যক্তিরূপ পরিবর্তিত রূপান্তরিত হয়ে চলে। প্রথমে মনোময় ব্যক্তিত্বকে অতিক্রম করে সে পায় একটা মানুষোত্তর বা সাক্ষাৎ জ্ঞানময় বা সম্বোধি-গঠিত ব্যক্তিত্ব, তারপর পায় অধিমানসের জ্যোতির্ময় বৃহৎ ব্যক্তিত্ব; পরিশেষে, সকল ব্যষ্টিত্ব ও ব্যক্তিত্বের গোড়াকার উৎস, মূল প্রতিষ্ঠা, আদি সত্য যেখানে ও যা সেই বিজ্ঞানময় বা অতিমানস সত্তায় মানুষ দেবতা, দেবতারও বেশি কিছু– ভগবানেরই স্বরূপ– হয়ে ওঠে। তখন জড়দেহের মধ্যে চিন্ময় ব্যক্তি শরীরী হয়ে ওঠে, জড় তখন জাগ্রতে চিন্ময় হয়েছে, মানব-ব্যক্তি হয়েছে এক এক ভাগবত বিগ্রহ। এই রকমে সৃষ্টি যেখান থেকে শুরু হয়েছে ঘুরে আবার সেখানেই ফিরে এসেছে, কিন্তু এক অভিনব অভূতপূর্ব সার্থকতা নিয়ে। অবশ্য সৃষ্টিলীলার শেষ এখানেও নেই, অনন্তের প্রকাশ অনন্ত, পরমাসিদ্ধির পরেও নবতর সিদ্ধির প্রকাশ ও লীলা স্বাভাবিক।

(ষড়বিংশ পর্ব আগামী রবিবার)

লেখকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন- 8584063724

২৪ম পর্বটি পড়তে ক্লিক করুন- https://agamikalarab.com/2020/04/28

Featured

মৈরাং: বিস্মৃত ১৪ই এপ্রিলকেই ইতিহাস দেবে অখণ্ড ভারতের স্বাধীনতা দিবসের কৃতিত্ব!

ঋদ্ধিমান রায়, আগামী কলরব: লক ডাউনের ক্লান্তিময় একঘেয়ে জীবনের নাগপাশে বন্দী সমাজের কর্মচঞ্চলতার প্রাণভ্রমরটি। আজ মূল্যহীন রবিবার! পয়লা বৈশাখের মত বাঙালিত্বের মাটিমাখা দিন পর্যন্ত আমাদের কেটেছে টিভির পর্দায় করোনা আক্রান্তের হিসেব কষা দেখতে দেখতে।
গত ১৪ই এপ্রিল দেশ জুড়ে লক ডাউনের মধ্যেও কমবেশি পালিত হয়েছে বাবাসাহেব আম্বেদকরের জন্মদিবস। এইরকম জরুরি পরিস্থিতির মধ্যেও এক কথায় বঞ্চিত হতে হয় নি ভারতীয় সংবিধানের জনককে। বাবাসাহেবের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা জানিয়েও বলতে হয়, ১৪ই এপ্রিল তারিখটি প্রত্যেক ভারতীয়ের শরীরের এক এক ফোঁটা রক্ত ও শিরা-উপশিরার সঙ্গে জড়িয়ে ওতপ্রোত ভাবে অন্য একটি কারণে! দুর্ভাগ্য যে, ১৪ই এপ্রিলের সেই দুর্বার আকর্ষণটি সম্পর্কে আমরা অধিকাংশ ভারতীয়ই বিস্মৃত। বোধ করি লক ডাউনের অলস মুহূর্তের কিছুটা সময় ফ্ল্যাশ ব্যাকে ফিরে যেতে আমাদের অসুবিধা হবে না!

আমরা রক্তে লেখা ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসের টাইম মেশিনে করে ফিরে যাচ্ছি ১৯৪৪ সালের ১৪ই এপ্রিল। স্থান– অজস্র পাহাড়-টিলায় ঘেরা জঙ্গলাকীর্ণ মণিপুরের মৈরাং। পড়ন্ত সূর্যের গৈরিক আভা সাক্ষী ঘন্টাখানেক ধরে চলা তুমুল এক যুদ্ধের! একদিকে দুর্ধর্ষ ব্রিটিশ সেনা, অন্যদিকে ভারতমায়ের কাছে বলিপ্রদত্ত আজাদ হিন্দ ফৌজের সেনারা। ব্রিটিশ সেনারা অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত, সংখ্যায় অনেক। তবু সেদিন সেই অসম যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীকে আজাদ হিন্দ ফৌজের কাছে কচুকাটা হতে দেখল মৈরাং।
অবশেষে ভারতের মাটিতে সেদিন ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা উড়ল কর্নেল এস.এ মালিকের নেতৃত্বে। সেই সঙ্গে সেদিন দেশের মাটির দখল নিল ভারতের স্বাধীনতার উদ্দেশ্যে সিঙ্গাপুরের মাটিতে গঠিত আজাদ হিন্দ সরকার, যার প্রধান ছিলেন নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু। এরপর মৈরাং এই প্রতিষ্ঠিত হয় আজাদ হিন্দ ফৌজের হেড কোয়ার্টার।
আপাতভাবে ঘটনাটি বিশেষ নজরে না আসলেও আমরা যদি এর ঐতিহাসিক মূল্য সম্পর্কে সচেতন হই, তাহলে আমাদের শরীরের প্রতিটা রোম পর্যন্ত উপলব্ধি করতে পারবে ১৪ই এপ্রিলের মাহাত্ম্য। আরো একবার ইতিহাস রাজনৈতিক বেসাতির হাট থেকে বেরিয়ে এসে আত্মপ্রকাশ করবে স্বমহিমায়।
ইতিহাস দেখাতে সক্ষম হবে ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগষ্ট প্রাপ্ত স্বাধীনতা সাধারণ ভারতীয়দের চোখে ঠুলি গুঁজে দিয়ে গোলটেবিলে বসে ইংরেজ ও ভারতীয় নেতাদের মধ্যে চুক্তিভিত্তিক একটি ব্যবসায়িক ক্ষমতা হস্তান্তর ছাড়া আর কিছুই নয়! সেখানে ইংরেজের তত্ত্বাবধানে দুজন বেনিয়ার দেশকে দু টুকরো করে নিজের পাওনা গন্ডা বুঝে নেওয়াই সার।

কিন্তু ১৯৪৪ এর ১৪ই এপ্রিল কোনোরকম দরকচাকচি কি ভিক্ষাবৃত্তি নয়, ব্রিটিশের দর্পকে মৈরাং এর মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে স্বাধীন ভারতের মাটি ছিনিয়ে নিয়েছিল আজাদ হিন্দ ফৌজ। এমনকি ভারতের প্রায় ১৫০ মাইল এলাকা আজাদ হিন্দ ফৌজ ইংরেজ-মুক্ত রাখতে সক্ষম হয়। সেই সব অঞ্চলে প্রায় দেড় বছর ধরে আজাদ হিন্দ সরকারের প্রত্যক্ষ শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। আজাদ হিন্দ সরকারের প্রবর্তিত ব্যাংক, নোট, ডাকটিকিটেরও প্রচলন শুরু হয় সেই সব এলাকায়।
সেই সময় দুর্নীতির পাঁকে নিমজ্জিত ভারতের প্রথম সারির নেতারা আজাদ হিন্দ সরকারকে সাহায্য করলে হয়ত আজকের চুক্তিভিত্তিক দু টুকরো জমি লাভ নয়, অখণ্ড ভারতের মাটিতেই ইংরেজদের উৎখাত করা সম্ভবপর হত। কোটি কোটি মানুষের রক্ত ও চোখের জলের বিনিময়ে স্বাধীন হতে হত না। অবশ্য, ১৯৪৫ এর পরবর্তীতে নেতাজী ভীতিই যে ইংরেজকে দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের টেবিলে বসতে বাধ্য করায় এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।
যাই হোক, মৈরাং এর আজাদ হিন্দ ফৌজের হেডকোয়ার্টারটিকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর সময়ে আই.এন.এ এর স্মৃতিতে মিউজিয়ামে রূপান্তরিত করা হয়। সিঙ্গাপুরে নেতাজী আজাদ হিন্দ ফৌজের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে যে শহীদ বেদীটি তৈরি করিয়েছিলেন, তার আদলে একটি শহীদ বেদীও প্রতিষ্ঠা করা হয় সেখানে।
ইতিহাসের চাকা নিজের গতিতে এগিয়ে যায়, সেই গতি রোধ করা সম্ভব নয়। রোধ করতে প্রয়াসী হলে ইতিহাসের চাকা তাকে নির্মম ভাবে পিষে দিয়ে যায়! দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেস-কমিউনিস্ট সরকারের চাটুকার ঐতিহাসিকদের তৈরি করা অসত্য ইতিহাস ভারতের স্বাধীনতা লাভে নেতাজী ও আজাদ হিন্দ সরকারের ভূমিকার কথা চেপে রেখেছিল গান্ধীজির অলীক চরকা-কাটা স্বাধীনতার গালগল্পের নীচে! আজ সেই অবদমিত আজাদ হিন্দ ফৌজের আত্মবলিদানের উত্তপ্ত রক্ত শান্তিময় চরকার কাঠে ফাটল ধরিয়ে দিয়েছে। অখণ্ড ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা ইতিহাস নেতাজীর হাতেই তুলে দিয়েছে।
আমরা জানি ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। সেই বিশ্বাস থেকেই ধরে নেওয়া যেতে পারে, কোটি মানুষের রক্তে নিন্দিত ১৫ই আগস্টের টুকরো করা রাজনৈতিক বোঝাপড়া নয়; ভারতের প্রকৃত স্বাধীনতার দিন হিসেবে ভবিষ্যতের ইতিহাস স্বীকৃতি দেবে ১৯৪৪ এর ১৪ই এপ্রিলকেই, যেদিন উদ্ধত ইংরেজের হাঁটু ভেঙে দিয়ে ভারত ভূমির দখল নিয়েছিল ভারতেরই জাতীয় সরকার! নেতাজীর অমোঘ গর্জন সেদিন প্রতিষ্ঠা পাবে– স্বাধীনতা কোনো ভিক্ষার জিনিস নয়, যা দানে পাওয়া যায়। স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিতে হয়।

Featured

ধারাবাহিক রচনা: আমাদের শ্রী অরবিন্দ(পর্ব-২৪)

শ্রী অরবিন্দ ও শ্রীমায়ের জীবনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত এই ধারাবাহিকটি ইতিমধ্যে পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। আমাদের বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠকমণ্ডলীর মধ্যে শ্রী অরবিন্দ ও মায়ের জীবনী নিয়ে চর্চা করেন কিংবা শ্রী অরবিন্দ আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত পাঠকও রয়েছেন নিশ্চয়ই। তাঁদের প্রতি আমাদের বিনম্র আবেদন যে, ধারাবাহিকটি পড়তে পড়তে কোনোরকম তথ্যভিত্তিক ত্রুটি চোখে পড়লে অনুগ্রহ করে তৎক্ষণাৎ আমাদের দপ্তরে যোগাযোগ করুন, অথবা লেখার শেষে কমেন্টেও জানাতে পারেন। এছাড়া লেখার নীচে দেওয়া লেখকের ফোন নম্বরে সরাসরি করতে পারেন যোগাযোগ। আমরা ত্রুটি মেরামতে সদা সচেষ্ট। –সম্পাদক

মুকুল কুমার সাহা: ‘চেতনার অবতরণ’ এর জ পর্বে ও তার আগের পর্বগুলি থেকে আমরা জানতে পেরেছি, জড়ে যখন প্রাণশক্তি নেমে এসেছে, তখন থেকেই ব্যষ্টির সূচনা হয়েছে। প্রাণীর মধ্যে এসে ব্যষ্টিত্ব স্পষ্ট দেখা দিয়েছে। প্রথমে সৃষ্টির নিম্নভূমিতে শুধুই জড় ছিল, জড় ও প্রাণের মিলনে প্রথমে ছোট ছোট আকার নিয়ে ব্যষ্টির সূচনা হয়। বিবর্তনের পদ্ধতিতে ক্রমে ক্রমে উন্নততর প্রাণীর সৃষ্টি হয়। সবশেষে জড়, প্রাণশক্তি ও মনশক্তির মিলনে মানুষ সৃষ্টি হয়। মানুষের অন্তর্হৃদয়ে যখন আর একটি সত্য চৈতন্য ও আনন্দের অবতরণ ঘটে, ফলে ব্যক্তিত্বের সূচনা হয় মানুষের মধ্যে। শ্রীঅরবিন্দ যার নাম দিয়েছেন ‘চৈত্য পুরুষ’। খুব সম্ভব, শ্রীরামকৃষ্ণদেব যাকে বলতেন আমাদের ‘পাকা আমি’। মানুষের আগে পর্যন্ত যে ব্যষ্টিত্ব দেখা দিয়েছে ক্রমে পরিপুষ্ট হয়েছে, তার উদ্দেশ্য হল এমন একটি কাঠামো তৈরি করা যার মধ্যে ব্যক্তিত্ব ধরা দিতে পারে, তার কাজ করতে পারে।

ভগবানের যে শক্তিকে প্রকৃতি বলা হয়, তার দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফল এই মানুষ নামক জীবটি। এই মানুষ নামক জীবের মধ্যেই ভগবানের এই বিশেষ শক্তি চৈতন্য অবতরণ করেছে; যার ফলে মানুষের মধ্যে ব্যক্তিত্ব দেখা দিয়েছে। এর পরের চেতনার অবতরণের পর্বগুলিতে এ ব্যাপারে বিশদে জানতে পারব আমাদের অন্তর্হৃদয়ে ভগবানের কোন শক্তি অবতরণ করেছে যা জড় জগতের অন্য কোনো জীবের মধ্যে নেই। এমন কি, মনোময় জগতের অসুর, প্রাণময় জগতের যক্ষ-রক্ষেরও এই অন্তর্হৃদয় নেই। মানুষের মধ্যে ভগবানের যে বিশেষ শক্তি অবতরণ করেছে যার ফলে মানুষ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছাকৃত ভাবে রূপান্তরের যোগ্যতা অর্জন করেছে।

চেতনার অবতরণ পর্ব (ঝ)

মানুষের অন্তর্হৃদয়ে অবতরণ হয়েছে, কিন্তু অবতরণ করেছে কে, কে অবতারী? সে নিজেও নিশ্চয়ই এক ব্যক্তিস্বত্তা, কারণ তারই অবতরণে মানুষের ব্যক্তিসত্তা। সে আর কেউ নয়, সে হল “জীবাত্মা”। জীবাত্মা কাকে বলি? ভগবানের আপন সচ্চিদানন্দময় আনন্ত‍্যে ফুটে উঠেছে ভগবানের সচ্চিদানন্দময় শান্ত তরঙ্গ বা অংশ সব– এমন সব কেন্দ্র, এমন সব বিন্দু যেখানে ভগবান এক একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য দিয়ে সসীম ও সুসীম হয়ে (আনন্ত‍্যের সঙ্গে পূর্ণ সাক্ষাৎ সংযোগ ও একত্ব অক্ষুণ্ন রেখেই) দেখা দিয়েছে, সম্মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। এইসব কেন্দ্রবিন্দু অংশ হল জীব বা জীবাত্মা। তবে জীবাত্মারা সৃষ্টিলীলার বাহিরে– তারা ভগবানের পরা প্রকৃতির রূপায়ণ, তারা সনাতন অক্ষয় অব্যয়। মানুষের মধ্যে এই জীব অবতরণ করেছে হৃদয়পুরুষ চৈত্যপুরুষ অন্তরাত্মা হয়ে। সৃষ্টির বিবর্তন ধারার বাহিরে যা হল জীব, বিবর্তনের মধ্যে মানুষে তার প্রতিরূপ প্রতিচ্ছায়া হল হৃদপুরুষ। জীবাত্মার অবতরণ, হৃদপুরুষের আবির্ভাব হয় মানুষকে তার নিম্নতন প্রকৃতি হতে ঊর্ধ্বতর অধ্যাত্ম চেতনায় তুলে ধরবার জন্য, তার প্রকৃতিকে পরিবর্তিত রূপান্তরিত করবার জন্য। এই হৃদপুরুষই অন্তর্যামী হয়ে, আন্তর ঈশ্বর হয়ে মানুষের আধারকে প্রাকৃত দেহ-প্রাণ-মনকে ধারণ করে নিয়ন্ত্রিত করে আধেয়রূপে আপন নিভৃত ও নৈসর্গিক ভাগবত জ্যোতির প্রভাবে ও চাপে আধারকে ক্রমে পরিশুদ্ধ ও পরিবর্তিত করে চলে।

এই অন্তর্হৃদয় বা চৈত্যপুরুষ তাহলে দেখছি এক দিক দিয়ে মানুষকে তার আদি মূল যে ভাগবত সচিদানন্দময় স্থিতি সেই দিকে উন্মুখী ও উন্মুক্ত রেখেছে। আর এক দিক দিয়ে মানুষের সমগ্র প্রাকৃত সত্তাকে ধারণ করেছে, ভরণ করেছে, শোধন করেছে। চৈত্যপুরুষের স্বরূপ হল এই যে সে দেহ প্রাণ মনের ভাগবত অধিষ্ঠাতা এবং তার স্বাভাবিক ধর্ম ও কর্ম হল আপনার চেতনার দিব্য তেজে মনকে প্রাণকে দেহকে অজ্ঞানের ধর্মকর্ম হতে ক্রমে মুক্ত করে জ্ঞানের ধর্ম-কর্মে প্রতিষ্ঠিত করা। এই চৈত্যপুরুষকে আশ্রয় করেই মানুষের সত্যকার ব্যক্তিরূপ– বাহিরে যে ব্যক্তিরূপ দেখি, যা মন-প্রাণ-দেহের একটা বিশেষ গঠন, তা এই সত্যকার ব্যক্তিরূপের ছায়া, প্রতিধ্বনি, অনেক সময় বিকৃতি। এই চৈত্যপুরুষের ক্রমবর্ধমান প্রকাশের ফলেই মানুষের ব্যক্তিরূপও ক্রমে পরিশুদ্ধ পরিস্ফুট হয়ে ওঠে, অবশেষে লাভ করে ভাগবত ব্যক্তিত্ব।

(পঞ্চবিংশ পর্ব আগামী রবিবার)

লেখকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন- 8584063724

২৩ম পর্বটি পড়তে ক্লিক করুন- https://agamikalarab.com/2020/04/21

Featured

কলকাতার ফেরিওয়ালা

প্রিয়াঙ্কা সিংহ: কলকাতায় এখন ফ্ল্যাট বাড়ির সংখ্যা অনেক বেশি। এসব বাড়িতে ফেরিওয়ালাদের প্রবেশাধিকার নেই। দোকান থেকে বাড়িতে বিনা পয়সাতে জিনিস পৌঁছান দোকানদার। আর আজ-কাল তো অনলাইনেই সব কিছু পৌঁছায় বাড়িতে। কিন্তু ভাবতে অবাক লাগে, আজ থেকে একশ বছর আগে এই ফেরিওয়ালারাই ছিল শহর কলকাতার এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ!
উনিশ শতকের কলকাতায় সকাল থেকে শুরু হয়ে যেত ফেরিওয়ালার আনাগোনা। ফেরিওয়ালাদের সাইন বোর্ড হল তাদের হাঁক-ডাক। উনিশ শতকের কলকাতার রাস্তাতে অলিগলিতে ফেরিওয়ালাদের যে সব ডাক শোনা যেত সেগুলো ছিল এই রকম – ‘সরাগুড়, তিলকুটো, সন্দেশ, মুকুন্দ মোয়া’, ‘বাত ভালো করি’, ‘দাঁতের পোকা বার করি’, ‘মাজন,’ ‘চাই শাঁখা ,চাই সিঁদুর’ , ‘চাই দই ,ভালো দই’ ইত্যাদি ইত্যাদি ।

মরসুম বদলানোর সাথে সাথে ফেরিওয়ালার ফিরি করার জিনিস বদলে যেত। গরম কালে আমওয়ালা হাঁকত ‘চাই ল্যাংড়া আম, ফজলি আম’। শোনা যেত ‘লে লে বাবু, মুজাফরপুরকা লিচি’। এরা ছিল প্রধানত বিহারী (মুখে ‘হিন্দুস্থানী’ প্রচলিত) ফেরিওয়ালা। গরম কালে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শোনা যেত ‘বরফ, মালাই কুলফি বরফ, রাবড়ির কুলফি বরফ’– এর ডাক। মাঝরাতে ‘কালো কুলফি বরফ’ এর ডাক শোনা যেত, সেটা ছিল সিদ্ধির কুলফি। পাশাপাশি শোনা যেত ‘চাই বেল ফুলের মালা’ জাতীয় ডাক ।
শীতকালে এই ডাক বদল হত। শোনা যেত ‘জয়নগরের মোয়া, পাতালি গুড়’ জাতীয় ডাক ।
শহর কলকাতার বয়সের বেড়ে ওঠার সাথে অনেক কিছু পালটাতে থাকে। মানুষের প্রয়োজন ও রুচি বদলাতে থাকে। কাঁসার বদলে স্টিলের বাসনের চলন হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে হারিয়ে গেছে ‘কাঁসার বাসন চাই’ ডাকও।
এক সময় ফেরিওালারা বিলিতি চুড়ি, সাবান ফিরি করত। এখন সবই অনলাইন। পাউরুটি, বিস্কুট ফেরিওয়ালারা কোথাও কোথাও টিকে থাকলেও এরাও এখন অদৃশ্য হওয়ার পথে ।
সেকালের কলকাতার সাহেব পাড়াতে দেখা যেত চীনা ফেরিওয়ালাদের । এরা ফেরি করতো জাপানি সিল্ক, চীনে কোট,পাজামা ইত্যাদি। মেম সাহেবরা খুব পছন্দ করত এদের থেকে কিনতে।

কলকাতাতে একটা সময় কাবুলিওয়ালারাও হিং, পেস্তা, বাদাম আর শুকনো মেওয়া ফেরি করত। ‘শিশি-বোতল বিক্রি আছে’ জাতীয় হাঁকডাক কাদের সে কথা আজও বিশদ ভাবে বুঝিয়ে বলতে হয় না।
ফেরিওয়ালা আমাদের নিত্যদিনের পরিচিত মুখ। তাদের সবকিছুই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে বা কানে বেজে ওঠে। তারা নানা স্বরে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করেন। সারা দিন রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা ফেরি করে বেড়ান। আমাদের দেশে এঁরা শহরের অঙ্গ, আর কলকাতা শহরের তো বটেই।

Featured

মুক্তি

“মিনতি আবার অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তার শিরায় উপশিরায় রোগের সঙ্গে বাসা বেঁধেছে বেদনা। তার ইচ্ছে হলে হয়ত সে আবার সুস্থ হয়ে উঠতো। কিন্তু সে মন থেকে আর সুস্থ হতে চায় না। এই বিশাল পৃথিবীর ছোট্ট সমাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে মিনতি।”

প্রসেনজিৎ মজুমদার: রহিম মাধ্যমিক পাস করার পর শহরের এক স্কুলের একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হয়। স্কুলের সাথে সাথে বাড়িতেও একটি টিউশনিতে ভর্তি হয়।
এখানে প্রত্যেকটা বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা মাস্টার। প্রচুর ছেলেমেয়েরা একসাথে পড়ে, যেনো এও এক স্কুল। এখানে একটি মেয়ে মিনতি, পড়াশোনাতে খুব ভালো। রহিমও পড়াশোনাতে খুব একটা খারাপ যায় না। রহিমের সাথে মিনতির খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়। মাস্টারমশাইরা মিনতিকে ভালোবাসতেন, কারণ মিনতি রোজ ক্লাসে পড়া দিত। তবে রহিমকে মাঝেমধ্যে বকাও খেতে হত।
যাই হোক, গল্প মিনতি কে নিয়ে।

মিনতি মাঝেমধ্যেই পড়তে আসা বন্ধ করত এবং পরে এসে রহিমের কাছ থেকে নোটস নিয়ে নিত। কিন্তু মিনতির এ পড়া বন্ধ করা, যেন অভ‍্যাসে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। প্রায় সে পড়া বন্ধ করত। আর কারণ জিজ্ঞাসা করলে অজুহাত দিত অসুস্থতার।

এর কিছুদিন পর আবার মিনতি পড়া বন্ধ করল এবার যে পড়া বন্ধ করল। তা আর এক-দুদিনের জন্য নয়। দেখতে দেখতে দুমাস পার হয়ে যায়। মাস্টারমশাইরা মিনতির বন্ধুদের জিজ্ঞেস করলে কেউ কোন উত্তর দিতে পারে না। এমন কি তার বাড়িও কেউ চেনে না, যে গিয়ে তার খোঁজ নেবে, কেন মিনতি পড়তে আসে না।
দেখতে দেখতে ক্লাসের ফাইনাল ইয়ার চলে আসে, পরীক্ষার ঠিক আগের মুহূর্তে একদিন বাংলা ক্লাসে অন্য এক মাস্টারমশাই এসে জানালেন যে মিনতি গত তিন মাস ধরে হসপিটালে ভর্তি। বাংলার মাস্টারমশাই সহ সব ছেলেমেয়েরা অবাক হয়ে গেল। ছেলেমেয়েদের মধ্যে কৌতূহল বাসা বাঁধলো। প্রত্যেকের মনে একই প্রশ্ন, কী হয়েছে মিনতির? একটা থমথমে পরিস্থিতির মধ্যে মাস্টারমশাই সবাইকে বললেন,’মিনতি থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত, মাসে মাসে তাকে রক্ত দিতে হয়। রক্তের জন্য অনেক টাকার দরকার। কিন্তু তার বাড়ির অবস্থা ভালো নয়। মিনতি বাবা একজন বাস কন্ডাক্টর। মেয়ের চিকিৎসার জন্য জমানো টাকা-পয়সা সবকিছু শেষ করে দিয়েছে। এখন তোমরা যে যা পারবে কিছু কিছু টাকা সাহায্য করে তোমাদের এই বন্ধুকে আবার তোমাদের পাশে ফিরিয়ে আনো। আমাদের সকলের আশীর্বাদ আর তোমাদের প্রার্থনায় সে নিশ্চয়ই ভালো হয়ে যাবে।’
সকলের চেষ্টায় এবং পাড়ার লোকেদের সাহায্যে সে ধীরে ধীরে অনেকটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরে। তাকে দেখলে কে বলবে যে কয়েকদিন আগেই জীবন-মৃত্যুর কিনারায় দাঁড়িয়ে ছিল!

একাদশ শ্রেণির পরীক্ষা শেষ, সে পরীক্ষা দিতে পারে নি। মিনতি যেহেতু পড়াশোনাতে ভালো, তাই স্কুলের হেড মিস্ট্রেস এর কাছে পরীক্ষা দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল।
ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে কিছুদিন হল। মিনতি অকারণে একটা বছর নষ্ট হতে দিতে চায় না।
স্কুলের হ‍েডমিস্ট্রেস তার পরীক্ষার আবেদন মঞ্জুর করলেন। পরীক্ষার জন্য এক মাস সময়ও দিলেন।

সে কিছুতেই হারতে চায় না। জন্ম থেকে এই রোগের সাথে লড়াই করে সফল হয়েছে, ক্লাসে বছরের পর বছর প্রথম স্থান দখল করে রেখেছে। তার শরীর ঠিক থাকলে হয়তো এবছরও প্রথম হত। তার জীবনের সময় অতি মূল্যবান। তাই সে কিছুতে সময় নষ্ট করতে চায় না।

সব ঠিক ঠাকই ছিল,
বিপত্তি ঘটলো পরীক্ষা ঠিক আগের দিন স্কুলে। হেডমিস্ট্রেস তাকে জানিয়ে দিলেন যে সে পরীক্ষা দিতে পারবে না। স্কুলের বেশ কয়েকজন সহশিক্ষিকা এবং সম্পাদকমন্ডলী এই পরীক্ষা নিতে দেবেন না। তিনি এও জানিয়ে দিলেন তাঁর পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়।
কথাটা শুনে মিনতির দুচোখ ভরে গেল জলে। চোখের জল ফেলতে ফেলতে সে নিরুপায় হয়ে বাড়ি ফিরে এল।
আবার নতুন করে তাকে পড়া শুরু করতে হবে নতুনদের সাথে। তার চোখের সামনে তার বন্ধুরা উঁচু ক্লাসে পড়বে, এটা সে কিছুতেই মানতে পারবে না।

দিনের-পর-দিন মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিল সে। মাঝে একদিন রহিমের সাথে দেখা হয় মিনতির। রহিম তার মুখে সমস্ত কথা শুনে তাকে বোঝালো, তাকে নতুন করে ভাবতে প্রেরণা জোগাল। কিন্তু মিনতি কিছুতেই নিজেকে শক্ত করে রাখতে পারছে না। সে যে বাঁচার জন্য! সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য! তার শরীরটাকে ইস্পাতের মতো কঠিন করে রেখেছিল। আজ তা এক উড়ো ঝড়ে শেষ হতে বসেছে।
সে মেনে নিতে পারেনি। তার, নিজের জীবনের প্রতি ঘৃণা জন্মে গিয়েছিল। ধীরে ধীরে সে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ল।

ওই ছোট্ট মেয়েটির তার স্বপ্নকে কোথায় যেন হারিয়ে ফেলে।

মিনতি আবার অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তার শিরায় উপশিরায় রোগের সঙ্গে বাসা বেঁধেছে বেদনা। তার ইচ্ছে হলে হয়ত সে আবার সুস্থ হয়ে উঠতো। কিন্তু সে মন থেকে আর সুস্থ হতে চায় না। এই বিশাল পৃথিবীর ছোট্ট সমাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে মিনতি। দীর্ঘদিন ধরে কঠিন রোগের সাথে সংঘর্ষ করতে করতে ও আজকের মত এত ক্লান্তি দুর্বলতা আগে অনুভব করে নি। সে এবার জীবনটা আনন্দ উল্লাসে কাটাতে চায়। তাই মিনতি পৃথিবী থেকে মুক্তি নিল।

Featured

ধারাবাহিক রচনা: আমাদের শ্রী অরবিন্দ(পর্ব-২৩)

শ্রী অরবিন্দ ও শ্রীমায়ের জীবনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত এই ধারাবাহিকটি ইতিমধ্যে পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। আমাদের বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠকমণ্ডলীর মধ্যে শ্রী অরবিন্দ ও মায়ের জীবনী নিয়ে চর্চা করেন কিংবা শ্রী অরবিন্দ আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত পাঠকও রয়েছেন নিশ্চয়ই। তাঁদের প্রতি আমাদের বিনম্র আবেদন যে, ধারাবাহিকটি পড়তে পড়তে কোনোরকম তথ্যভিত্তিক ত্রুটি চোখে পড়লে অনুগ্রহ করে তৎক্ষণাৎ আমাদের দপ্তরে যোগাযোগ করুন, অথবা লেখার শেষে কমেন্টেও জানাতে পারেন। এছাড়া লেখার নীচে দেওয়া লেখকের ফোন নম্বরে সরাসরি করতে পারেন যোগাযোগ। আমরা ত্রুটি মেরামতে সদা সচেষ্ট। –সম্পাদক

মুকুল কুমার সাহা: ‘চেতনার অবতরণ’ এর ছ পর্বে আমরা দেখলাম, চেতনা মন থেকে প্রাণে নেমে এসেছে। মন ও প্রাণের সন্ধিস্থলে রয়েছে এক ধরনের জীব, তাদের নাম দেওয়া হয়েছে অসুর। প্রাণের মধ্যভাগে যে জীব রয়েছে তাদের নাম দেওয়া হয়েছে রাক্ষস। প্রাণের অন্য এক দিকে রয়েছে যক্ষ-রক্ষ-গন্ধর্ব-কিন্নর প্রভৃতি। প্রাণের অধমাঙ্গের জীবদের বলা হয় পিশাচ-জিন-দানা প্রভৃতি। প্রাণ যখন জড়কে স্পর্শ করছে সেখানেও বিভিন্ন ব্যক্তিসত্তা রয়েছে। সবশেষে একান্ত জড়ের স্তরে ব্যক্তিসত্তা নেই।

তারপরে বিবর্তনের ধারা শুরু হয়েছে। তখন ব্যক্তিত্ব জিনিসটিও গড়ে উঠেছে এক নবতর আকৃতি প্রকৃতি নিয়ে। প্রাণীর মধ্যে এসে ব্যষ্টিত্ব দেখা দিয়েছে, মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যক্তিত্ব।

তাহলে যত জগতে যত জীব রয়েছে সে সব সূক্ষ্ম ও স্থূল যাই হোক না কেন, তারা ভালো বা মন্দ যাই হোক, সবাই ভগবান থেকেই এসেছে এটাই বোঝা যায়। যে সব জীবেরা ভগবানের সঙ্গে একটা সম্পর্ক রেখে চলেছে তারাই দেবতা। আর যারা নিজেরা ভগবান থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে স্বপ্রতিষ্ঠিত হতে চেষ্টা করেছে, তারা হয়ে উঠেছে আত্মমুখী ও আত্মভোগপরায়ণ। তারাই ভগবত-বিরোধী শক্তি।

চেতনার অবতরণ পর্ব (জ)

মানুষের আগে পর্যন্ত যে ব্যষ্টিত্ব জন্ম নিয়েছে, ক্রমে পরিপুষ্ট হয়েছে, তার উদ্দেশ্য হল এমন একটা কাঠামো তৈরি করা যার মধ্যে এসে ব্যক্তিত্ব ধরা দিতে পারে, তার কাজ করতে পারে। মানুষের সমুন্নত সুসংগঠিত দেহখানিও ঠিক এই রকমেরই প্রকৃতির একটা সুদীর্ঘকালব্যাপী প্রয়াসের ও সাধনার পরিণতি। পরিপুষ্ট দেহে পরিপুষ্ট ব্যষ্টিত্ব ( অর্থাৎ কেবল দেহ নয়, দেহ প্রাণ ও মনের একটা বৈশিষ্ট্যময় সংগঠন) ফুটে উঠেছে এবং পরিপুষ্ট ব্যষ্টিত্বে আবির্ভূত হয়েছে ব্যক্তিত্ব। দেহ যদি ব্যষ্টিত্বের আধার, ব্যষ্টিত্ব তবে ব্যক্তিত্বের আধার। এই ব্যক্তিত্ব কী? জিজ্ঞাসা তবে করতে হয় আধারের আধেয় কী? এখানে আমাদের বলতে হবে আরেক অবতরণের কথা– চেতনার চতুর্থ অবতরণ।

এই অবতরণ ঘটেছে মানুষের হৃদয়ে– অন্তর্হৃদয়ে। মানুষের মনুষ্যত্ব বা ব্যক্তিত্ব অর্থ হৃদ পুরুষের আবির্ভাব। আমি বলেছি প্রাণ ও মনের সন্ধিস্থল হৃদয়– তা হল হৃদয়াবেগের ভাবালুতার ক্ষেত্র; কিন্তু এ হৃদয়ের বহিরঙ্গ। হৃদপিণ্ড যেমন সমস্ত শরীরকে সতেজ সক্রিয় রেখেছে, এক করে রেখেছে– উপনিষদে যেমন বলে আধারের শত নাড়ি হৃদয়ে এসে মিলেছে– তেমনি অন্তর্হৃদয়ে মানুষের সমগ্র আধারকে, মন বুদ্ধি হতে ইন্দ্রিয় পর্যন্ত যাবতীয় অঙ্গকে, একটা সমষ্টিগত সুষম অখণ্ড আকার দিয়েছে, নিয়ন্ত্রিত পরিচালিত করেছে। এই অন্তর্হৃদয় মানুষেরই আছে, আর কোনও সত্তার কি জীবের নাই– মনোময় স্তরের অহংমূর্তি অসুরের এ হৃদয় নাই, প্রাণময় স্তরের যক্ষ রক্ষেরও নাই, পার্থিব প্রাণীর উচ্চতম শ্রেণীর মধ্যেও ঠিক এই জিনিসটি নাই। মানুষের মধ্যে এই অভিনব সৃষ্টি। কারণ মানবাধারে এ যে সশরীরে– অর্থাৎ স্বরূপে– অবতীর্ণ হয়েছে, উচ্চতম পশুর মধ্যে বড়জোর পাওয়া যায় এর খণ্ড প্রকাশ, বিক্ষিপ্ত বৃত্তি অনিশ্চিত রেখা (মানুষের নিজেরই মধ্যে যেমন তার ঊর্ধ্বস্থ অধিমানস চেতনার প্রকাশ এখানে- ওখানে এখন-তখন দেখা যায় বটে কিন্তু অধিমানস স্বয়ং সেখানে নামে নাই)। প্রাণীর মধ্যে– উচ্চতর পশুর হৃদ কেন্দ্রে– “চৈত্যসত্তা” ক্রমে দেখা দিয়েছে বটে, কিন্তু– “চৈতপুরুষ” দেখা দেয় নাই। অন্তর্হৃদয়ের চৈতপুরুষের পূর্ণ অবতরণের একটি অভূতপূর্ব সার্থকতা হল এই যে মানুষের মধ্যে রূপান্তরের, সজ্ঞান ও স্বেচ্ছাকৃত রূপান্তরের সম্ভাবনা এসেছে। এই অবতরণের ফলেই মানুষের মধ্যে জেগেছে যে আত্ম-সম্বিৎ তা কেবল আত্মজ্ঞানে নয় তা আবার ঊর্ধ্বমুখী আত্মশক্তি অর্থাৎ সে নিজেকে নিজে ঘুরে এখন দেখতে পায় এবং সেই সঙ্গে নিজের উপর নিজে একটা দিব্য-ভাবে কাজ করতেও পারে। বিবর্তনের পূর্ব পূর্ব স্তরে এক পদবী হতে আর এক পদবীতে উঠতে হলে মৃত্যুর ভেতর দিয়ে যেতে হত এবং তা ঘটতে পারত সজ্ঞানে নয় অজ্ঞানে। কোনও বন মানুষ নিজেকে পরিবর্তিত করে করে মানুষে পরিণত হয় নাই– এমন কখনও ঘটেনাই যে আজ যে বনমানুষ কাল বা পরশু সে মানুষ হয়ে উঠেছে। বনমানুষের পরে মানুষ দেখা দিয়েছে নিশ্চয়ই, কিন্তু মানুষ যখন দেখা দিয়েছে তখন মানুষ রূপে এসে দেখা দিয়েছে তখন মানুষ রূপেই সে দেখা দিয়েছে। সে যা হোক, মানুষ কিন্তু এখন আর এক পদবীতে ধাপে– দেবত্বে উঠতে চায়, তবে সে তা পারে মানুষ থেকেই, মানুষের পরিবর্তন সাধন করে, একই আধারের মধ্যে; এ জন্য তাকে মৃত্যুর দুয়ার পার হতে হয় না।

(চতুর্বিংশ পর্ব আগামী রবিবার)

লেখকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন- 8584063724

২২ম পর্বটি পড়তে ক্লিক করুন- https://agamikalarab.com/2020/04/15

Featured

Jadurhati welcomes Seva to face COVID 19

Gautam Guha, Agami Kalarab: Helping others it’s a fundamental part of humanity, bonding together and helping a fellow man or woman. In times of tragedy, the stories of those who help others are inspiring, such as helping the nation recover from national disasters. Some men and women even devote their lives to helping others, who risk their lives for the common good. At this grave situation when whole world is horrified and unified to resist COVID19 then Dakshin Kolkata Krira O Sangskritik Parishad has been has setup a Corona Relief Camp at Baduria block, Jadurhati village to provide support to the needy people who have been badly hit by the coronavirus issue. Jadurhati SEVA Unit incharge Sri Puskar Kabasi told as a responsible citizen it’s our first priority to be with poor families and children’s.

From 23rd March 2020 they have initiated several camps to regenerate helping hands in this area. Inspired by SEVA West Bengal Secretary Sri Sevabrata Das and his uncle Apurba Kabasi MBBS Calcutta Medical College he urgued that,“No one has ever become poor by giving.” They have so far delivered rice, pulses, sugar, potatoes and spices to about 500 helpless needy people. They have also made arrangements for delivering prepared food to their homes. From the experiences of National Youth Volunteer and social work background he said that, “This is being arranged for very propose. We will continue to serve the people for until the lockdown is lifted.”

Featured

বঙ্গাব্দের জন্ম বৃত্তান্ত: এক অজানা ইতিহাস

গৌতম গুহ, আগামী কলরব: বাংলা বর্ষপঞ্জি বা বঙ্গাব্দের শুরু কোথায়? এবারের পয়লা বৈশাখে ১৪২৭ বঙ্গাব্দের শুরু হবে। এবছর দুই বাংলাতেই পয়লা বৈশাখ একই দিনে, ১৪ এপ্রিল। মজার ব্যাপার হল, গত বছর কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ ছিল ১৫ এপ্রিল। কিন্তু ঢাকাতে মানে বাংলাদেশের জাতীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে পয়লা বৈশাখ ছিল ১৪ এপ্রিল তারিখে। আমাদের বাংলা ক্যালেন্ডারের সঙ্গে মাসের দিনসংখ্যাও অনেকটাই আলাদা ওদেশে। কেন এই পার্থক্য?
দেশভাগের আগে তো একটাই বাংলা ছিল। এই বঙ্গভূমিতে কোন বর্ষপঞ্জি অনুসৃত হতো? ঢাকার দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ আর কলকাতার স্যার সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় কি আলাদা পয়লা বৈশাখ মানতেন? সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ বা বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল কোন বর্ষপঞ্জি মেনে নববর্ষ পালন করতেন?
প্রাচীনকাল থেকে বাংলার মাটিতে চলে আসা এই যে চান্দ্র-সৌর বর্ষপঞ্জি তার শুরুটাই বা কোথায়? স্বাভাবিকভাবেই মনে হবে আজ থেকে ১৪২৬ বছর আগেই বঙ্গাব্দের যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেখানেও বিতর্ক আছে। অনেকেই এখন বলছেন, ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দকে শুরু ধরে সম্রাট আকবর কর্তৃক এই বঙ্গাব্দ চালু হয়েছিল।

বাংলা মাসের দিন পালটানো বা সূচনা কাল নিয়ে বিতর্ক বড় করে উঠে এল গত শতাব্দীর ছ’য়ের দশকে। ১৯৬৪ সালে সারা বাংলাদেশ জুড়ে ভয়ানক দাঙ্গা হল। সেদেশ থেকে হিন্দুদের বিতাড়ন মানে ‘এথনিক ক্লিনসিং’ শুরু হল পাকিস্তান সরকারের তত্ত্বাবধানে। কিন্তু মানুষ তাড়ালেই তো শুধু হবে না, পূর্ব পাকিস্তান তো একটা গোটা স্বতন্ত্র সংস্কৃতি। হিন্দুর পরম্পরাকে বাদ দিলে তো তার অর্ধেকের বেশিটাই খালি হয়ে যাবে। এই সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছে বাংলা বর্ষপঞ্জি যার ভিত্তিটা সূর্যসিদ্ধান্তের উপরে স্থাপিত।
বাংলা বর্ষপঞ্জি পরিবর্তনের জন্য পাকিস্তানের তদানীন্তন সরকার একটি কমিটি তৈরি করেছিল। যার প্রধান ছিলেন মহম্মদ শহিদুল্লাহ। ১৯৬৬ সালে শহিদুল্লাহ সাহেবের কমিটি তাদের রিপোর্ট জমা দেয়। কমিটির সুপারিশ অনুসারে বাংলার প্রথম পাঁচটি মাস ৩১ দিন হবে ঠিক হল, আর বাকি মাসগুলি ৩০ দিনের। লিপ-ইয়ার হলে ফাল্গুন মাস ৩১ দিন ধরে নেওয়া হবে। যেহেতু তিথি নক্ষত্রের হিসাব রাখতে হবে না তাই প্রতি বছরই ১৪ এপ্রিল তারিখে হবে পয়লা বৈশাখ। এই রিপোর্টেই ৪ নম্বর পয়েন্ট হিসাবে উল্লেখ ছিল যে বঙ্গাব্দের সূচনা করেছিলেন সম্রাট আকবর খ্রিস্টীয় ১৫৮৪ সালে। তারও ২৯ বছর আগে মানে তাঁর মসনদে বসার সাল ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ অর্থাৎ ৯৬৩ হিজরি সালকে বঙ্গাব্দের শুরু হিসেবে ঘোষণা করেন।

পাকিস্তান সরকারের এই রিপোর্ট নিয়ে বিতর্কের বিস্তর অবকাশ আছে। ১৪ এপ্রিলকেই পয়লা বৈশাখের দিন স্থির করা এককথায় অবৈজ্ঞানিক। সূর্যসিদ্ধান্ত মতে, বছরের দিনসংখ্যা ৩৬৫.২৫৮৭৫৬ আর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার হিসাবে ৩৬৫.২৪২২ দিন। মানে পার্থক্য হল ০.০১৬৫৫৬ দিন। শহিদুল্লাহ সাহেব যখন রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন সেদিন থেকে আজকের মধ্যেই প্রায় একদিনের (০.৮৯৪ দিনের) পার্থক্য হয়ে গিয়েছে।
বছরের প্রথম পাঁচ মাস ৩১ দিনের হিসেবটাও সমীচীন নয়। ভারতীয় বর্ষপঞ্জির অন্যতম বিশেষত্ব হল নক্ষত্রের অবস্থান। মাসেদের নামও এর সঙ্গে সম্পর্কিত। বঙ্গাব্দের শুরুর বছর মানে ৫৯৪ খ্রিস্টাব্দে ভার্নাল ইক্যুইনক্স বা মহাবিষুবের দিন ছিল ২০ মার্চ। ঠিক তার পরেই ২৭ মার্চ ছিল অমাবস্যা। বঙ্গাব্দের প্রথম অমাবস্যার দিন রেবতী নক্ষত্র, সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী ঠিক এক সরলরেখায় ছিল। রেবতীকে আদি নক্ষত্র ধরেই বঙ্গাব্দের মাসের রচনা। কিছু মাসকে ইচ্ছেমতো ৩১ দিন ধরে নিলে বঙ্গদেশের পণ্ডিত মানুষদের এতশত বছরের সাধনার ধনকে জলাঞ্জলি দেওয়া হবে।

শহিদুল্লাহ কমিটি বলেছিলেন— সম্রাট আকবর ১৫৮৫ সালে বঙ্গাব্দ শুরু করেন। আকবর তাঁর জ্যোতির্বিদ ফতল্লাহ শিরাজিকে হিজরি সালের সঙ্গে সূর্য সিদ্ধান্তের বর্ষগণনার হিসাব মিলিয়ে বর্ষপঞ্জি রচনার কথা বলেন। তখন আকবরের রাজত্বের ২৯ বছর হয়ে গেছে। তাই তাঁর মসনদে বসার বছর অর্থাৎ ১৫৫৬ সাল বা ৯৬৩ হিজরিকে প্রথম বঙ্গাব্দ ধরতে বলেন। এরপর থেকে সৌরবর্ষ যোগ করলে বঙ্গাব্দ পাওয়া যায়। যেমন ২০২০ খ্রিস্টাব্দ মানে ৯৬৩ + (২০২০- ১৫৫৬) = ১৪২৭ বঙ্গাব্দ।
এই মিলিয়ে দেওয়া নিয়েও অনেকে আপত্তি করেছেন। বিজ্ঞানী পলাশবরণ পাল তাঁর ‘সাল তারিখের ইতিহাস’ বইতে একটি সরল যুক্তি দিয়েছেন। আকবর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ১৫৮৫ সালে, তাহলে সিদ্ধান্ত তখন থেকে কার্যকরী করাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু ১৫৮৫ খ্রিস্টাব্দ মানে ৯৯৩ হিজরি, সেক্ষেত্রে আর উপরের ম্যাজিক সমীকরণ মিলবে না।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আজকের যুগে আকবরের রাজত্বের ২৯ বছর বাদ দেওয়া সহজ, কিন্তু আকবরের দরবারও চলত হিজরি সাল হিসাবে। হিজরি সাল হিসাবে ১২টি ২৯.৫ দিনের চন্দ্রমাসের যোগফল মানে ৩৫৪ দিনে বছর। তাই দু’টি সময়ের ব্যাবধান হিজরি সাল গণনা হিসাবে ৩০ বছরের কিছু বেশি। ফতল্লাহ শিরাজি বাদ দিলে ৩০ বিয়োগ করতেন ২৯ কখনওই নয়। তাই বাদ দিয়ে অঙ্ক মেলানোর প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে আধুনিক।
তাছাড়া আকবরের জীবদ্দশায় মোগলরা বাংলায় রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে উঠে আসেনি। ১৫৭৬ সালে রাজমহলের যুদ্ধে মোগলদের কাছে বাংলার আফগান শাসক দাউদ খান করর্নি পরাজিত হন। কিন্তু তারপরেও লাগাতার যুদ্ধ চলে। জাহাঙ্গিরের শাসনকাল পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলেছে। তাই ১৫৮৫ সালে সারা বাংলাতে শান্তিতে রাজত্ব করার অবস্থা বাদশা আকবরের ছিল না। তখন মোগল রাজত্ব কাবুল, মুলতান থেকে পূর্বে পাটনা পর্যন্ত মোট ১২টি সুবায় ভাগ ছিল। সম্রাট আকবর বেছে বেছে আপাত অস্থির বাংলাতেই তাঁর অব্দ শুরু করলেন কেন? স্বাভাবিক যুক্তিবোধে এর সঠিক উত্তর মেলে না।
আবুল ফজলের আইন-ই-আকবরিতে বঙ্গাব্দ বা বাংলায় বিশেষ সন প্রবর্তনের কোনও উল্লেখ নেই। বিভিন্ন বিষয় আলোচনার সময়ে অনেক সাল তামামি আছে কিন্তু বাংলা অব্দ নিয়ে একটি শব্দও নেই। হিজরি সাল হিসাবে ভারতবর্ষের ফসলের কর আদায়ের অসুবিধে হচ্ছে, তাই ফতল্লাহ শিরাজিকে তারিখ-ই-ইলাহি তৈরি করতে বলেছিলেন সম্রাট। এরকম হতেই পারে যে বাংলায় প্রচলিত বর্ষপঞ্জিকে দেখে এমনই একটা চান্দ্র-সৌর অব্দ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শস্যশ্যামলা বঙ্গদেশে এটি ফসলের কালের সঙ্গে মিলত, কাবুলে বা মুলতানে নিশ্চয়ই মিলত না। তাই আকবরের ইন্তেকালের সঙ্গে সঙ্গেই দ্বীন-ই-ইলাহির মত তারিখ-ই-ইলাহিও হারিয়ে যায়।
কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’ কবিতায় যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্যের কথা বলেছেন। ‘যুদ্ধ করিল প্রতাপাদিত্য তুই কি না সেই ধন্য দেশ’, এই প্রতাপাদিত্য মোগলদের সঙ্গেই যুদ্ধ করেছিলেন। ১৫৮৪ সালে তিনিও রাজ্যপাট হাতে পান। তিনি যশোরে শিক্ষাবিস্তারের জন্য জেস্যুইট মিশনারিদের গির্জা বানাতে দিয়েছিলেন। তাঁর নৌবহরে পর্তুগিজ কুশল কারিগর ছিলেন। অর্থাৎ এক স্পন্দনশীল বাংলা সেদিন দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ছিল, রাজমহল জয় করেই বঙ্গাব্দ প্রচলনের প্রশ্নই ওঠে না।
ভারত স্বাধীন হওয়ার পরে ‘ক্যালেন্ডার রিফর্ম কমিটি’ গঠিত হয়েছিল। অধ্যাপক মেঘনাদ সাহা এই কমিটির সভাপতি হয়েছিলেন। এই কমিটির সুপারিশ অনুসারেই ‘শালিবাহন শক’ বর্ষপঞ্জিকে ভারতবর্ষের জাতীয় বর্ষপঞ্জি হিসাবে গ্রহণ করা হয়। ১৯৫৫ সালে এই কমিটির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এই কমিটি দেখেছিল যে ভারতীয় কালগণনা পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত। আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণের পরে গ্রিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মেলামেশা হলেও গ্রিক জ্যোতির্বিদ্যা থেকে ভারতের কিছু নেওয়ার ছিল না।
বাংলার সাল গণনার বিষয়েও এখানে আলোকপাত করা হয়েছে। চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শতকের শুরুর সময় পর্যন্ত বাংলা মূলত গুপ্ত সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। তারপর ৭৫০ থেকে ১১৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পাল রাজারা শাসন করেন। সেন রাজারা কর্ণাটকের ক্ষত্রিয় ছিলেন। তাঁরাই বাংলায় শকাব্দ সাল গণনা রীতি নিয়ে আসেন। মুসলমান শাসনের সময় নবাব দরবারে হিজরি সাল চলত। কিন্তু শিক্ষিত সমাজে“শক” বর্ষপঞ্জিই ব্যবহৃত হতো। বাংলার সাধারণ মানুষ ‘পরগনাতি অব্দ’ নামে একটি বর্ষপঞ্জি মানতেন। তারিখ-ই-ইলাহির পরে থেকে নবাব দরবারেও সূর্যসিদ্ধান্তই মানা হতো।
গুপ্তযুগের পরে এবং পালযুগের আগে ছোট সামন্ত রাজারা রাজত্ব করেছেন। হর্ষচরিতে মৌখরি বংশের প্রতিনিধি শশাঙ্কের বর্ণনা আছে। কামরূপ-বিজয়ী এই শশাঙ্কের রাজধানী ছিল অধুনা মুর্শিদাবাদের কাছে কর্ণসুবর্ণতে। আজ থেকে ১৪২৬ বছর আগে শশাঙ্কই গৌড়ের রাজা ছিলেন। তাই বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রবর্তক হিসাবে শশাঙ্কের সপক্ষেই যুক্তির পাল্লাই ভারী। তবে নিশ্চয় তখন একে বঙ্গাব্দ বলা হতো না। কিন্তু, বাংলা সাল গণনা তখন থেকেই শুরু।

নীতীশকুমা সেনগুপ্ত ১৯৫৭ সালের ব্যাচে বেঙ্গল ক্যাডারের আইএএস। দুই বাংলার প্রতি টান থেকে একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ লিখেছেন তিনি, ‘ল্যান্ড অফ টু রিভার্স: এ হিস্ট্রি অফ বেঙ্গল ফ্রম দ্য মহাভারত টু মুজিব।’ লেখক দেখিয়েছেন বাঁকুড়ার ডিহারগ্রাম ও সোনাতপনে হাজার বছরের প্রাচীন শিব মন্দিরে বাংলা অব্দের উল্লেখ আছে।
মেঘনা গুহঠাকুরতা ও উইলিয়ম ভ্যান শেন্ডোলের বই ‘দ্য বাংলাদেশ রিডার: হিস্ট্রি, কালচার, পলিটিক্স’ প্রকাশিত হয়েছে ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে। বইটিতে বাংলার বর্ষপঞ্জি প্রবর্তনের কৃতিত্ব গৌড়েশ্বর শশাঙ্ককেই দেওয়া হয়েছে।
বঙ্গাব্দ নিয়ে বিস্তর গবেষণার সুযোগ আছে। বাঙালি বুদ্ধিমান, বাঙালি যুক্তিবাদী সেইসঙ্গে বাঙালির ছোঁয়া বিশ্বজুড়ে। তাই যে মতটা যুক্তিগ্রাহ্য এবং বিজ্ঞানভিত্তিক সেটিকেই মানবে আধুনিক বাঙালি। কিন্তু আরগুমেনটেটিভ তর্কবাগীশ বাঙালিও অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যুক্তিবোধের থেকে আর্ষপ্রয়োগকেই বেশি মেনে নেয়। সমস্যাটা সেখানেই।

Featured

ধারাবাহিক রচনা: আমাদের শ্রী অরবিন্দ(পর্ব-২২)

শ্রী অরবিন্দ ও শ্রীমায়ের জীবনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত এই ধারাবাহিকটি ইতিমধ্যে পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। আমাদের বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠকমণ্ডলীর মধ্যে শ্রী অরবিন্দ ও মায়ের জীবনী নিয়ে চর্চা করেন কিংবা শ্রী অরবিন্দ আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত পাঠকও রয়েছেন নিশ্চয়ই। তাঁদের প্রতি আমাদের বিনম্র আবেদন যে, ধারাবাহিকটি পড়তে পড়তে কোনোরকম তথ্যভিত্তিক ত্রুটি চোখে পড়লে অনুগ্রহ করে তৎক্ষণাৎ আমাদের দপ্তরে যোগাযোগ করুন, অথবা লেখার শেষে কমেন্টেও জানাতে পারেন। এছাড়া লেখার নীচে দেওয়া লেখকের ফোন নম্বরে সরাসরি করতে পারেন যোগাযোগ। আমরা ত্রুটি মেরামতে সদা সচেষ্ট। –সম্পাদক

মুকুল কুমার সাহা: আমরা পন্ডিচেরী শ্রীঅরবিন্দ আশ্রমের আশ্রমসাধক নলিনীকান্ত গুপ্তের লেখা, ‘চেতনার অবতরণ’ এই পর্ব থেকে প্রত্যেক সপ্তাহে অল্প অল্প করে পড়তে শুরু করেছিলাম। হঠাৎ বিশ্বজুড়ে মহামারীর আতঙ্কে আমাদের জীবনের চলবার ছন্দে একটা বেসামাল অবস্থা তৈরি হয়ে গেল।
আমার মনের অবস্থা সকলকে বুঝিয়ে বলার মত নয়। আমার বিশ্বাস, আমার মতই সকল মানুষকে একই যন্ত্রণা ভোগ করতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় এই লেখাটা তিন সপ্তাহ বন্ধ রেখে পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করছি; আর ভগবতী জননীর কাছে প্রার্থনা জানাচ্ছি, এই ভীষণ যুদ্ধে তাঁর বিশেষ সেনাবাহিনী চিকিৎসকদের হাতে তিনি যেন অশুভ শক্তি বধের শানিত অস্ত্রটি তুলে দেন খুব দ্রুত গতিতে। আমার বিশ্বাস আমাদের সমবেত প্রার্থনা ভগবান-ভগবতীর আসন টলিয়ে দিতে সক্ষম হবে।

‘চেতনার অবতরণ’ এর চ পর্বে আমরা দেখলাম– সচ্চিদানন্দ বা ব্রহ্ম শুধুমাত্র নৈর্ব্যক্তিক শক্তি নয়। সৃষ্টির নানা স্তরে কাজ করছেন সূক্ষ্ম ব্যক্তিরূপে নানা শক্তি। সচ্চিদানন্দ-এর প্রথম ব্যক্তিরূপী শক্তি হচ্ছেন ভগবান-ভগবতী। তারপর অতিমানসলোকে একই ভগবানের বা ভগবতীর বিভিন্ন রূপ ও নানা শক্তির প্রকাশ।

অধিমানস স্তরে যে সকল ব্যক্তি-শক্তি, তাঁরাই হলেন দেবতা। এখানেও একই ভগবানের বিভিন্ন রূপ, কিন্তু এখানে ভগবানের দেব শক্তিরা যথেষ্ট পৃথক হয়েছেন, নিজের নিজের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী স্বাতন্ত্রতা লাভ করেছেন।

এরপর মানসলোক। এখানে দেবশক্তিরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে– এক হল যাঁরা ঊর্ধ্বতন চেতনার একাত্মক স্মৃতি বজায় রেখেছেন, আর অপরদিকে আর এক শ্রেণী ঊর্ধ্বতন একাত্মক চেতনার স্মৃতি মুছে ফেলে হয়েছেন স্বৈরতা ও অহংকারের মূর্তিমান বিগ্রহ সব। মোটকথা, ভগবান বা ভগবতী জননী যতই নিম্নে অবতরণ করেছেন ততই তাঁদের শক্তিকে ক্ষয় করতে করতেই নেমে এসেছেন।

এরপর চেতনা আরো নিম্নে নেমে কী কী হয়েছেন আমরা দেখে নিই।

চেতনার অবতরণ পর্ব (ছ)

মন হতে তারপর চেতনা প্রাণে নেমে এসেছে। এই সন্ধিস্থলে রয়েছে যাদের নাম দেওয়া যায় অসুর– প্রাণময় জীব তারা মনের রাজ্যে উঠে মনের এই একমুখী আত্মসর্বস্ব ধর্ম অর্জন করেছে– তারা চায় অহম -এর প্রতিষ্ঠা, প্রতিপত্তি, একচ্ছত্র রাজত্ব।

চেতনা যখন একেবারেই প্রাণের মধ্যে নেমে এসেছে তখন তা আরো গাঢ়, আরো আচ্ছন্ন, আরো আত্মমুখী বা আত্মভোগপরায়ণ হয়ে উঠেছে। এখানে যে সকল সত্তা বা পুরুষ বা ব্যক্তি গড়ে ওঠে, রূপ গ্রহণ করে, তাদের মধ্যে প্রধান এক শ্রেণীর নাম দেওয়া হয়েছে রাক্ষস। যদিও, এই প্রাণময় জগতেই আবার অন্য এক দিকে– একটা উচ্চতর বা নিভৃততর স্পর্শ ও প্রভাবের ফলে– গড়ে উঠেছে রসানুভবের সৌন্দর্যলিপ্সার ক্ষেত্র, যাকে বলা হয় গন্ধর্বলোক। যক্ষ রক্ষ গন্ধর্ব কিন্নর– এরা সকলে প্রাণ জগতের বিভিন্ন রাজ্যের অধিবাসী।

এ গেল তবুও প্রাণের উত্তরাঙ্গ, প্রাণের অধমাঙ্গে চেতনা আরো বিচ্ছিন্ন সংকীর্ণ মোহাচ্ছন্ন তমসাবৃত হয়ে চলেছে। মানুষের ব্যক্তিগত চেতনায় যা হল লালসা লুব্ধতা ক্রুরতা নিষ্ঠুরতা যা কিছু দিনহীন নীচ মলিন কুৎসিত সে সকলের বীজভূমি এখানে। এখানকার অধিবাসী পিশাচ, জিন, দানা। তারপর আরো নীচে, প্রাণ যেখানে জড়কে স্পর্শ করেছে, প্রাণ জড় হয়ে পড়েছে, সেখানেও রয়েছে তদুপযোগী জীব বা ব্যক্তিসত্তা সব– তাদের চেতনা যেমন ক্ষুদ্র, তাদের শক্তিও ক্ষুদ্র, আকারও ক্ষুদ্র; পাশ্চাত্যে যাদের নাম দেওয়া হয় Goblin, Imp, Elf, Fairy অথবা Dryad, Naiad, প্রভৃতি– আমরা যাদের সাধারণভাবে বলি জড়াভিমানি দেবতা তাদের উৎপত্তি ও লীলাস্থান এই এখানে। জড়ের একান্ত সন্নিকটে এমন ব্যক্তিসত্তাও আছে যাদের আয়ু অতি অল্প, যাদের জীবন নির্ভর করে জড়ের একটা ভঙ্গুর সাম্যাবস্থার উপর– সেই সাম্যের একটু ব্যতিক্রম হলেই ব্যক্তি-চেতনাটি নির্বাণ লাভ করে, তার উপাদান ভেঙে চূর্ণ হয়ে যায়। সর্বশেষে, একান্ত জড়ের স্তরে ব্যক্তিসত্তা বলে কিছু নাই।

তবে আমরা দেখলাম ব্যক্তি চেতনা ব্যক্তিসত্তা ব্যক্তিরূপ এইরকম একটা অবতরণের ধারায় চলেছে– সে ব্যক্তিত্ব ক্রমে খণ্ডিত, সংকুচিত, সংকীর্ণ এবং সেইসঙ্গে আচ্ছন্ন গাঢ় ঘন অনমনীয় আরষ্ট হয়ে চলেছে, পরিশেষে জড়ের মধ্যে এসে চেতনা যেমন লুপ্ত হয়েছে, ব্যক্তিত্বও তেমনি চূর্ণ হয়ে বিক্ষিপ্ত হয়ে কঠিন জড়ানুর মধ্যে হারিয়ে মিলিয়ে গিয়েছে।

তারপর বিবর্তনের ধারা, চেতনার পরিবর্তন ও ক্রমস্ফুরণ। চেতনা যখন ঘুরে জড়কে ভর করে আশ্রয় করে বিকশিত ঊর্ধ্বায়িত হয়েছে, ব্যক্তিত্ব জিনিসটিও আবার গড়ে উঠেছে, একটা নবতর আকৃতি ও প্রকৃতি নিয়ে। ব্যক্তিত্বের ক্রমবিকাশ ও ক্রমগঠন সৃষ্টির একটা প্রধান রহস্য; সৃষ্টির সার্থকতার তা অন্তরঙ্গ, এমনকি মুখ্যতম উপাদান বলা যেতে পারে।

ব্যক্তির রূপবন্ধ কী রকমে গড়ে উঠেছে? আমরা এই বললাম যে জড়ে ব্যক্তিত্ব নাই– ব্যক্তিত্ব তো নাই-ই আসল ব্যষ্টিত পর্যন্ত নাই (আধুনিক বিজ্ঞানে পরমাণুর স্বৈর-গতির কথা যতই বলুক না) ব্যষ্টিত্বের মূল ধর্ম ও বৈশিষ্ট্য হল একটা অখণ্ডতা, একটা গোটা আকার। জড় হল তাই যাকে নিরন্তর খণ্ড খণ্ড করা যায় অনন্ত পারস্পর্যে। কিন্তু ব্যষ্টিকে খণ্ড করিলেই তার ব্যষ্টিত্ব নষ্ট হয়ে যায় (ব্যষ্টির ইংরেজি প্রতিশব্দ Individual -এর ব্যুৎপত্তি হল যাকে ভাগ করা যায় না)। ব্যষ্টির আরম্ভ প্রাণের আরম্ভ দিয়ে। ব্যষ্টির কেন্দ্রগত গুণ হল স্বকীয়তা অর্থাৎ প্রত্যেক ব্যষ্টি এক একটি বিশিষ্ট সত্তা, প্রত্যেকের রয়েছে নিজস্ব ধরনধারণ– প্রত্যেকে বাহিরের পারিপার্শ্বিক ও অন্যান্যের সঙ্গে সম্বন্ধ স্থাপন করে, নিজের ভিতর থেকে প্রতিক্রিয়া করে বা নিজেকে প্রকাশ করে আপন আপন বিশিষ্ট ভঙ্গিমায়। অবশ্য এই বৈশিষ্ট্য প্রাণের আদি ও আদিম সব রূপায়ণে তেমন স্ফুট ও স্পষ্ট নয়– স্পষ্ট ও স্ফুট হয়ে চলে যত আমরা বিবর্তনের উচ্চতর স্তরে উঠতে থাকি। প্রাণীর মধ্যে এসেই ব্যষ্টিত স্পষ্ট দেখা দিয়েছে। তবুও উচ্চতর প্রাণীর মধ্যে ব্যষ্টিত পরিষ্কার দেখা দিলেও, ব্যক্তিত্ব কোথাও দেখা দিয়েছে কিনা সন্দেহ– ব্যক্তিত্ব হল মানুষের বৈশিষ্ট্য।

(ত্রয়োবিংশ পর্ব আগামী রবিবার)

লেখকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন- 8584063724

২১ম পর্বটি পড়তে ক্লিক করুন- https://agamikalarab.com/2020/03/15/

Featured

A terrible night(Suspence story)

Episode 9(Confession of the culprit)

“my heart was filled with hate. I was burning in fire of hate and revenge. And to get rid of this flame of hate, I made a plan to kill Savitri Devi.”

Leepa Chakraborty: The inspector with some constables went straight to Rampal’s house with the arrest warrant.
Seeing the police van in front of his house, Rampal gets nervous.
Before he could understand or speak anything, a constable came and put handcuffs in his hands and dragged him into the van.
Then put him directly in the lockup of the police station. Rampal did not protest, he supported the police proceedings silently. And then the police interrogation began, and Rampal was pressurized to show the truth sincerely.
After remaining silent for a while, Rampal finally broke into silence and started speaking,”Sir, I was about 20 years old when I started working at the medical shop of Savitri Devi as a salesman and now I am 55 years old.
At that time ‘Savitri Medical Shop’ was very small and not very profitable. My hard work not only helped this shop to earn profits, but it became the largest and most popular of the Kachari Road.
Taking this shop to a height had become one of the motives of my life, and I spent all my life trying to achieve this goal successfully.
My owner believed in me blindly, he left all the responsibilities of the shop to me, and I also never let his faith be proved wrong.
When the owner passed away, his wife, Savitri Devi took the charge of the shop.

I continued to work the same way sincerely and honestly. Savitri Devi had immense affection and faith upon me.
Meanwhile, her daughter Poonam was got married but unfortunately her son-in-law was stray and bad-tempered.
Her son in law Vinod’s shop was also in the same kachari road, but due to his loafing, his shop drowned and even came to a close.
Here the problem started. He would always demand money from Savitri Devi, if she refused, Poonam would have been tortured.
Meanwhile, once Poonam had fallen ill and her health deteriorated day by day, Savitri devi had gone to live with her.
At the same time, there was a lot of argument with Vinod about money, property and shops. Savitri Devi was very angry with this attitude of Vinod. She came back her home. After this, she never went back to vinod house again. To bring Savitri Devi under his control, Vinod continued to persecute Poonam. Poonam was even stopped visiting her mother.
All these things had a deep impact on Savitri’s mind, she always started getting upset.
One day it was heard that Poonam had run away from her in-law’s house to her mother.

Leaving home in this way gave rise to a controversy between the two families. But later a mutual agreement was established between them and Vinod took back Poonan his home again. After that, I don’t know what happened, Savitri Devi started getting angry on me, stopped coming to the shop and vinod started to look after the same. He started mishandling the cash of the shop.

He never failed to insult me on everything.The years of my hard work kept on robbing before my own eyes.
And in the same way, I continued to tolerate his arrogancy and when my capacity to bear was out of range, I had gone to meet Savitri Devi.
After hearing all, Savitri Devi called Vinod and as soon as Vinod arrived, there was a long arguments started between us.
But I was deeply hurt when Savitri Devi said, “Rampal, you are lying, Vinod is my son-in-law. Everything belongs to my daughter, so why would Vinod steal money from my shop?
But you can do this, and maybe you have been doing this for long time and till now, As we believed in you, we never kept an eye on you.
But Vinod has caught your theft, so you want to make Vinod guilty and get out of the way.
You are my old employee, But Despite you are accusing my son-in-law, I am not getting you out this time, but be careful.
From today Vinod is the owner of the shop and you will have to agree as he says, otherwise you can leave”.

After taking a deep breath, Rampal started speaking further,”Savitri Devi kept speaking and every single word of her kept stabbing in my heart.
Her words started repeating my mind, my eyes started blurring with the tears and my tongues started to tremble.
I spent all my life on that shop. Maybe that was my reward. my heart was filled with hate. I was burning in fire of hate and revenge. And to get rid of this flame of hate, I made a plan to kill Savitri Devi.
I sought help from Rashid for this work, Rashid was also a victim of the bad behavior of Savitri Devi and Vinod.
For a few days, we continued to maintain the shop like an obedient servant, our behavior was such that nobody even suspected that what is going on in our mind, and we keep looking in search of an opportunity.
And soon we got a chance, it was the night of 14 January, the weather was indicating to be bad since morning.
We came to know that due to poor health of Poonam, Vinod will not come to the shop and we made a plan using this opportunity.
The day kept getting longer and the weather started getting crazier, and our plan got easier.
In this work, I had a plan to use Mahesh’s lost mobile to divert the police investigation. Everything was going on according to the plan, suddenly a call from Vinod came. He had ordered medicines and injections for Poonam. Rasheed took his auto and went to Vinod’s home.
And I went to Savitri Devi’s house. She was having dinner at that time. I knocked on the door. She came out, I said Poonam is quite serious.
She got scared and ran towards telephone, but I said no one is at home, everyone has gone to the hospital, you come with me soon or it will be late. She ran after me madly, by the time Rashid had also returned, he hit Savitri Devi several times with his auto, then threw her into Haveli Road.”

“And why killed Rashid?” Inspector asked.
Rampal said, “Suman and Abdul were the only witness of our crime. So we always kept an eye on both.
And we had made a plan that whenever they become a threat to us, they have to be killed.
With this intention, Rashid ran with Suman in his auto, but Suman escaped and reached to you but Suman had also seen Rashid’s face. Rashid had become a threat to me, so he had to be killed as well.
So I invited Rashid to the Shiva temple on Haveli Road, Rashid came, he was very scared, I told Rashid, “You are so scared, you should not be so nervous, it can spoil the work. You take this anti-anxiety medicine, it will comfort you, then we will talk comfortably.
Rashid was so nervous that he took the medicine immediately. He could not think that I gave him a sedative of higher doze. And in a few moments, he started to falter, and as soon as I got a chance, I pushed him in front of a running truck. I am very sorry for this but I have no pity that I killed Savitri Devi. But I had a query why Savitri Devi insulted me and why did she doubt me.”

After hearing all this, Inspector put Rampal into the lockup and Poonam, Vinod were called to the police station.
Poonam was surprised to see Rampal, “Rampal uncle, you!”
Inspector asked poonam,”Tell me one thing, Savitri Devi who believed Rampal so much. Why did she suddenly lose her faith?”
Poonam bowed her head and said, “Sir, Vinod had shown some false videos against Rampal to my mother. I knew this, but I was silent for fear of Vinod.”
The inspector said with a deep sigh to Vinod, “Sometimes because of a man like you, a true person wanders off.”

(The End)

To read the previous episode click here—https://agamikalarab.com/2020/03/30/a-terrible-nightsuspence-story-8/

Featured

A terrible night(Suspence story)

Episode 8(Final investigation)

“The police searched the area and discovered an auto which was kept hidden among the bushes.
The auto number revealed that it was Rashid’s auto, and inside the auto, Mahesh’s mobile was also found by the police.”

Leepa Chakraborty: The inspector ordered his men to keep an eye on Rampal and Vinod. His next step, whatever name was on the call list of Rashid’s mobile phone and to call all of them to the police station for interrogation. And they did the same, the men indicated on the call list came to the police station, some of them were friends of Rashid and some of his relatives. But talking to all of them, the inspector did not get much.
Suddenly, the inspector found a name on Rashid’s mobile, whom Rashid had never called.
His name was Abdul. Inspector called him to the police station as well. Abdul reported in the police station immediately. Abdul was the same person who brought Suman home on that stormy night.
The inspector asked him, “Do you know Rashid?” Abdul replied shaking his head, “Yes sir! I know him. Actually sir, I am also an auto driver, I met Rashid a few days ago.” Abdul said. “That is why we cannot tell much about Rashid. But when we met we would talk and drink tea together.”
After some silence, he started saying, “Sir, this thing started on the night of 14 January.” And then he told the facts that had happened to him and Suman on that stormy night.
Then he said, “I wanted to file a report at the police station, but Suman was being threatened, that is why I could not file a report.”
The Inspector then asked, “When and where did you meet Rashid for the last time?”
Thinking something, Abdul said, “On the night of the incident, I saw Rashid coming out of an STD booth with a little panic. When I stopped him, he said that he is in a hurry, he has to meet someone. Saying this he went away.” Inspector asked,”Do you remember which area the STD booth was, from where he called?”
After a moment of thinking Abdul said, “This STD booth is at Haveli nagar crossing. The rest information I got to know from Suman.”
On hearing this the inspector ordered his men to investigate the telephone booth of Haveli nagar crossing and he told Abdul to leave.
Next day the investigation report came to the hand of the inspector. Abdul was true, that night Rashid had a call from the booth, and the mobile number he dialed was Mahesh’s number.
There was no doubt that the culprit was of a very vicious mind.
Tracking of Mahesh’s mobile was done and the police reached according to the position indicated by the tracker.
The police searched the area and discovered an auto which was kept hidden among the bushes.
The auto number revealed that it was Rashid’s auto, and inside the auto, Mahesh’s mobile was also found by the police.
There was a water bottle inside the auto, in which a little water was used and the lid of the bottle was not properly closed.
The soil was wet and soft there because of dews at night. Police found foot prints on the soft soil near the auto rikshaw. Mobile and water bottle were sent for forensic examination, and footprints were also taken, and the place was cordoned.

It was evening, the inspector was sitting in his cabin, busy adding every links to this murder case. By now he had reached very close to the culprit, but he was waiting for a strong evidence, and along with Rashid’s post-mortem and forensic reports.
In the mean time a constable came and told him, “Sir, a truck driver wants to meet you.”
–“Send him”.
In a while a man came in. He said,”I have something to say about the death of a man named Rashid in Haveli Road, which was published in the newspaper.”
On hearing this, the inspector got shocked, he asked something sternly, “What is your name? What did you see? What were you doing there that night?” –“Sir, I am Manjit, a truck driver. I used to come from the Haveli road often. I was going through the same route that night too.
Suddenly I saw a man looking like sick or drunk and another one with him who hold him.
But as soon as my truck came close to them, the other man threw the sick one in front of my truck. Immediately I pressed the brake and drove the truck to the left, but couldn’t save him. But by then he was badly hit by my truck, I stopped the truck and came down. The man was badly wounded and his body was multilated. And that other man ran away with an auto. I got scared, I did not understand anything. May I not get stuck in it.
Due to this fear, I also ran away with my truck. I was out of the city till then, but I read this incident in the newspaper.
But this incident had become a burden on my heart, so I meet you as soon as I returned to the town, only to tell that it was a murder, not an accident.”
Inspector listened silently and then asked, ” Have you seen that other man’s face?”
“No sir.” said Manjit.
But one thing”.
Manjeet said after thinking for some time, “Sir, one thing, after pushing, he was breathing badly. He was having difficulty in breathing, it seemed as if he had respiratory problem, after that he pulled something out of his pocket. And he took it. All this happened in such a hurry that I could not see or fix anything properly. And nothing more than this I can tell, his face was also covered with shawl.
Inspector said, “Alright now you go, if needed I will call you again. But don’t go out of town.”
After he left, a laughter erupted on the lips of the Inspector. He said to one of his men, “Please present me all the reports as soon as the report comes out.”
The next day Poonam was called alone to the police station, and some questions were asked.

Then the inspector added all the links, except the post mortem and the forensic reports. And soon that report also came in hand. Inspector smiled and said, “Crime can never be hidden, get out the jeep quickly.”

(To be finished next sunday)

To read the previous episode click here— https://agamikalarab.com/2020/03/23/a-terrible-nightsuspence-story-7/

Featured

A terrible night(Suspence story)

Episode 7(Mist to light)

“Seeing that list, the inspector’s eyes shone with joy and he started to see some ray of hope and he returned without questioning. Till now only one clue had come in his hands.”

Leepa Chakraborty: Police immediately rushed to the scene, where they saw a dead person whose body was badly multilated.
The inspector was shocked when he saw the face of the man, whose face is very similar to the description given by Suman.
Police immediately surrounded the entire area and after searching the dead body, the police found nothing but a mobile phone from him.
And they also searched the entire area but found nothing. They send the cell phone for further investigation to cyber department of police.

The dead body was taken away and Suman,Vinod, Rampal and Poonam were called again to identify the dead body.
On the call of the police, all of them reached there and they all recognized after seeing the dead body of Rashid. Receiving Rashid’s identity, the police reached Rashid’s house immediately, and started questioning his family members.
Rashid’s younger brother said to the police, “Sir, a few days ago Rashid Bhai bought an auto rickshaw. He used to drive the auto everyday after returning from the shop. But last night he had left the shop early and then he left with the auto. But Rashid Bhai did not return home all the night, we searched a lot, even his friends could not tell anything about him.”
After thinking something, the inspector asked, “Does Rashid have any other phone number?”
To this, Rashid’s wife nodded and said, “He had only a single number.”
Then the policemen returned, the dead body was sent for postmortem .
Rashid’s mobile was also investigated, the call list for the last 1 month was presented to the inspector. Seeing this list, the inspector was shocked. He got into deep thinking because Poonam said that Rashid had made a call from his mobile around 9 pm on 14th January. But nothing like this was shown in Rashid’s call list. Rashid’s family members were telling that Rashid had only a single mobile phone .
However now they were waiting for Rashid’s autopsy report, meanwhile the police continued their inquiry and investigation.
Only one thing was snipping in the mind of the Inspector, whom did Rashid call and whose mobile did he use on the night of 14 January?
The next morning, the inspector searched the area around Savitri Devi’s house and started inquiring with the locals.
He found an STD booth at some distance away from Savitri Devi’s house, after thinking something, the inspector took the number of that STD booth and sent it for investigation.

And when the report of this investigation came to him, the inspector was shocked. Because at 9 o’clock on 14 January, a call came to that STD booth from a mobile number, due to bad weather that night, that STD booth was hardly used anyway. Only one call came around 9 o’clock.
Whose call was it? In whose name that SIM card was purchased, the investigation of all these things started.
And soon the police also found out the name and address of the SIM card owner. Following that address, they reach there and met a 30-35 years old man who was telling his name Mahesh.When the inspector started questioning Mahesh about the mobile phone, Mahesh said, “sir, I am a delivery boy. I deliver medicine in the medical store. I lost my mobile a few days ago.”
Inspector asked, “When and in which area did your mobile get lost? Did you file a report of losing the mobile in the police station?”
Mahesh said, “Sir, at that time I was on duty in Kachari Road. I remember because I went back to many shops in that area to find my phone.” After keeping a silent for a while Mahesh said, “Sir, this mobile was not my personal, I received it from the company, so all the messages and calls in it were from the company. When I told the company, they gave me a new mobile, and the pressure of work was very much on me those days. For all these reasons I did not file a report to the police station.”
After thinking something, Inspector said to Mahesh, “List the names of the shops in which you supply medicine in Kachhari road.” Mahesh did the same. Seeing that list, the inspector’s eyes shone with joy and he started to see some ray of hope and he returned without questioning. Till now only one clue had come in his hands.
In the list given by Mahesh, the shop of Savitri devi was named but Vinod’s shop was not named which means Mahesh used to supply medicines in Savitri devi’s shop, but not in Vinod’s shop.
Still, to be sure, he called Mahesh to the police station the next day.
He asked Mahesh ,”Do you not supply medicine in Vinod Medical Shop?
Staying silent for a while Mahesh said,”sir, I heard that shop is going to be closed. Due to the addiction of alcohol and gambling by the owner, there is now a possibility of being locked in that shop. There is no question of medicine supply.”
Then the Inspector asked him,”Do you know the owner of Sharda devi Medical Hall and his staff?”
“Yes sir”, Mahesh replied.
Then the inspector asked, “Do you know Rampal?” Mahesh replied, “yes sir, he is a very hard working, punctual and sincere person and it was a big contribution of him to make that shop go to that height.”
The inspector said something thinking, “But Savitri Devi’s son-in-law is suspicious of her destiny, it has come to the notice.”
To this, Mahesh said, “I have been working in that area for 9 years. Not only me, everyone in that area knows how honest a person Rampal is!
After this, the Inspector did not ask any question to Mahesh and allowed him to leave.

(To be continued next sunday)

To read the previous episode click here—https://agamikalarab.com/2020/03/15/a-terrible-nightsuspence-story-6/

Featured

Coronavirus: A Murrain demands Safety

Gautam Guha, Agami Kalarab: Corona viruses were first discovered in the late 1960s. The earliest ones discovered were an infectious bronchitis virus in chickens and two in human patients with the common cold. The novel corona virus (SARS-CoV-2) is part of a family of viruses named for the effect created by spike proteins on their shells, or capsids. Think of how the outer layer of the sun’s atmosphere, known as the corona (Latin for crown), appears during a total solar eclipse.
“Any vaccine for the (Novel) corona virus would focus on the antigenic viral spike proteins which look like a halo or crown of bulbous spikes for which the corona virus is named. This protein binds to the ACE2 receptor in our lung cells like a forged key to break in.”

As with other respiratory illnesses, infection with the novel corona virus can cause mild symptoms including a runny nose, sore throat, cough and fever. It can be more severe for some persons and can lead to pneumonia or breathing difficulties. More rarely, the disease can be fatal. Older people, and people with pre-existing medical conditions (such as, diabetes and heart disease) appear to be more vulnerable to becoming severely ill with the virus. The World Health Organisation’s global risk assessment for Covid 19 is “high”. It is “very high” for China, the source of the outbreak.
On January 30, the WHO declared the corona virus outbreak a “Public Health Emergency of International Concern”, or PHEIC, after initially deciding against issuing such an alert.

The infection is typically spread from one person to another via respiratory droplets produced during coughing and sneezing. Time from exposure to onset of symptoms is generally between two and 14 days, with an average of five days. The standard method of diagnosis is by reverse transcription polymerase chain reaction (rRT-PCR) from a nasopharyngeal swab. The infection can also be diagnosed from a combination of symptoms, risk factors and a chest CT scan showing features of pneumonia. After a spike in corona virus cases, India has put in place strict restrictions on inbound travel. The WHO has also declared it a pandemic after more than 300,000 confirmed cases and over 13000 deaths in 114 countries. India has suspended “all existing visas, except diplomatic, official, UN/international organisations, employment, project visas” until April 15.
The WHO has declared the corona virus epidemic as a global health emergency.

As per Union Health Ministry, there are total 341 confirmed corona virus cases in India. 24 have been discharged, while 6 have died. In an advisory, issued on March 10, the govt has advised citizens to avoid non-essential travel abroad in view of the fact that the corona virus has spread to over 100 countries. Now Government has strongly advised against travelling to China, Italy, Iran, Republic of Korea, Japan, France, Spain and Germany. India has suspended e-visas issued to nationals of France, Germany and Spain. Cinema Halls will have to remain shut on Governments’ Orders in most of states. Film bodies decided to stop the production of films, TV shows and web series including the Taj Mahal, Red Fort and Qutub Minar, all the National Monuments and Museums under the Archaeological Department of India will remain closed till 31 March.

In order to survive this tragedy, everyone has to follow regular etiquette. This epidemic has to deal with courage without fear. Washing hands with soap or sanitizer after consuming food daily, keeping distance from the diseased person.

Featured

ধারাবাহিক রচনা: আমাদের শ্রী অরবিন্দ(পর্ব-২১)

শ্রী অরবিন্দ ও শ্রীমায়ের জীবনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত এই ধারাবাহিকটি ইতিমধ্যে পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। আমাদের বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠকমণ্ডলীর মধ্যে শ্রী অরবিন্দ ও মায়ের জীবনী নিয়ে চর্চা করেন কিংবা শ্রী অরবিন্দ আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত পাঠকও রয়েছেন নিশ্চয়ই। তাঁদের প্রতি আমাদের বিনম্র আবেদন যে, ধারাবাহিকটি পড়তে পড়তে কোনোরকম তথ্যভিত্তিক ত্রুটি চোখে পড়লে অনুগ্রহ করে তৎক্ষণাৎ আমাদের দপ্তরে যোগাযোগ করুন, অথবা লেখার শেষে কমেন্টেও জানাতে পারেন। এছাড়া লেখার নীচে দেওয়া লেখকের ফোন নম্বরে সরাসরি করতে পারেন যোগাযোগ। আমরা ত্রুটি মেরামতে সদা সচেষ্ট। –সম্পাদক

চেতনার অবতরণ(চ) 

মুকুল কুমার সাহা: গত পর্বে আমরা চেতনার অবতরণ(ঙ) সম্পর্কে কিছু আলোচনা করেছিলাম। সেই আলোচনাটি পাঠকেরা ঠিক মত না বুঝতে পারলে আশ্রমসাধক নলিনীকান্ত গুপ্তের লেখাটি বুঝতে অসুবিধা হতে পারে। তাই, পাঠকদের কাছে একান্ত অনুরোধ, গত সপ্তাহের পর্বটি নীচের লিঙ্কে গিয়ে পড়েই এই পর্বটি শুরু করবেন।

এই যে অবতরণের কথা আমরা বললাম তা হল চেতনার সাধারণ বা নৈর্ব্যক্তিক অবতরণ। চেতনার আবার আছে বিশিষ্ট ব্যক্তিভূত অবতরণ। চেতনা কেবল চেতনা মাত্র নয়, তা হল আবার চিন্ময় পুরুষ।

চেতনার যে সকল শক্তিধারা সত্তার বা সৃষ্টির নানা স্তরে কাজ করে, তারা কেবল নিরাকার নিরবয়ব নৈর্ব্যক্তিক শক্তির স্রোত নয়, তারা হল আবার সাকার সাবয়ব– স্থূল না হলেও সূক্ষ্ম– ব্যক্তি রূপি শক্তি। আদি মূল সত্য– সচ্চিদানন্দ– কেবল একটা তত্ত্ব নয়; সচ্চিদানন্দ আবার সচ্চিদানন্দময় ও সচ্চিদানন্দময়ী। সচ্চিদানন্দ কেবল সৎ-চিৎ-আনন্দের সমষ্টিমাত্র নয়, তা আবার পুরুষোত্তম ও পরাশক্তি আদ্যাশক্তি। সৃষ্টি বা প্রকাশ তাই আদ্যাশক্তির ইচ্ছাবেগ, সেই ইচ্ছাকে ধরে আছে সমর্থন করছে অনুপ্রাণিত করছে পুরুষোত্তমের অনুমতি ও অনুমোদন। ভগবান- ভগবতী, আদি-পিতা আদি-মাতা হল আদি ব্যক্তি রূপ।

জরাভিমুখী গতির ধারায় সত্তা যেমন খন্ডিত বহুল হয়ে চলেছে, চেতনা যেমন ক্রমাচ্ছন্ন হয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে অনন্যমুখী হয়ে ডুবে চলেছে, ব্যক্তিরূপও সেই সঙ্গে সীমাবদ্ধ ক্ষয়িত বিকৃত চূর্ণ হয়ে চলেছে। প্রথমে পূর্ণ পুরুষ, পরম ব্যক্তি– ভগবান-ভগবতী। তারপর বিজ্ঞানময় লোকে– যেখানে সৃষ্টির সত্যস্বরূপময় প্রথম প্রকাশ, বহুত্বের বীজ আবির্ভাব, যেখানে এক বহু হয়েও এক, বহু বহু হয়েও একই, প্রত্যেকের ভিতরে একের সমগ্রতা সমানভাবে ও সম্পূর্ণরূপে প্রকট ও সক্রিয়, যদিও বিচিত্র ধারায়– সেই বিজ্ঞানময় লোকে ব্যক্তির মূল স্বরূপ, আদি প্রথম প্রকাশ, তাহল ভগবান-ভগবতীর নিজেরই বিভিন্ন স্বরূপ বা বিগ্রহ। এইখানেই ভগবানের যে চতুর্ব‍্যুহ (বৈষ্ণব শাস্ত্রের অনুসরণে শ্রী অরবিন্দ যাদের নাম দিয়েছেন মহাবীর, বলরাম, প্রদ‍্যুম্ন, অনিরুদ্ধ) ও ভগবতীর যে চতুঃশক্তি (মহেশ্বরী, মহাকালী, মহালক্ষ্মী, মহাসরস্বতী), তাদের স্বধাম বা কর্মভূমি বা পাদপীঠ। তারপর অধিমানস– অধিমানসের অধিষ্ঠাত্রী যেসকল ব্যক্তি-শক্তি তাঁরাই হলেন যাদের সাধারণত বলা হয় দেবতা। বৈদিক ঋষিরা মনে হয় এঁদের সন্ধান পেয়েছিলেন এবং এঁদেরই সঙ্গে একটা সাক্ষাত জীবন্ত সংযোগস্থাপন করতে পেরেছিলেন। এখানেও, অধিমানসের উত্তরস্তরে, মন্ত্র হল–

একং সৎ বিপ্রা বহুধা বদন্তি
অগ্নিং য়মং মাতরিশ্বানমাহু‍ঃ

ঋকবেদ ১–১৬৪–৪৬

আশ্রমসাধক নলিনীকান্ত গুপ্ত, যাঁর লেখা থেকেই ‘চেতনার অবতরণ এর পর্বগুলি গৃহীত হচ্ছে

এখানেও বিশ্ব দেবতা একই দেবের নানা ক্রিয়ামূর্তি– একই দেব হলেন সহস্রশীর্ষ সহস্রপাদ। তবুও দেবতারা এখানে যথেষ্ট পৃথক হয়েছেন, নিজের নিজের বৈশিষ্ট্য স্বাতন্ত্র লাভ করেছেন, প্রত্যেকের পূজা-অর্চনার স্তব-স্তুতি-তুষ্টির বিশেষ ধারা পরিস্ফুট হয়েছে। ইউরোপীয়রা এই জিনিসটির নাম দিয়েছেন Henotheism অর্থাৎ যখন যে দেবতাকে পূজা করা হয় তখন তিনিi হয়ে ওঠেন সর্বেসর্বা সর্বপ্রধান। এরপরে মনোময় স্তরে এসে অথবা অধিমানসের নিম্নতর স্তর থেকেই দেবশক্তিরা দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে, হয়েছে সুর আর অসুর, পৌরাণিক দেবতা আর দানব। এক হল যারা পূর্বেকার একাত্মক উর্দ্ধতর চেতনার স্মৃতি এখনো রেখেছে আর হল যারা শেষ স্মৃতি মুছে ফেলে দিয়েছে, হয়ে উঠেছে মূর্তিমান স্বাতন্ত্র স্বৈরতা অহংকার। এক অদিতির, আর হল দিতির সন্তান। অদিতি অর্থ অখণ্ডতা অভিন্নতা, অবিচ্ছিন্নতা, দিতি অর্থ খণ্ডতা বিচ্ছিন্নতা।

প্রাচীন সকল ধর্ম-ঐতিহ্যে এই তত্ত্বটির উল্লেখ আছে দেখা যায়, নানা রূপকের কাহিনীর আবরণ অন্তরালে। পারসিকদের আহ্রিমান ও অরহুমজাদ, ইহুদিদের জিহোবা ও শয়তান, গ্রীকদের অলিম্পিয়ান ও টাইটান হল অদিতি-দিতির, জ্যোতির ও তমিস্রার দ্বৈধ ধারা। গ্রিক ঐতিহ্যে আছে টাইটান প্রমেথেউ (Prometheus) স্বর্গ হতে আগুন অপহরণ করে এনেছিলেন মানুষের সেবার জন্য। ইহুদীরা বলে আদিমানুষ– আদম– স্বর্গের উদ্যানে নিষ্কলুষ ছিল– শয়তান তাকে জ্ঞানের ফল খাইয়ে প্রথম পাপের স্বাদ জাগিয়ে দিয়েছিল। এইসব গাথারই অর্থ আমরা যে বলেছি চেতনার একটা অবতরণ ও অবনতি। ঐকাত্মক মানসোত্তর রাজ্য থেকে খণ্ডত্বধর্মী মানসের মধ্যে সত্তার ও চেতনার ক্রমনিমজ্জন ঘটেছে এবং ফলে হয়েছে অহং-এর অন্ধতার আবির্ভাব। এখানে স্মরণ করা যেতে পারে শাঙ্খের তত্ত্বক্রম– মহৎতত্ত্বের পর অহম; মহৎ হল সর্বব্যাপক অখণ্ডচেতনা আর সে চেতনা যখন খণ্ড ও সংকীর্ণ ও একমুখী হয়েছে তখনই জন্মেছে অহম।

(দ্বিবিংশ পর্ব আগামী রবিবার)

লেখকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন- 8584063724

২০ম পর্বটি পড়তে ক্লিক করুন- https://agamikalarab.com/2020/03/08/

Featured

A terrible night(Suspence story)

Episode 6(The mysterious man)

“Then Suman started to stop him, in this scrimmaging, the face of the driver is opened which was covered with a shawl, and Suman sees his face. On seeing that face, her senses fly away, it was the same face that she saw in the lightning flashes on that stormy night.”

Leepa Chakraborty: For several days, Suman was feeling as if she was being followed. Wherever she goes, she feels as she is monitored.
She started living very scared, due to this fear, she did not tell anyone about that stormy night.
One night she was returning home as usual.
But she was late that night, the time was around 10 o’ clock . After getting off the bus, she took an auto rickshaw and She told the auto driver to drop her Havelinagar stop.
After some time, the auto Rickshaw came near a crossing. Suman said,” brother take the right turn.” But that driver didn’t respond her. He did not turn the auto, but increased the speed and moved the auto to the other side. Now Suman got very nervous, she started shouting, but these things had no effect on that driver, he drove the auto towards a deserted area. Then Suman started to stop him, in this scrimmaging, the face of the driver is opened which was covered with a shawl, and Suman sees his face. On seeing that face, her senses fly away, it was the same face that she saw in the lightning flashes on that stormy night. The same terrible face that she had seen for a moment but had not forgotten it yet.
She started trying to stop that driver but she failed.
She understood that it is very difficult to escape today, but she did not lose courage. And as soon as she got a chance, she jumped into a nearby bush, from the running auto. While doing this she also got very hurt, blood was coming from many places.
But she started running without caring about everything. Rescuing herself, she was running and the driver too became impatient to catch her. While running, Suman suddenly saw a tea stall where some policemen were standing and talking among themselves.
Somehow Suman reached near them. She folded her hands and said, “Sir, save me, he will kill me.”
Policemen were surprised to see Suman’s condition. One of them asked, “What’s the matter? Who will kill you? don’t be afraid, tell us the fact.”
Overcoming her fast moving breath, Suman explained in detail how the auto driver was taking her to the wrong path.
Then she requested ,”Sir, first save my father and brother, otherwise they will kill them, then I tell you the details.”
Seeing the fragility of the time, the policemen immediately called the police station and arrenged for the protection of Suman’s brother and father and took Suman to the police station. Now she started speaking all the things that happened with her on that stormy night.
She said,”Sir, it was very dark that night, I could not see anything properly but I heard a few footsteps , and a woman’s groaning behind me. I tried to see, but suddenly the lightning struck and I saw two men were dragging someone on the way.”
The inspector asked, “Did you see anybody’s face.?”
Suman replied disappointedly, “Sir, I could not see much in this moment of lightening but in that moment of lightening I saw the blurred face of a man. By the way if I look again I might not be able to recognize him but one thing to note that his teeth were big and protruding.” After thinking something the inspector asked suman,”where was the incident take place?” Suman replied,”It was Haveli road, near shiv temple.”

Then Inspector said, “On the night of 14th January we found a corpse near this Shiva temple. And during the investigation of that case I got a shawl there. is that yours?”
“Yes!” Suman said. After that she started to explain why and in what condition she threw her shawl there.
The inspector asked her, “Why were you silent for so long? Why didn’t you report to the police?”
On this, Suman said , “Sir, those people threaten me.” And then she explained the incident of the hospital in details.
Then the inspector asked, “Then why do you want to file a report today, you are not scared today?”
Suman sighed on this question and said, “Sir, for some days I feel like someone is watching me every moment, I am being followed.”
At this point, the inspector asked, “Why do you think you are being followed?”
Whenever I get out of the house, a bike always follows me.
Two days ago a car tried to hit me, but I survived.
But today Sir, he would have killed me, if I had not run away, and then Suman talked about everything that had happened to her today.
Then she firmly said, “Sir, this auto driver was trying to hide his entire face, but I saw his face any how. And I can definitely say that he was the same man whom I saw on that stormy night because his teeth also protruded, and it could not be a coincidence.”
After this, no questions were asked to Suman, and she was escorted to her home.
On the second day, Rampal, Suman, Vinod and Poonam were all called to the police station together. All of them were asked about the suspected person whom Suman had seen on that stormy night.
All three were shocked when Suman gave a description of the person whom she saw on that stormy night.
Rampal said this face is something similar to our shop worker Rashid.
Poonam said, “Such was the face of the man who came to give me the injection on that night.”
Everyone is surprised, before the inspector makes a decision, a phone call comes to the police station. Another corpse has been found in Haveli Road.

(To be continued next sunday)

To read the previous episode click here— https://agamikalarab.com/2020/03/02/a-terrible-nightsuspence-story-5/

Featured

আসল কথা (গীতিকবিতা)

ওরে মন ভাবিস যদি
সে দেবে ডুব মন সাগরে,
তার তো আনাগোনা
শুধুমাত্রই শরীর জুড়ে।
ওরে মন ভালোবাসা
রোজনামচার এক খেলাঘর,
যেখানে স্বপ্ন ভাঙে,
চোখের জল আর ব্যথার আঁচড়।

সময়ের অলিগলি
স্মৃতি মাখা মরীচিকা,
ধরা হাত ঠিক ছেড়ে যায়
দিনের শেষে সবাই একা।
আজ মন স্বপ্ন দেখে
চিতার শিখায় শেষের হাসি,
সেখানেই নিশ্চিন্তি
মিথ্যে কেবল
ভালোবাসাবাসি।

–টিনা গৌতম ঘোষ

Featured

মা (ছোট গল্প)

প্রসেনজিৎ মজুমদার, আগামী কলরব: প্রিয়তোষ চেয়ারে বসে। নিকিতা স্নান সেরে বাথরুম থেকে বেরিয়েছে, তার গায়ে তোয়ালে জড়ানো। নিকিতা আয়নার সামনে এগিয়ে মাথা মোছে। প্রিয়তোষ নিকিতার মসৃণ শরীরটার দিকে তাকিয়ে আছে।একসময় প্রিয়তোষ এই শরীরটা নিজের হাতে নাড়াচাড়া করেছে, মেয়েকে স্নান করিয়েছে, খাইয়েছে, বুকে করে ঘুম পাড়িয়েছে, কাঁধে চাপিয়ে ঘুরে বেরিয়েছে; তখন নিকিতা ছোট্ট ছিল। এখন তার কুড়ি বছর পেরিয়েছে। বড় হয়েছে সে। যে একদিন প্রিয়তোষের বুক চেপে ঘুরেছে, আজ প্রিয়তোষের ইচ্ছা করে নিকিতার সুন্দর বুকে মাথা রাখতে।

নিকিতা তার বাবাকে চেয়ারে বসে থাকতে দেখে বলল,’কিছু বলবে বাবা?’ প্রিয়তোষ বলল, ‘ভাবছিলাম তোর বিয়ের কথা।’ নিকিতা বলল ‘আমি এখন বিয়ে করব না বাবা। যদি বিয়ে করি তোমায় কে দেখবে? তুমি একা হয়ে যাবে। ও ঘরে যাও, আমি কাপড় ছাড়বো।’
প্রিয়তোষ নিকিতার সুন্দর মুখের দিকে চেয়ে থাকে। দিন দিন ও যেন মায়ের মতন হচ্ছে। সেই মুখ, সেই চোখ, চুলের গোছাও ওর মায়ের মতন। সে নিজে মেয়েকে কাপড় পড়া শিখিয়েছ, এখন সে বাবার সামনে কাপড় ছাড়তে লজ্জা পায়। অথচ নিকিতার শরীরের প্রতিটি ছিদ্র, প্রতিটি কোষ প্রিয়তোষ এর চেনা।
–‘কি হল বাবা যাও!’ ‘
–‘হ্যাঁ! এই যাচ্ছি।’ প্রিয়তোষ নিকিতার ঘর থেকে বেরিয়ে আসে।

বারান্দায় চেয়ারে বসে খবরের কাগজ পড়ছে। তিন নম্বর পৃষ্ঠায় দেখে কোনও এক বাবা নিজের মেয়ের শরীরকে তার লালসার শিকার বানিয়েছে কামের নেশায়। নিকিতা ড্রেস পরে এসে দাঁড়ায় বাবার সামনে। তারপর বাবার গলা জড়িয়ে বলল,’বাবা আমি আসলাম।’ প্রিয়তোষ মেয়ের গালে একটা চুমু দিয়ে বলল ‘সাবধানে যাস।’
নিকিতা ‘এম এ’ পড়ছে। তাই সে কলেজে বেরিয়ে গেল। প্রিয়তোষ বাড়িতে একা।

নিকিতার যখন তিন বছর বয়স, সীমা প্রিয়তোষকে ছেড়ে চলে যায়। অসময় সীমা মারা যাওয়ায় প্রিয়তোষ বড় একা হয়ে যায়। প্রিয়তোষ সীমাকে খুব ভালোবাসতো, তাই সীমার চলে যাওয়াতে সে আর বিয়ে করেনি। মেয়েকে নিয়েই বাকি জীবন কাটিয়ে দেবে ঠিক করে। তার টাকার অভাব নেই। সীমা মারা যাওয়ার পর চাকরিও ছেড়ে দেয়।মেয়ের প্রতি যত্ন নেয়। এই নিকিতা তার বাঁচার একমাত্র অবলম্বন। প্রিয়তোষ যৌবনে স্ত্রীকে হারিয়েছে। তখন তার যা বয়স ছিল আবার বিয়ে করতে পারত অনায়াসে। কিন্তু সে তা করেনি। তার অনেক বন্ধু ওই বয়সে বিয়ের জন্য ছাতনাতলায় বসেছে। কিন্তু প্রিয়তোষ নিকিতাকে বুকে নিয়ে সমস্থ যৌবন সহজেই ভুলে যায়। সে তিনটে বছর নিকিতাকে বুকে করে মানুষ করে। এই তিন বছরে নিকিতাকে কারোর হাতে দেয়নি, বাবার কর্তব্য পালন করেছে। মেয়েকে একটুও মায়ের অভাব বুঝতে দেয়নি। নিকিতা ধীরে ধীরে বাবার ভালোবাসার ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠে। তার যখন ছয় বছর বয়স প্রিয়তোষ নিকিতার জন্য একটা আয়া রাখে, যে নিকিতাকে সবসময় দেখাশোনা করবে। মেয়ে বড় হচ্ছে, তার একজন আয়ার প্রয়োজন তা বুঝতে পেরেছিল প্রিয়তোষ। এসময় প্রিয়তোষের ঘরে থাকতে ভালো লাগে না।এতদিন নিকিতাকে নিয়ে সময় কেটেছে তার। এখন কিভাবে সময় কাটবে! তাই সে আবার চাকরিতে ঢোকে। বয়ে চলে সময়। প্রিয়তোষের জীবনের এক একটা যৌবন কমতে থাকে নিকিতার বেড়ে ওঠার সাথে সাথে।

নিকিতা বড় হয়ে ধীরে ধীরে সংসারটা নিজের আয়ত্বে নিয়ে আসে। বাবার প্রতি যত্ন নিতে শেখে, যে সময় প্রিয়তোষের স্ত্রীর প্রয়োজন ছিল তখন সে একা কাটিয়েছে, আর এখন নিকিতা বড় হওয়ার সাথে সাথে সীমার জায়গা দখল করে নিয়েছে। প্রিয়তোষের জীবনে যতটুকু ভালোবাসার খামতি ছিল, তা তার মেয়ে পূরণ করে দিয়েছে। নিকিতাও তার বাবাকে খুব ভালবাসে। সেই ছোট থেকে বাবাকে কষ্ট করতে দেখেছে, তাই সে তার বাবাকে আর কোনও কষ্ট দিতে চায় না। প্রিয়তোষ সমস্ত ব্যথা-যন্ত্রণা ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছে। যে প্রিয়তোষ একসময় একা চলে অভ্যস্ত, আজ সে নিকিতার উপর ভরকেন্দ্রীক। নিকিতা ছাড়া তার জীবন আর এক মুহূর্ত চলে না। অথচ মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে।
আজ জীবনের অর্ধেক সময় এসে প্রিয়তোষ বুঝতে পারছে এখন তার জীবনে একটা নারীর প্রয়োজন আছে, যে তাকে নিকিতার মত ভালবাসবে। অসুখ হলে রাত জেগে সেবা করবে। মাথা ধরে বসে জলে ভেজা ঠান্ডা কাপড় কপালে ঠেকাবে।প্রিয়তোষ মনে মনে ভাবে যদি এখন বিয়ে করি সে কি আমাকে নিকিতার মত ভালোবাসবে! বিয়ে করলেই বা, সে মেয়েতো নিকিতার বয়সী হবে কিংবা নিকিতার চেয়ে কয়েক বছরের বড়। নিকিতা প্রিয়তোষ এর ঘুমিয়ে থাকা যৌবনকে আবার জাগিয়ে তুলেছে। তার এখন অর্ধেক বয়স পড়ে আছে, সে নিকিতার যৌবন ভরা শরীর চোখের সামনে যত দেখছে ততই তার শরীরের যৌবনের খিদে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সেদিন রাতে বিয়ের কথা বলতে প্রিয়তোষ নিকিতার ঘরে আসে। নিকিতা ঘুমিয়ে রয়েছে, প্রিয়তোষ নিঃশব্দে মেয়ের কাছে এসে দাঁড়ায়। কি আশ্চর্য !এ যে নিকিতা নয়। নিকিতার সমস্ত শরীর, মুখ সীমার মতন। সীমা যেমন সুন্দরী রূপসী ছিল, যেমন তার ভরা যৌবন ছিল নিকিতাও ঠিক তার মায়ের ধাত পেয়েছে। সীমা অকালে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ায় প্রিয়তোষ সীমার সাথে পথ চলতে পারেনি।
কি অপূর্ব! প্রিয়তোষ নিকিতার সুন্দর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। আশ্চর্য দেখতে হয়েছে সে। নিকিতা ঘুমন্ত অবস্থাতে নড়ে ওঠে, তার বুকের উপর থেকে সরে যায় চাদর। প্রিয়তোষের চোখ যায় নিকিতার নগ্ন বুকে।প্রিয়তোষের শরীর কেমন করে ওঠে। তার যৌবন খিদে আরো বৃদ্ধি পায়। সে নিকিতার যৌবন শরীরটাকে চায়, প্রিয়তোষ তার নগ্ন বুকে শক্ত হাত রাখতে গিয়েও পারে না।তার সমস্ত শরীর কেঁপে ওঠে, তার অন্তরের মূল্যবোধ জেগে যায়, প্রিয়তোষ ও ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। তারপর ফ্রিজ থেকে হুইস্কির বোতলটা বার করে গ্লাসে ঢালে, কিন্তু তার সমস্ত শরীর কাঁপছে, হুইস্কির গ্লাসটা হাত থেকে পড়ে যায়। প্রিয়তোষ ধপ করে বসে পড়ে মেঝেতে তার সমস্ত শরীর উত্তেজিত।কাঁপা কাঁপা হাতে হুইস্কির বোতলটা মুখে ঢুকিয়ে এক নিঃশ্বাসে শেষ করে ফেলে আর বলতে থাকে– নিকিতা আমার মেয়ে, আমার রক্ত দিয়ে ওর সৃষ্টি, ওর শরীরের প্রতিটি কোষ যে আমার শরীরের অংশ। ও আমার নিঃশ্বাস আমার জীবন, আর আমি কিনা ওকে দিয়ে আমার শরীরের খিদে মেটাতে যাচ্ছি! ছি! ছি!
সে দুর্বল শরীরে ফ্রিজ থেকে আর একটা হুইস্কির বোতল বার করতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যায় ভাঙ্গা কাচের টুকরোর উপর।

প্রিয়তোষের হাত থেকে রক্ত ঝরছে। নিকিতা আওয়াজ পেয়ে ছুটে আসে এঘরে। বাবার এমন অবস্থা দেখে তার দুচোখ ভরে ওঠে জলে। –‘বাবা তোমার কী হয়েছে?’ নিকিতা প্রিয়তোষকে তুলে তার ঘরে নিয়ে যায়, ডেটল দিয়ে ধুয়ে হাতে ওষুধ লাগিয়ে দেয়। প্রিয়তোষ মেয়ের মুখের দিকে চেয়ে থাকে। এ যে তার মা! প্রিয়তোষের দুর্বল শরীর ঝিমতে থাকে।নিকিতা তার বাবার মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়ায়। প্রিয়তোষ যে তার মাকে ফিরে পেয়েছে। নিকিতা বাবার পাশে বসে থাকতে থাকতে কখন যেন বাবার বুকের কাঁচাপাকা লোমের উপর মুখ রেখে ঘুমিয়ে পড়ে।

আজ সকালে কলেজে গেল নিকিতা। ঘন্টা দেড়েকের মধ্যে সে কলেজ থেকে ফিরে আসবে।
কিছুক্ষণ পর নিকিতা একটা ক্লাস করে ফিরে এসে দেখে তার বাবা সকালে যে চেয়ারে বসে ছিল এখনও সেখানেই বসে আছে। তার বাবার শরীর খারাপ, তাই সে বাবাকে একা ফেলে কোথাও যেতে পারবে না।

Featured

ধারাবাহিক রচনা: আমাদের শ্রী অরবিন্দ(পর্ব-২০)

শ্রী অরবিন্দ ও শ্রীমায়ের জীবনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত এই ধারাবাহিকটি ইতিমধ্যে পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। আমাদের বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠকমণ্ডলীর মধ্যে শ্রী অরবিন্দ ও মায়ের জীবনী নিয়ে চর্চা করেন কিংবা শ্রী অরবিন্দ আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত পাঠকও রয়েছেন নিশ্চয়ই। তাঁদের প্রতি আমাদের বিনম্র আবেদন যে, ধারাবাহিকটি পড়তে পড়তে কোনোরকম তথ্যভিত্তিক ত্রুটি চোখে পড়লে অনুগ্রহ করে তৎক্ষণাৎ আমাদের দপ্তরে যোগাযোগ করুন, অথবা লেখার শেষে কমেন্টেও জানাতে পারেন। এছাড়া লেখার নীচে দেওয়া লেখকের ফোন নম্বরে সরাসরি করতে পারেন যোগাযোগ। আমরা ত্রুটি মেরামতে সদা সচেষ্ট। –সম্পাদক

চেতনার অবতরণ(ঙ) এর কিছু আলোচনা

মুকুল কুমার সাহা: চেতনার অবতরণ এর পঞ্চম পর্বে, অর্থাৎ এই পর্বের আগের পর্বে আমরা দেখলাম, জড় বা অচেতনার মধ্যে চেতনা সুপ্ত ভাবে রয়েছে। অধ্যাত্ম-বিজ্ঞান বলছে, এই জড় যখন দীর্ঘ সময়ের পর তার মধ্যে থেকে চেতনাকে প্রকাশ করতে সমর্থ হয়, ঠিক তখনই তার উপরের স্তর বা সূক্ষ্ম জগৎ থেকে আর এক শক্তির অবতরণ হয়। এই নীচের ও উপরের শক্তি ও চেতনার মিলনের ফলে অন্য ধরণের এক সৃষ্টির প্রকাশ হয়। (উদাহরণস্বরূপ, অধ্যাত্ম-জ্ঞানীদের মত অনুসারে বলা যায় নীচের মাটি জড় জগতের অন্তর্গত। তার ঠিক উপরের স্তরকে প্রাণময় জগৎ বলা হয়। যখন এই মাটিতে প্রাণময় জগৎ থেকে প্রাণ অর্থাৎ সূক্ষ্ম শক্তি অবতরণ করে তখনই উদ্ভিদ ও প্রাণীর সৃষ্টি হয়। প্রাণের উপরের স্তরকে বলা হয় মনোময় জগৎ। সেখান থেকে মনের শক্তি ও চেতনা যখন জড়ে অবতরণ করে তখন জড়- প্রাণ ও মনের শক্তির মিলনে উন্নত ধরণের সৃষ্টি অর্থাৎ মন ও বুদ্ধিযুক্ত মানুষের সৃষ্টি হয়। মনের উপরের স্তরকে বিজ্ঞানময় লোক বলে। শ্রী অরবিন্দ যার নাম দিয়েছেন অতিমানস। পৃথিবীতে এই অতিমানসের অবতরণের ফলে কী ধরণের সৃষ্টি হয়, সেটাই দেখার। শ্রী অরবিন্দ বলেছেন পৃথিবীতে যেমন উদ্ভিদ-গাছপালা-পশুপখি রয়েছে, মানুষ রয়েছে এ সবই থাকবে; তার সঙ্গে আর এক ধরণের উন্নত মানবের দেখা মিলবে।)

পৃথিবীতে বা জড় জগতে শেষ পর্যন্ত ধাপে ধাপে নীচের উত্তরণ ও ঊর্ধ্ব -এর বিভিন্ন চেতনার অবতরণ হতে হতে সচ্চিদানন্দ নিজের স্তরে যেমন সেই চেতনারও অবতরণ ঘটাবেন একসময় এই পৃথিবীতে। এটাই অধ্যাত্ম জ্ঞানীদের মত।

শ্রীমায়ের প্রতীক

জড় বিজ্ঞান বা বস্তু বিজ্ঞান নিজের পদ্ধতি ধরে এগিয়ে চলেছে। বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখছেন নিজেদের পথ অনুসরণ করে এবং তাঁরা বলছেন, বস্তুতে এক সময় হঠাৎ পরিবর্তন হচ্ছে। অধ্যাত্ম-জ্ঞানীরা বলছেন এই হঠাৎ পরিবর্তনের আসল রহস্য হচ্ছে উপরের আর এক সূক্ষ্ম শক্তির অবতরণ।

আমরা সাধারণ মানুষ, জড় বিজ্ঞান বা বস্তু বিজ্ঞানের উপর নির্ভরশীল। বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করে আমাদের যা বলছেন বা দিচ্ছেন, আমরা সেইসব গুলিই কেবল গ্রহণ করতে সমর্থ। তাই আমরা আশা করব বস্তু বিজ্ঞানীরা যেন এই রহস্যটি আবিষ্কার করতে সমর্থ হন। শ্রী অরবিন্দের লেখা পড়তে পড়তে কোথাও যেন দেখেছিলাম, তিনি বলছেন জড় বিজ্ঞান যেভাবে এগিয়ে চলছে, বিজ্ঞানীরা এই রহস্যের সন্ধান খুব দ্রুত পেয়ে যাবেন। তাঁরা হয়ত এর নাম দেবেন অন্য কিছু।

আমরা দুর্বল অর্ধ সচেতন মানুষ, আমরা আশা করব বস্তু বিজ্ঞানীরা যেন এই রহস্যের সন্ধান খুব তাড়াতাড়ি পেয়ে যান, কেন না তাঁদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সহজেই উপকৃত হতে পারবে। কারণ, অধ্যাত্ম বিজ্ঞানের সাধনা বা যোগ সাধনার সামর্থ্য বা যোগ্যতা আমাদের মত সাধারণ মানুষের সকলের নেই বলেই মনে হয়।
আগামী পর্বে ‘চেতনার অবতরণ- এর ষষ্ঠ পর্ব’ শুরু করা হবে।

(একবিংশ পর্ব আগামী রবিবার)

লেখকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন- 8584063724

১৯ম পর্বটি পড়তে ক্লিক করুন- https://agamikalarab.com/2020/03/01/

Featured

সেনেট হলের গল্প

প্রিয়াঙ্কা সিংহ: কলেজ স্ট্রীটে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সেনেট হাউস বলে একটা ঠিকানা আছে এখনও। কিন্তু কলকাতার ইতিহাসে সেনেট হাউস আজ সম্পূর্ণ রূপে বিলুপ্ত। এক সময় এই হাউসেই সম্পূর্ণ হতো কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় কাজকর্ম। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনার ইতিহাস যেমন রয়েছে অজস্র আশ্চর্য ঘটনায় মোড়া, তেমনি ঘটনাবহুল সেনেট হাউস গড়ে তোলার কাহিনী।

শিক্ষা বিভাগের সেক্রেটারি ডঃ ফ্রেডরিক জন লণ্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের আদর্শে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যে প্রস্তাব করেন ১৮৪৫ সালে, বিলেতের কর্তৃপক্ষ তা নাকচ করে দেন। ডঃ জন চেয়েছিলেন এদেশে সাহিত্য, বিজ্ঞান, প্রভৃতি শিক্ষার উপযুক্ত ব্যবস্থা গড়ে উঠুক। ততদিন শিক্ষার কিছু বিস্তার ঘটেছে। শহর ও গ্রামে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে উচ্চশ্রেণীর বিদ্যালয়গুলোর তত্ত্বাবধান, পরীক্ষা গ্রহণ ও ডিগ্রি দানের প্রয়োজন দেখা দেয়। অবশেষে বিলেতের কর্তৃপক্ষ এই প্রস্তাবে রাজি হন। বোম্বাই ও কলকাতায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব মঞ্জুরি দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রথম মহিলা

ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর, রামগোপাল ঘোষ, রামপ্রসাদ রায়কে নিয়ে গঠিত ‘নিয়মাবলী নির্ধারক কমিটি’র কাজ শেষ হয় ১৮৫৬ সালে। ১৮৫৭ সালের ২৪শে জানুয়ারি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিধিবদ্ধ হয় এবং ৪১ জনের পরিচালক-সভা গঠিত হয়। চ‍্যান্সেলর বা আচার্য হয়েছিলেন গভর্নর জেনারেল লর্ড ক্যানিং। ভাইস চ্যান্সেলর বা উপাচার্য হয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি স্যার জেমস উইলিয়াম কলভিল। কিন্তু বাড়ি কই যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় এর কাজ হবে! সেনেটের প্রথম সভা হয় মেডিক্যাল কলেজের কাউন্সিল হলে। ১৮৫৭ সালে ক্যামাক স্ট্রীটে ঘর ভাড়া নিয়ে কাজ শুরু হয়। তখন রাইটার্স বিল্ডিং এর কয়েকটা ঘর নিয়ে চলত শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। ১৮৫৬ সালে এই কলেজ শিবপুরে উঠে যাওয়ার পর ওই ঘরগুলোতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট ও সিন্ডিকেট সভা বসত। ১৮৬২ সালে সেনেট সভার প্রস্তাবে পরিষ্কার বলা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নিজস্ব বাড়ি বিশেষ প্রয়োজন। বাড়িটির নাম হবে ‘সেনেট হাউস’। এই বাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় কাজ হবে। ওখানে থাকবে দুটি হলঘর– একটা বেশ বড় মাপের হল ঘর। এছাড়াও লাইব্রেরী, রেজিষ্টারের অফিস, রিডিং রুম, মিটিং রুম ইত্যাদি। নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৮৭২ সালে। ১৮৭৩ সালের ১২ই মার্চ সেনেট হাউসের সমাবর্তন উৎসবের মধ্যে দিয়ে উদ্বোধন হয় সেনেট হলের। সেনেট হাউসে ছিল ইউরোপীয় স্থাপত্যের এক নয়নলোভন নিদর্শন। নানান ইতিহাসে সমৃদ্ধ হতে হতে সেনেট হাউসের বয়েস বাড়তে লাগল। এল ১৯৫৭ সাল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্ণ হল। আর শতবর্ষ পূরণ করল বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র, স্যার গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসুর মতো মনীষীদের উজ্জ্বল স্মৃতি বিজড়িত সেনেট হল; যে হলে সমাবর্তনে ডিগ্রি গ্রহন করেছিলেন কাদম্বিনী বসু(পরে গাঙ্গুলী), প্রথম মহিলা স্নাতকোত্তর চন্দ্রমুখী বসু। যে হলে ১৯৩২ সালে সমাবর্তনের সময় তৎকালীন ছোটলাট স্যার স্ট্যানলি জ্যাকসনকে হত্যার জন্য রিভলভার থেকে গুলি ছুঁড়েছিলেন সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামী বীণা দাস।
পরে সেই হল সহ ঐতিহাসিক সেনেট হাউসটি ধুলিসাৎ করে দেওয়া হয়। তার স্মরণে গড়ে তোলা হয় বর্তমান ‘শতবার্ষিকী ভবন’।

Featured

A terrible night(Suspence story)

Episode 5(Confusion)

“Now the inspector has got into a lot of thinking, because whatever fact has come in hand, according to that, Vinod can only be taken under suspicion. But no strong evidence was found against Vinod by the inspector.”

Leepa Chakraborty: Then for a week the police did not interrogate Poonam or her husband, but on the eighth day, the police called Poonam
and her husband Vinod to the police station
and questioned both of them separately.
From Poonam, the police wanted to know what was the reason behind the estrangement between Savitri Devi and Vinod.
On this question, Poonam got a little distracted and said, “Sir, my father has a medicine shop on Kachahari Road. And it is very popular.”
After my father’s death, the old employee, Rampal uncle, was given the responsibility of the shop.
Because uncle was very faithful and loyal, this was to be said by my parents.
The inspector immediately asked “And how do you think about Rampal?”
In response to this question, Poonam replied “Sir, although I never interfered in the
shops or all these, but as a human being I can say that Rampal uncle is an honest and sincere person.”
Then she further said, “My husband’s medicine shop is also on the same road, so in the evening he would often go to father’s shop, actually my mother had asked him to do so.
But Vinod feels that mother is being cheated by Rampal, he is taking advantage of her trust. He expressed his doubt to my mother, but my mother was not agree with Vinod, and this was the reason for his estrangement.”
After that, the inspector asked where you were on the 14th of January.
Poonam replied with dismay “Sir, I suddenly felt sick that morning, I was suffering from diarrhea. Then in the evening Vinod called a doctor, because my condition had worsened. The doctor prescribed some medicines and injection. But due to bad weather that day, it was too late to get medicine and injections. Around 9 o’clock a man came with medicine and injection, and at the same time he also gave me an injection.
“what was the exact time when you were given that injection?” The inspector questioned.
Poonam responded by thinking something, “It was 9 pm. sir.” Inspector asked,”how can you be so sured.”
–“Sir, immediately after giving me an injection, a call came in his mobile. He was speaking to someone on mobile, it is now 9 o’clock, I will be reaching there in ten minutes, and he was right sir, because, the wall clock was in front of my eyes.”

After this, the police inspector did not question Poonam any more and allow her to leave. Then he called Vinod for questioning.
And then he asked to Vinod the same questions that he was asked with Poonam.
And the answers for both were the same.
Inspector got into deep thinking.

The next day Rampal was called to the police station. Rampal came, he was looking very sad.
Inspector asked him “Rampal, do you know Savitri Devi died?” Rampal bowed his head and nodded.
Then the inspector said “You are her very old employee, how was your relation with Savitri Devi?”
Rampal started weeping. Wiping tears after a while, he said,”Sir, I was 20 when I came to their shop for a job. And today I am 65 years old, all my life has passed in this shop. Both the owner and his mistress loved me and also respected me.They supported me in my grief.
Inspector asked him, “Do you know any person with whom Savitri Devi had any estrangement or any enemy of Savitri Devi?”
After thinking for a while, Rampal said, “Sir, as far as I remember, she never mentioned this.”
The next question from the inspector was ,”How was Vinod and his mother in law’s relationship?”
Rampal remained silent for some time. He said,”Sir, the responsibility of the shop’s account was on me, Vinod Babu did not like this thing at all. Taking this matter, he also had an argument with Savitri Devi many times. But besides me, Savitri did not want to hand over the account of her shop to anyone else.
There was some distance between the mother-in-law and son-in-law on this matter, but Savitri Devi remained in her stubbornness till the end.”
Then Rampal said, “It was also heard that Vinod’s anger had increased so much that he did not even allow the daughter to meet her mother.”
After thinking something, the inspector allowed Rampal to leave. While going, Rampal pointed to an important thing.
He said,”Sir, presently Vinod’s shop is running at a loss, something like this came in the air.”
Then Rampal left, two police men were sent to keep an eye on Vinod’s shop.
After a lot of investigation the policemen also gave the same report that Rampal had said.
Now the inspector has got into a lot of thinking, because whatever fact has come in hand, according to that, Vinod can only be taken under suspicion. But no strong evidence was found against Vinod by the inspector.
And the other important thing was that in the post-mortem report, it was said that Savitri Devi died between 9 to 9.30 pm. And Poonam said that Vinod was with her at his own house on the night of 14 January. Is Poonam lying? Or is it something else? A question
Something started knocking in the mind that the case became even more complicated.
On the other hand police searched the entire area to find the slippers, keys of Savitri Devi. Besides this they also kept inquiry about the shawl.
As the readiness of the police was increasing. Danger started knocking in suman’s life.

 (To be continued next sunday)

To read the previous episode click here— https://agamikalarab.com/2020/02/24/a-terrible-nightsuspence-story-4/

Featured

ধারাবাহিক রচনা: আমাদের শ্রী অরবিন্দ(পর্ব-১৯)

শ্রী অরবিন্দ ও শ্রীমায়ের জীবনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত এই ধারাবাহিকটি ইতিমধ্যে পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। আমাদের বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠকমণ্ডলীর মধ্যে শ্রী অরবিন্দ ও মায়ের জীবনী নিয়ে চর্চা করেন কিংবা শ্রী অরবিন্দ আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত পাঠকও রয়েছেন নিশ্চয়ই। তাঁদের প্রতি আমাদের বিনম্র আবেদন যে, ধারাবাহিকটি পড়তে পড়তে কোনোরকম তথ্যভিত্তিক ত্রুটি চোখে পড়লে অনুগ্রহ করে তৎক্ষণাৎ আমাদের দপ্তরে যোগাযোগ করুন, অথবা লেখার শেষে কমেন্টেও জানাতে পারেন। এছাড়া লেখার নীচে দেওয়া লেখকের ফোন নম্বরে সরাসরি করতে পারেন যোগাযোগ। আমরা ত্রুটি মেরামতে সদা সচেষ্ট। –সম্পাদক

মুকুল কুমার সাহা: চেতনার অবতরণ -এর চতুর্থ পর্বে আমরা দেখলাম, সচ্চিদানন্দ বা ব্রহ্ম বা চেতনা প্রথমে ঊর্ধ্ব থেকে ধাপে ধাপে নেমে জড় রূপ ধারণ করেছে। পরে ধাপে ধাপে আবার ঊর্ধ্বের দিকে উঠে চলেছে। জড় যখন প্রাণে উঠছে তখন সে নব রূপ পাচ্ছে, তখন জড় রূপান্তরিত হয়ে প্রাণময় জড়তে পরিণত হচ্ছে। যে জড় শুধুই জড়, তাকে বলে অজৈব পদার্থ। আর যে জড়ে প্রাণ ফুটে উঠেছে তাকে বলে জৈব পদার্থ।

জড় আর প্রাণের মিশ্রণে প্রথমে উদ্ভিদ জগত, পরে আরো জাগ্রত ও সচল হয়ে প্রাণীর আবির্ভাব। এই বার জড় ও প্রাণ যখন মনে উঠেছে তখন জড় প্রাণ ও মনের মিশ্রণে তৈরি হচ্ছে মনোময় মস্তিষ্কের কোষ বা স্নায়ু কোষ; দেখা দিচ্ছে মানুষ। এই তিনের মিশ্রণে উন্নত অবস্থায় দেখা দিয়েছে মন-বুদ্ধি যুক্ত উন্নত মানুষ।

চেতনার পঞ্চম পর্বটি আমরা খুব ধৈর্য্য সহকারে পড়ার চেষ্টা করব। কারণ জড় যখন উপরে উঠছে, তখন উপর থেকে প্রাণ নীচে নেমে এসে জড়ের মধ্যে প্রবেশ করে জড়কে রূপান্তরিত করে দিচ্ছে। ঠিক একই ভাবে মন, প্রাণ ও জড়ের মধ্যে অবতরণ করে প্রাণ ও জড়কে রূপান্তরিত করছে। এইভাবে উদ্ভিদ, প্রাণী ও মানুষ সৃষ্টি হয়েছে।

চেতনার অবতরণ (ঙ)

চিত্র ঋণ: mirr.in

‘এখন, চেতনা এই যে ঊর্ধ্বে উঠতে থাকে, ক্রমে প্রকট করতে থাকে উর্ধ্ব হতে উর্দ্ধতর স্তরকে তা ঘটে দুটি শক্তির সমবায়ে; একটির কথা এ পর্যন্ত বলে এসেছি অর্থাৎ নীচের থেকে উপরের দিকে চাপ। বায়ুকে চেপে রাখলে তার যেমন সর্বদা চেষ্টা হয় বাইরে বের হয়ে আসতে প্রসারিত হয়ে পড়তে, ঠিক সেইরকম অচেতনা (অর্থাৎ জড়) তার মধ্যে চেপে রেখেছে চেতনাকে, তাই চেতনা ফুটে বের হতে চায়। কিন্তু ফুটে বের হবার চাওয়াটা যথেষ্ট নয়– তা বের হবে কোন দিকে, কী রূপ নিয়ে, এই হল প্রশ্ন। নীচের থেকে চাপের সঙ্গে যে দ্বিতীয় শক্তি এসে যোগ দেয় তা হল উপর থেকে আর এক চাপ– নীচের থেকে ঊর্ধ্বায়ন আর উপর হতে অবতরণ, উভয় ধারা প্রয়োজন। উপরের অবতরণই দেয় নীচের ঊর্ধ্বমুখী গতির বিশিষ্ট দিক ও রূপ। নীচের চাপ, নীচের ঊর্ধ্বগতি উঠতে উঠতে বাড়তে বাড়তে এমন এক পর্যায়ে বা মাত্রায় পৌঁছে যখন আয়োজন সব সম্পূর্ণ তখন সেই পূর্ণাহুতির বা আহ্বানের প্রত্যুত্তরে ঊর্ধ্ব নেমে আসে, প্রকট হয়ে সেই নিম্নের শিখরে। যে ঊর্ধ্বতন স্তরটি নিম্নতন স্তরের অব্যবহিত উপরে, সেইটি নেমে আসে রূপ নিয়ে। আমরা বলেছি উপরের স্তরাবলী সব ইতিপূর্বেই সৃষ্ট হয়েছে, রয়েছে অদৃশ্যভাবে তাদের নিজের নিজের লোকে– এটি হল প্রথম অবতরণের সৃষ্টি। এখন আবার সেই সব স্তরেরই অবতরণ হয়ে চলেছে, তাদের স্বকীয় লোক থেকে ক্রমে এই পৃথিবীতে, জড়াশ্রিত আধারে। দ্বিতীয় অবতরণের উদ্দেশ্য জড়ের মধ্যে একে একে ঊর্ধ্বতর স্তর সকলকে নামিয়ে এনে বেঁধে ফেলা, তাদেরকে রূপবান করা সক্রিয় করা আবার জড়কে রূপান্তরিত ধর্মান্তরিত করা। আগে হতে একটা স্তর-পরম্পরা যদি না থাকত সূক্ষ্মভাবে, তারা যদি স্থূলত এইরকমে অবতরণ না করত তবে শত চেষ্টা চর্চা অনুশীলন সত্বেও নীচ ঊর্ধ্বধর্মী হতে পারত না। নীচের মধ্যে অভিনব অপ্রত্যাশিত ধর্ম দেখা দেয়, তার কারণ এই অবতরণ। জড় থেকে জড়ের হাজার পরিবর্তন পরাবর্তন বিপর্যয়ের ফলে প্রাণ দেখা দিতে পারে না– জড়ে প্রাণ দেখা দেয়, জড়ের মধ্যে প্রাণ অবতীর্ণ হয় বলে। সেই রকম প্রাণের শত অদল বদল সত্বেও তার মধ্যে মন দেখা দিতে পারে না; প্রাণে মন দেখা দেয়, মনে যখন তারমধ্যে অবতীর্ণ হয় তার স্বলোক হতে। জড়বিজ্ঞান হঠাৎ পরিবর্তনের কথা বলে, এবং তার হেতু হদিস কিছু খুঁজে পায় না– হঠাৎ পরিবর্তন আর কিছুই নয়, চেতনার এক নূতন পর্যায়ের হঠাৎ অবতরণ। অবতরণ হঠাৎই হয়– তার আয়োজন সাধারণত চলে ধীরে ধীরে; নীচের ক্ষেত্র বহুকাল ধরে আপনাকে প্রস্তুত করে তোলে, তারপর এক শুভ মুহূর্তে হয় ঊর্ধ্বের অবতরণ আর ফলে নিম্নের উত্তরণ। সৃষ্টির ধারা তবে এইরকম– প্রথম, অনুলোম ধারায় প্রথম অবতরণ– যাবতীয় স্তরের লোকের চেতনা পর্যায়ের সৃষ্টি তারপর বিলোম ধারায় চলে নিম্নতর স্তরের মধ্যে উর্দ্ধতর স্তরের ক্রমপ্রকাশ ও শরীরগ্রহণ ও নিম্নতমের– জড়ের– আধারে সকলের প্রতিষ্ঠা এবং তার অর্থ ঊর্ধ্বতমের ধর্মে সকলকে, নিম্নতমকে পর্যন্ত, গঠিত রূপান্তরিত করা। উর্দ্ধতর যে সব স্তর ধরে ধরে চেতনা নিম্নতমে এসে পৌঁছেছে, নিম্নতম থেকে শুরু করে নিম্নতমের মধ্যে চেতনা আবার সেই সব স্তরকে, তাদের প্রত্যেককে সকলকে একটা নূতন ঊর্ধ্বায়িত রূপান্তরিত সমন্বয় ও সংগঠনের মধ্যে স্থাপিত করে চলেছে; স্থূল সৃষ্টি এইরকমে পেয়ে চলেছে চেতনার ক্রমবিকশিত ক্রমপ্রবুদ্ধ ক্রমদীপ্ত এবং পরিশেষে দিব্য (অর্থাৎ সচ্চিদানন্দময়) রূপ ও ধর্ম কর্ম।’

 (বিংশ পর্ব আগামী রবিবার)

লেখকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন- 8584063724

১৮ম পর্বটি পড়তে ক্লিক করুন- https://agamikalarab.com/2020/02/25/

Featured

নামটা জানি না(প্রেমের গদ্য কাব্য)

চিত্র: প্রতীকী

প্রসেনজিৎ মজুমদার, আগামী কলরব: বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আমি। আকাশটা গেল কালো মেঘে ঢেকে। বৃষ্টি, তুমি আসবে বলে আসলো না তো সে! কাল তাকে দেখেছিলাম কাজল কালো চোখে।
অফিসটা আমার নিত্যদিনের, কাজের চাপটা অনেক। মাঝে মাঝে চড়ুইভাতি, মনটা হবে ফ্রেশ।
বরাহনগর খেলার মাঠ, বাসস্ট্যান্ডের ধারে কাল তাকে দেখেছিলাম। আজও আমি দাঁড়িয়ে, তাকে দেখবো বলে। আসলো না তো সে, বৃষ্টি এলো বলে।
মাঝে মাঝে মনটা আমার খারাপ হলে
চলে আসি পলাশপুরের মাঠে। গাছের আগায় লাল ফুলের কুঁড়ি হাওয়ায় ঝরে মাটিতে।

আদিবাসী মেয়েটার নাম চামেলি। পলাশপুরে থাকে। রোজ বিকেলে বাজরা হাতে যেত শাল বনের ধারে। শাল-পাতা কাঠ-কুটা আনতো বাজরা ভরে। খালি পায়ে লাগতো না তার জুতো।
শহরের মানুষগুলো অনেক বেশি সভ্য। কিন্তু তারা কেবল মেকআপ আর সাজ পোশাকেই ঢাকা থাকে।
সেদিন মিনতি এসেছিল আমার বাড়ি। হয়তো আমাকে দেখতে, তার সাথে আমার সম্পর্ক অনেক পুরনো। সপ্তাহান্তে একবার সাক্ষাৎ অনিবার্য। বাড়ির হুকুম, মানতে আমি বাধ্য।
তার হাতে সেদিন দেখেছিলাম চামেলি ফুলের তোড়া। আমার জন্য নিয়ে এসেছ বুঝি? প্রশ্ন করি আমি! উত্তর মেলে না, কেবল হাসি মুখ!
ফুলের তোড়া থেকে একটি ফুল ছিঁড়ে গেঁথে দিলাম মিনতির খোঁপাতে। তার ওই রক্ত রাঙা
ঠোঁট, আর কাজল ভরা চোখ ফ্যাকাসে হয়ে গিয়েছিল। বুঝলাম, এ সৌন্দর্য তাকে মানায় না! তার খোঁপায় পলাশ ফুলই ছিল যথেষ্ট।
ওই চামেলি ফুল মানায়, একমাত্র আদিবাসী কালো মেয়েটার মাথায়। তার চোখে কাজল নেই, ঠোঁটে লিপস্টিক নেই, মুখে মেক আপ নেই, একমাত্র শাড়ি দিয়ে ঢেকেছে নিজের শরীরটাকে।

আজও বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে, সেই রাজকন্যাকে আর দেখতে পেলাম না। উত্তর দিক হতে ঠান্ডা বাতাস বইছে। শীত তো কবেই শেষ হয়ে গেছে। বসন্তের মাঝামাঝি। মনটা আর অফিস ঘরে থাকতে চায় না। ইচ্ছা করে, সবকিছু ছেড়ে দিয়ে চলে যায় পলাশপুরে ওই আদিবাসীদের গ্রামে। সেখানে চামেলি থাকবে না, থাকবে আমার- মিনতি। তাকে আমি সাজাবো আমার মতন করে। কোনও রঙের বাহারে নয়, একেবারে সাধারণ মেয়ের রূপে।
হিল তোলা জুতো নাই বা রইল পায়ে। তার নগ্ন পায়ে যদি কাঁটা ফোটে, সে পা আদর করে তুলে নেব আমার কোলে। আমার ভালোবাসার আলতো স্পর্শে তা মুহূর্তের মধ্যেই সারিয়ে তুলবো, তখন আমি জাদুকর আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপ।
আবার ধরো, দুজনে একে অন্যের হাত ধরে বসে প্রাণের গল্পে মাতবো ওই গাছের নীচে, যেখানে পলাশ ফুল বিছিয়ে পড়ে আছে।

হাত ঘড়িটাতে তিনটে বেজে দুই। এখনো কত ঘন্টা বাকি। সেই ছটায় হবে কাজের ছুটি, জানালা দিয়ে বিকেলটাকে ডুবতে দেখি। মনটা ছটফট করে, কাজে মন বসে না।
চারটে বাজলে মিনুর স্কুল ছুটি। তার তো ভারি আনন্দ। সে বিকেলটাকে জমিয়ে অনুভব করতে পারে। আমার হিংসে হয়। ও কেন একা একা এই নির্জন বিকেলকে অনুভব করবে। ওর কি একটু অনুশোচনা হয় না।
ও যে স্কুলের দিদিমণি, ও তো বাচ্চাদেরও দেখাতে পারে বিকেল মানে কী? কতটা সুন্দর! একটা দিনের শেষে! যা জীবন থেকে চিরতরে বিদায় নেয়।
যাই হোক সে তার মত, আমি আমার মতন।

আমার ঘুরে বেড়াবার ইচ্ছা বহুদিনের। উপভোগ করব এই পৃথিবীটাকে। যে সমস্ত জায়গাতে আজও মানুষের পা পড়েনি, সেই সমস্ত জায়গাতে গিয়ে তুলে আনবো নতুন ছবি। কখনো বা পাহাড়, কখনো বা সমুদ্র,
কখনো বা ঘন অরন‍্য, কখনো বা জনমানবহীন নির্জনে একা। কখনো বা পূব আকাশে রঙিন স্বপ্ন, কখনো বা পশ্চিম আকাশের নীচে নদীর জোয়ার ভাটা। সমুদ্র বক্ষে একের পর এক ঢেউয়ের আছাড়। আবার কখনো ওই দূরে মাঝ সমুদ্রে জেলেদের ছোট নৌকা রাতের অন্ধকারে জ‍্যোৎস্নার আলোর মত টিপটিপ করে জ্বলে। আমি পারে বসে অনুভব করি সে অনুভূতি।
আমি আর মিনতি
কোনও এক পূর্ণিমা রাতে শানের ঘাটে বসে একে অপরের হাত ধরে ঠোঁটে ঠোঁট দিয়ে আলতো প্রেমের হারিয়ে যাব কোনও এক অজানা গ্রহে, মনে হবে এটা পৃথিবী নয়, অন্য কোনও এক…

নামটা জানি না, কারণ আমরা হারিয়ে গেছি।

Featured

Shaheen Bagh: Unmasking the razzmatazz and Wile

Gautam Guha, Agami Kalarab: The anti-CAA protests, especially at Shaheen Bagh, which began as a peaceful protest has now crossed all the boundaries as it turns out to be another typical left-wing managed anti-India event. The anti-CAA riots, which initially turned communal, manifested through anti-Hindu posters have now taken an anti-India turn with protestors openly batting for secession from India. In just last week, many events have unfolded which indicates that the anti-CAA protests were just a facade for anti-India elements to create chaos and anarchy to further their secessionist agenda on the streets of the country.
Initially, the liberal-secular media had hoped that the earlier anti-CAA protests in December, despite being violent in nature, could start a fresh wave of revolution and chaos to bring the Modi government to its knees. The media ecosystem backed these ultra-left wing cadres and Muslim mobs while turning a blind eye towards the riots they unleashed. With nowhere to go, the Muslim mobs backed by the left-wing cadres and media now decided to seize one of the strategic lines of communications in Delhi-Shaheen Bagh to create disorder on the streets of the national capital to garner global attention. Nevertheless, the masks of the so-called protestors and intellectuals who backed the anti-CAA riots are now falling off. The sinister plot behind the staged event at Shaheen Bagh ‘protests’ is now out in the open. Later, another Hinduphobic poster came up at the protest site in which the Hindu Swastika was depicted wrongfully which shown crushed, and ‘Hindu women were shown in Burkha’. These Hinduphobic posters and chanting of slogans Jinnah Wali Azadi ” had exposed the claims of “liberal-secular” media who were insisting that these protests peaceful and spontaneous in nature.

Here are the incidents that have transpired at Shaheen Bagh in the last few days which have now exposed the nefarious designs of Anti-India forces and Jihadi elements. The so-called ‘anti-CAA protests’ at the Shaheen Bagh which was supposed to be a ‘peaceful protest’ never turned out to be one. Instead, it became another platform for the ultra left-wing secessionists and Islamists to push their anti-India agenda and create anarchy in the country. Interestingly, all the mentioned incidents never made it to any mainstream media, which explains the dangerous nexus between the media ecosystem and the anti-India brigade that exists in the country. Left-wing cadres and anti-CAA mob have attacked journalists several times, Consulting Editor of News Nation Deepak Chaurasia and Editor of Zee News Sudhir Chaudhary were attacked by a mob at Shaheen Bagh.Doordarshan reporter Nitendra Singh and their team of camera persons were also manhandled.
With Sharjeel Imam, the mastermind of the Shaheen Bagh openly admitting that the real intention of the protests is to divide the country and to seek another partition by separating north-east from the rest of the country, the arguments by certain section of the media that the protests are peaceful and organic, intended to fight the discriminatory Citizenship Amendment Act does not hold any value.

Featured

ধারাবাহিক রচনা: আমাদের শ্রী অরবিন্দ(পর্ব-১৮)

শ্রী অরবিন্দ ও শ্রীমায়ের জীবনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত এই ধারাবাহিকটি ইতিমধ্যে পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। আমাদের বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠকমণ্ডলীর মধ্যে শ্রী অরবিন্দ ও মায়ের জীবনী নিয়ে চর্চা করেন কিংবা শ্রী অরবিন্দ আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত পাঠকও রয়েছেন নিশ্চয়ই। তাঁদের প্রতি আমাদের বিনম্র আবেদন যে, ধারাবাহিকটি পড়তে পড়তে কোনোরকম তথ্যভিত্তিক ত্রুটি চোখে পড়লে অনুগ্রহ করে তৎক্ষণাৎ আমাদের দপ্তরে যোগাযোগ করুন, অথবা লেখার শেষে কমেন্টেও জানাতে পারেন। এছাড়া লেখার নীচে দেওয়া লেখকের ফোন নম্বরে সরাসরি করতে পারেন যোগাযোগ। আমরা ত্রুটি মেরামতে সদা সচেষ্ট।–সম্পাদক

মুকুল কুমার সাহা: চেতনার অবতরণের তৃতীয় পর্বে আমরা দেখলাম, সচ্চিদানন্দ সব শেষে জড় হয়েছেন। চেতনা এখানে বিচ্ছিন্ন পরমানুরাশিতে পরিণত হয়েছে, সে এখানে এসে হয়ে গিয়েছে অচেতন। জড়ানুর পূর্ণ অচৈতন্যের চরমে শেষ পৈঠায় পৌঁছে সে আবার উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে। (অচেতন জড় একান্ত অচেতন জিনিস নয়, সে হল নিশ্চেতন বা অন্তশ্চেতন)। অন্তশ্চেতনার চাপ তাকে আবার চেতন করে তুলতে চায়। এরই নাম বিবর্তন-প্রবেগ। জড়ের মধ্যে চেতনার জাগরণের প্রথম ধাপে উদ্ভিদ জগৎ, দ্বিতীয় ধাপে প্রাণীর আবির্ভাব, তৃতীয় ধাপে মন-বুদ্ধিময় মানুষ।

চেতনার অবতরণের চতুর্থ পর্বে কী রয়েছে আমরা দেখে নিই।

চেতনার অবতরণ (ঘ)

এই যে চেতনার বিবর্তন বা ক্রমজাগরণ, আমরা দেখছি তা অনুসরণ করছে ঠিক সেই ধারা যে ধারায় হয়েছিল চেতনার নিবর্তন বা ক্রমসুপ্তি, তবে বিপরীত ক্রমান্বয়ে। চেতনা যে ধাপে নেমে এসেছে, উল্টো দিক দিয়ে ঠিক সেই ধাপে ধাপেই আবার উঠে চলে। অবতরণের ক্রম হল সৎ-চিৎ-আনন্দ= বিজ্ঞান= মন= প্রাণ= দেহ; উত্তরণের সময়ে তাকে ঠিক দেহ থেকে প্রাণে, প্রাণ থেকে বিজ্ঞানে ও সচ্চিদানন্দে উঠতে হয়। আপাতত সে মন পর্যন্ত উঠেছে, এরপরে বিজ্ঞানে যে উঠতে হবেই তা অনিবার্য ও অপরিহার্য– প্রকৃতির গতি ও লক্ষ্যই এই। জড় বিজ্ঞানে বলছে প্রকৃতির irreversibility আর entropy-র কথা– অর্থাৎ প্রকৃতির শক্তি ভেঙে-ভেঙে চলেছে, বিক্ষিপ্ত হয়ে চলেছে, ক্ষয় হয়ে ক্ষীণ হয়ে চলেছে– এই যে ক্ষয়িষ্ণু শক্তির গতি এর মুখ ফেরানোর উপায় নাই। সমুদ্রগামী স্রোতস্বতীর মত অব্যর্থ ভাবে চলেছে একই দিকে পরম শান্তি সাম্য বা নির্বাণের দিকে। কিন্তু অধ্যাত্ম বিজ্ঞান দিচ্ছে আর এক চিত্র– সে বলছে প্রকৃতির মুখ ফেরানো যায় (reversible) এবং তার শক্তি ক্ষয়ের মাত্রাকে (entropy) ক্রমেই হ্রাস করে আনা যায়; চেতনার মাত্রা বাড়ানো অর্থই তাই।

চিত্র ঋণ: auroville.org

সে যা হোক, আমরা চেতনার যে প্রত্যাবর্তনের বা বিবর্তনের বিলোম-ধারার কথা বললাম তার আছে দুটি প্রক্রিয়া বা একই প্রক্রিয়ায় দুটি পরস্পর-আশ্রয়ী অঙ্গ। প্রথমে হল ঊর্ধ্বায়ণ (sublimation)– জড় উঠে দাঁড়ায় প্রাণে, প্রাণ উঠে দাঁড়ায় মনে, মন উঠে দাঁড়াবে বিজ্ঞানে, এইরকম একটা ক্রমোর্ধ্বগতি; নীচের স্তর উপরের স্তরের মধ্যে নিয়ে যায়, তাতে উন্নীত হয়। তবে এখানে একটি জিনিস লক্ষ্য করা প্রয়োজন। নীচের ঊর্ধ্বায়ণ বা বিলোম অর্থ বিলোপ নয়, রূপান্তর। জড় যখন প্রাণে উন্নীত তখন জড় লোপ পায় নাই, তার অর্থ জড়ের মধ্যে প্রাণ দেখা দিয়েছে তো বটেই, তা ছাড়া প্রাণের মধ্যে জড় উঠে গিয়ে পেয়েছে এক নবরূপ, জড় হয়েছে প্রাণময়। সেইরকম প্রাণ যখন মনের স্তরে উপনীত তখন প্রাণ বা জড় কোনটিই লোপ পায় নাই, দুটিতেই পেয়েছে নুতন ধর্ম-কর্ম– জড় ও প্রাণ হয়েছে মনোযুক্ত মনোময়। যে জড় কেবল জড়, যেখানে প্রাণ দেখা দেয় নাই– যাকে বলে “অজৈব পদার্থ”– আর যে জড়ে প্রাণ ফুটে উঠেছে– “জৈব পদার্থ”– এই উভয়ে পার্থক্য আছে, একই পর্যায়ের বস্তু তারা নয়। জড়ানু ও জৈব কোশ, জড় হলেও বিভিন্ন পদবীর জড়। তেমনি যে জড়ে প্রাণের সঙ্গে মনও দেখা দিয়েছে সেখানে জড় পেয়েছে তৃতীয় এক রূপ, যেমন, মস্তিষ্কের কোষ বা স্নায়ু কোষ। মনের ক্ষেত্রে জড়ের ঘটেছে দ্বিতীয় পরিবর্তন, প্রাণের ঘটেছে প্রথম পরিবর্তন (কারণ এই প্রথম সে উঠে দাঁড়িয়েছে আর একটা পর্দায়)– উদ্ভিদের মধ্যে প্রাণের প্রথম রূপ, প্রাণীর মধ্যে তার আরেক রূপ– মানুষের মধ্যে এই প্রাণ শুধু মন নয় মনের পরিণতি বুদ্ধির আলোকপাতে আরেক রকম হয়ে উঠেছে।

 (ঊনবিংশ পর্ব আগামী রবিবার)

লেখকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন- 8584063724

১৭ম পর্বটি পড়তে ক্লিক করুন- https://agamikalarab.com/2020/02/17/

Featured

A terrible night(Suspence story)

Episode 4(More investigation)

“But suddenly their eyes fell on the broken locks of the door and then a question arose in their mind, where is the key of that lock?
If Savitri Devi locked the door then she should have the key, she should have some purse or bag but nothing like this was found at the spot.”

Leepa Chakraborty, Agami Kalarab: Two days later Suman was discharged from the hospital. She returned home. But she was quite scared and was shocked– at every sound. But after this no such unexpected event happened, everything was going well, Suman started going to school. The fear from her heart was also slowly diminishing, her life was taking a natural form.

Then one day suddenly Abdul was shocked to see the incident of that stormy night in the newspaper. In which it was reported that on the morning of 15 January, in Haveli Road, the police found the unclaimed corpse of a stranger woman. Although the cause of death is accident, police wrote in its primary report. But later some evidences, and the post mortem report led to the fact that this death is a thought-provoking cold-minded murder.
It was further written that a ladies-shawl was found some distance away from the spot, the police suspected that the shawl could never be that of the dead woman.
Because there was blood all over the woman’s body, while a slight blemish of blood was not found in any part of that shawl.The police also say that the shawl cannot be of a killer, because a killer can never show such carelessness.
They suspect in the context of this evidence that the shawl, killer has been thrown either to stray the investigation, or to implicate an innocent
Or it could be that there must have been a third person who had seen everything in her eyes. And she is an eyewitness who would run away to save herself, and while doing so, her shawl must have fallen.
At the same time, the police also suspect that the woman is in danger of being killed, and that she can be attacked in any time. And now the police is looking for the woman who owns the shawl,
It has also been told in the post-mortem report that the grain was found into the mouth of the dead woman.
From which it can be speculated that the woman may have been eating when she was targeted.
But who was she? What was her indentity? To confirm this, a photo of the woman was put on behalf of the police. As soon as the photo of the woman was printed in the newspaper, a man came to the police station.
He told the police showing the picture of the woman printed in the newspaper, “Sir, I know this woman. She lives in my neighborhood, her name is Savitri Gupta. She lives alone at her home, she has only one daughter, who is married. Savitri devi’s husband died a year ago. Her husband has left a lot of wealth, everyone knows this. And now she was the owner of a good amount of property.
But fearing her loneliness, she went to stay at her daughter’s house for a few days.
But due to some dispute with her son-in-law, she returned to her home about six months ago and Since then she remains alone, sometimes her daughter cames to meet her.
But her house has been locked for the last few days and is still closed, we thought she might have gone to her daughter.”

According to the description of the man, the policemen reached Savitri Devi’s house, the lock was broken in her house. And the police started their investigation where they saw that everything in the house is well maintained.There was no tampering with the wardrobe or every valuable item of the house, which confirms that there was no such incident as theft or robbery at home.
But there was a plate on the dining table in which some food was lying, which was completely rotten, by which it can be easily understood that Savitri Devi was sitting for dinner, and for some reason she had to leave the food and get up.
But what happened? After all why did she have to get up between meals.
Would anyone have come from outside? Who was he? Someone known or a stranger?
Did Savitri Devi come out with that person on that stormy night ? because the door was closed in a manner. Which meant there was no force or coercion with her.
Then who was that person, someone known? Because why would she come out with such an unknown person ?
Many such questions were arising during police investigation. Every corner of the house was being searched but they could not find anything that could come under suspicion.
Now a question start to arise in their mind. Is Savitri Devi really a victim of road accident?
When no clue was found, they sealed the house. But suddenly their eyes fell on the broken locks of the door and then a question arose in their mind, where is the key of that lock?
If Savitri Devi locked the door then she should have the key, she should have some purse or bag but nothing like this was found at the spot.
Then where is her purse or key? Someone lifted it?There will be another key of this lock, as soon as the idea came, police went inside the house to search for the another key again.
And they also found the second key inside the house.
In this case, the policemen did not see any abnormalities.
Now they were looking for the owner of the shawl, sleeper, purse or key of Savitri Devi, and her daughter’s home address and they also got the address of her daughter’s house from the neighborhood.
In this way, as the investigation progressed, the case was getting even more complicated.

 (To be continued next sunday)

To read the previous episode click here— https://agamikalarab.com/2020/02/17/a-terrible-nightsuspence-story-3/

Featured

ভাষা দিবসঃ বাংলা ভাষা কি আজ অবক্ষয়ের পথে?

চিত্র সৌজন্য: ইউ টিউব

গৌতম গুহ, আগামী কলরব: ভাষা মানে শুধু কিছু শব্দের যোগফল নয়। ভাষা একটা স্বতন্ত্র এবং নির্দিষ্ট সংস্কৃতির প্রকাশ। সংস্কৃতি পাল্টে গেলে ভাষাও রূপ পাল্টায়, ভাষার পরিচয় পাল্টায়। ১৪০০ বছরের কিছু আগে আরব দেশটা ছিল বহুত্ববাদী। হিন্দু সংস্কৃতির অনুরূপ ছিল সেই সংস্কৃতি। কাবা-র মন্দিরে ছিল প্রায় ৩৬০ জন দেব-দেবীর মূর্তি। ছিলেন দেবী লাত-মানত-উজ্জা, সসম্ভ্রমে পূজা পেতেন হুবাল দেব। তখন আরবের ভাষা শুনে কেউই সেটাকে “ইসলামী ভাষা” বলে মনে করত না। কারণ ইসলাম ধর্মের তখনো জন্মই হয়নি। তাই আরবী ভাষার পরিচয় সেই যুগে ছিল “মূর্তি পূজারী জাতির ভাষা”। আর আজ? ইসলামের প্রভাবে দেশটার পরিচয় এখন এতটাই বদলে গেছে যে এখন কারও মুখে আরবী ভাষা শুনলেই তাকে আমরা মুসলমান বলে ধরে নিই। ভাষা কিন্তু বদলায়নি, আগেও “আরবী ভাষা” ছিল, এখনো “আরবী ভাষা”ই আছে। শুধু ওদের ধর্মটা বদলেছে আর তাতেই পাল্টে গেছে ভাষার চরিত্র এবং পরিচয়। হুবহু একই ব্যাপার ঘটেছে মিশরে। মিশর হল অত্যন্ত প্রাচীন সভ্যতার জন্মভূমি। এই দেশটাও একসময় ছিল বহু ঈশ্বর-এর দেশ। নানান দেবদেবীর মূর্তি পূজাই ছিল এই দেশের প্রধান ধর্ম। তখনই সাহিত্য, স্থাপত্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতির চূড়ায় উঠেছিল সে দেশ। তারপর মিশরকে ছারখার করতে ধেয়ে এল সভ্যতার অন্যতম পাপ, আরব সাম্রাজ্যবাদ। দখল হয়ে গেল মিশর। আরব সাম্রাজ্যবাদীরা প্রথমেই চাপিয়ে দিল ইসলাম ধর্ম। তারপর বদলে দিল দেশের নাম। মিশরের আদি নাম ছিল “হুট কপ্টা”, সেই নাম পাল্টে আরবী ভাষায় নতুন নাম রাখা হল “মিশর”! এই আরবী নাম আজকে এত পরিচিতি পেয়েছে যে বাংলাতেও আমরা একে “মিশর” বলেই চিনি। মাটির নাম পাল্টে যাওয়া মানেই জাতীয় পরিচয় হাতছাড়া হওয়া। ফলে বাইরে থেকে মিশরে আসা আরবীয়রা হয়ে গেল “মিশরীয়” আর প্রাচীন মিশরীয়রা হয়ে গেল “কপ্ট”! যে মিশরের আদি নাম ছিল “হুট কপ্টা”, নিশ্চয়ই বোঝা যাচ্ছে সেই দেশের আসল উত্তরাধিকারী হল এই কপ্ট-রা। অথচ দেশের নাম পাল্টে মিশর রাখার ফলে মিশর কথাটার সাথে কপ্ট কথাটার আর কোনও মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না। মনে হবে “মিশর” আর “কপ্ট” কথা দুটো এতটাই আলাদা, যেন এই দুটোর একে অপরের সাথে কোনও সম্পর্কই নেই। বহিরাগত আরবরা এর পরে পরেই মিশরের আদি কপ্টিক ভাষার লিপি পাল্টে দিল, চাপিয়ে দিল আরবী লিপি। ধীরে ধীরে কপ্টিক ভাষাটাকেই সরিয়ে দিয়ে গোটা দেশে প্রতিষ্ঠিত হল আরবী ভাষা। আজও মিশরের রাষ্ট্রভাষা আরবী, ওদের জাতীয় সংগীত আরবীতে লেখা, জাতীয় লিপি আরবী। “হুট কপ্টা” যেদিন থেকে আরবী নাম “মিশর” হল, সেদিন থেকেই কপ্ট ভাষা এবং জাতির দুর্ভাগ্যের সূচনা। আজ কপ্ট জাতি নিজেদের দেশ “হুট কপ্টা”-তে অত্যাচারিত, অবহেলিত। গোটা বিশ্ব সেই কান্না শুনছে না, বুঝছে না। বুঝবেই বা কী করে! দেশের নাম পাল্টে মিশর হবার পর, পৃথিবীর কেউ বুঝতেই তো পারছে না কপ্টরাই মিশর-এর আসল উত্তরাধিকারী। এইখানেই দেশ এবং জাতি রক্ষায় ভাষার গুরুত্ব।

ঠিক এই একই চাল চালা হয়েছে কাশ্মীরে। কাশ্মীর ঋষি কশ্যপ-এর দেশ, কাশ্মিরী বলতে আদিতে হিন্দুই বোঝাত। সেখানে যখন আরবী হানাদারেরা এল এবং ইসলাম চাপিয়ে দিল, ধীরে ধীরে কাশ্মীরের জনবিন্যাস বদলাতে শুরু করল। বদলাতে বদলাতে আজ এমন অবস্থা হয়েছে, “কাশ্মিরী” বলতেই এখন মুসলমান বোঝায়। “কাশ্মিরী শালওয়ালা” শুনলেই আমরা ফর্সা চেহারার এক মুসলমান পুরুষকে কল্পনা করে নিই। আদি কাশ্মিরী অর্থাৎ কাশ্মিরী হিন্দুদেরকেই এখন নিজেদের আলাদা দেখাতে “কাশ্মিরী পন্ডিত” লিখতে হয়। অর্থাৎ আজকাল “কাশ্মিরী” মানে শুধুমাত্র কাশ্মীরের মুসলমান; আর আদি কাশ্মীরীদের লিখতে হয় “কাশ্মিরী পন্ডিত”। অথচ এটা ঠিক উল্টোটাই হবার কথা ছিল। যারা আগে থেকেই কাশ্মীরে ছিলেন, তারা নিজেদের জাতি পরিচয়টার অবধি অধিকার খুইয়েছেন আর যারা পরে এল এবং বহিরাগত-দের সংমিশ্রনে সৃষ্টি হল, তারা “কাশ্মিরী” জাতিপরিচয়টা পুরোপুরি দখল করে বসেছে। শুধু তাইই নয়, কাশ্মিরী ভাষা লেখার নিজস্ব লিপি ছিল, যার নাম শারদা লিপি। সেই লিপি তুলে দিয়ে কাশ্মীরের মুসলিমরা কাশ্মিরী লেখেন আরবী বর্ণমালায়। এমন কি ৩৭০ ধারা ওঠার আগে পর্যন্ত জম্মু কাশ্মীরের রাজ্য ভাষা ছিল আরবী লিপিতে লিখিত ঊর্দু। তবুও শেখ আব্দুল্লা, মুফতি মোহাম্মদ সৈয়দরাই নাকি আসল “কাশ্মিরী”, যাদের নামে একটাও কাশ্মিরী শব্দ নেই! আর টিকা লাল টাপলু, গিরিজা টিকু ইত্যাদিরা শুধুই “কাশ্মিরী পন্ডিত”! অথচ টিকু, টাপলু, গন্জু ইত্যাদি পদবী শুনলেই বোঝা যায় যে এগুলো কাশ্মীরের পদবী; শেখ-সৈয়দ পদবী কাশ্মীরের মুসলমানের নাকি পারস্যের মুসলমানের, এটা বোঝার কোনও রাস্তা নেই। বিজাতীয়রা যখন ভাষার দখল নেয়, জাতি-পরিচয়টাকেও এভাবেই কেড়ে নেয়। বাংলা ভাষা রক্ষার দরকারটা ঠিক এই রকম ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি আটকাতে।

প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ আবার বাংলা ভাষার শব্দ ভান্ডার নিয়ে অমূলক পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলা ভাষার যথেচ্ছ আরবীকরণ করা হয়েছে। দিদি-কে আপা, মাসিকে খালা, পিসিকে ফুফা, মাংসকে গোশত, স্বর্গকে বেহেশত… এই তালিকা শেষ হবার নয়। বাংলা ভাষায় প্রায় ২৫-৩০% আরবী শব্দ যোগ করেছে বাংলাদেশ। বাংলা ভাষায় শব্দ থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে সেগুলোর আরবী প্রতিশব্দ দেওয়া হয়েছে, এবং এতখানি ভাষা বিকৃতি ঘটানোর পরেও পশ্চিমবঙ্গের বহু বুদ্ধিজীবী বাংলাদেশকেই “বাংলা ভাষার ধারক ও বাহক” বা “প্রকৃত বাঙালি” ইত্যাদি বিশেষণে অভিহিত করে ধন্য ধন্য করছেন!

বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন চর্যাপদের লিপি

আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে, যখন চর্যাপদে লেখা হয়- “আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলি”, অর্থাৎ “আজ থেকে ভুসুকু বাঙালি হয়ে গেল”, তখন বাংলায় মুসলমান কোথায় ছিল? মহাভারতে যে বঙ্গ রাজ্যের উল্লেখ রয়েছে, প্রাচীন চৈনিক সাহিত্যে বঙ্গ রাজ্যের অধিবাসীদের “বং” বলা হয়েছে, কখনো লেখা হয়েছে “বং লি”! এতেও কি বোঝা যাচ্ছে না যে ইসলাম আসার বহু আগে থেকেই “বাঙালি” নামক একটা জাতির অস্তিত্ব ছিল। তাহলে বাংলাভাষী মুসলিমরাই কীভাবে “প্রকৃত বাঙালি” হন? শব্দ ভান্ডারে প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও ভাষার মধ্যে গাদা গাদা আরবী শব্দ প্রবেশ করিয়ে ভাষাটার চরিত্রই পাল্টে দেওয়া কি কোনো অবদানের মধ্যে পড়ে! কেউ বাংলা ভাষাপ্রেমী হলে আরবী শব্দ ঢোকানোর জন্য এত আকুলতা কেন? ইতালীয় বা ফরাসী শব্দ কেন নয়? তাছাড়া একটা ভাষাতে অন্য ভাষার এত শব্দ ঢোকাতে হবেই বা কেন? বাংলাতে “মাংস” নামক শব্দটা থাকতেও যখন কেউ “গোশত” বলে, “নরক” থাকতেও “জাহান্নাম” বলে; তখন এই ধরণের আচরণ তাদের বাংলাপ্রেম নির্দেশ করে না, আরবী প্রেমই নির্দেশ করে। এইরকম ভাষাপ্রেম কি আসলে ভাষা-দখল এবং জাতি-দখলের অপচেষ্টা নয়!

ভাষা দখলের সাথে জাতি দখলের সুস্পষ্ট সম্পর্ক আছে। এই সম্পর্কটা বাঙালিকে খুব পরিষ্কার ভাবে বুঝতে হবে। প্রথম ধাপে বাংলার মধ্যে গুচ্ছ আরবী ঢুকিয়ে ওদের বাংলা আর আমাদের বাংলা-কে আলাদা করা হবে। এতে এক ঢিলে দুটো পাখি মারা যায়। প্রথমতঃ ওরা আর আমরায় ভাগ তৈরি হল, আর দ্বিতীয়তঃ ওদের হাতেও বাংলা ভাষার অর্ধেক অধিকার চলে যাওয়া। আরবী মেশানো বাংলাটা যখন ওদের বাংলা, তখন সেই বাংলাটাকে নিয়ে ওরা ইচ্ছেমত কাটাছেঁড়া করতেই পারে।
এবার দ্বিতীয় ধাপে শুরু হয়েছে ভাষার উপর ভিত্তি করে জাতি পরিচয় গুলিয়ে দেবার চেষ্টা। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের ক্ষমতায় ভর দিয়ে চেষ্টা হচ্ছে “বাঙালি” পরিচয়টাই কেড়ে নেবার। যারা বহিরাগত বখতিয়ার খলজি, শাহ জালাল, হুসেন শা, সিরাজদ্দৌলাকে নিয়ে গর্ববোধ করে, তারাই নাকি বাঙালি! আর যারা এই বহিরাগতদের খলনায়ক বলে, তারা হয়ে গেল গোঁড়া সাম্প্রদায়িক। জাতি দখল আসলে মাটি দখলের পূর্বসূরী। জাতি পরিচয় দখল হয়ে গেলে মাটি দখলটা অনেক সোজা হয়ে যায়। ভেবে দেখুন তো, বর্তমান বাংলাদেশে কী হচ্ছে। ওখানে মুসলিমরা হয়ে গেছে “বাঙালি”, আর যারা সত্যিকারের বাঙালি, তারা হয়ে গেছে “হিন্দু”! অর্থাৎ “বাংলাদেশে বাঙালিরা সংখ্যাগুরু আর হিন্দুরা সংখ্যালঘু”! কথাটার তাৎপর্য বুঝতে পারছেন? বাংলাদেশ আর বাঙালি, এই কথা দুটোয় অনেক মিল আছে। কিন্তু বাংলাদেশ এর হিন্দু, এই শব্দ দুটোয় কোনও মিল নেই। অতএব, “বাঙালি” জাতিপরিচয়টা যদি মুসলিমরা পুরোপুরি দখল করে নেন, পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলাদেশ থেকে হিন্দুদের মেরে তাড়িয়ে দিলেও গোটা পৃথিবীর কোনও সহানুভূতিই আমরা পাব না। গোটা পৃথিবী ভাববে “বাংলাদেশ আর পশ্চিমবঙ্গ তো বাঙালিদেরই। তাহলে এই হিন্দু নামক লোকগুলোই নিশ্চয় বহিরাগত। বাঙালিরা হিন্দুদের মেরে তাড়ানোটা তার মানে ভুমিপুত্রের অধিকার প্রতিষ্ঠা।”
ঠিক এই ব্যাপারটাই কাশ্মীরে ঘটেছিল। “কাশ্মিরী” মানেই যেহেতু হয়ে গেছিল মুসলিম, সারা বিশ্ব ধরেই নিয়েছিল “কাশ্মীর তো কাশ্মিরী থুড়ি মুস্লিমদেরই অধিকার”! এই জট এখনো খোলা যায়নি।
বাঙালি পরিচয়টা নিয়েও এই একই জট পাকানোর চেষ্টা চলছে। এর অন্যতম অস্ত্র হল “একুশে ফেব্রুয়ারি”!
“বাঙালি” শুনলে গোটা পৃথিবী যেন ভাবে জোব্বা পরা গোঁফহীন কোনও দাঁড়িয়াল চাচাকে। সেজন্যই আজকের দিনটা পালন করা এত জরুরী। না, “ভাষা দিবস” হিসেবে নয়, “আরব সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী দিবস” হিসেবে।
ঠুকে বলো বুকের ছাতি,
সবার উপর ধর্ম-জাতি।
আমার ভাষা, আমার মা,
আরবীকরণ মানব না।

মহাভারতের কাল থেকে আধুনিক কাল পর্যন্ত বাঙালি জাতি একটাই। চৈনিক পুঁথি থেকে চর্যাপদ হয়ে শ্রীলঙ্কার মহাবংশম পর্যন্ত সাক্ষ্য দিচ্ছে বাঙালি বলতে আসলে কারা। যেভাবে বাংলা ভাব-বচনের মধ্যে ঊর্দু বা ফার্সি অপভ্রংশ অনুপ্রবেশ করেছে তাতে বাংলা ভাষার ভাবমূর্তি কতটুকু মহিমান্বিত হয়েছে তা আজ ভেবে দেখার সময় এসেছে। সব শেষে বলতে হয় ‘মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধ সমান’, তাই আমাদের প্রিয় বাংলা ভাষার সম্মান রক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই।

Featured

M. S. Golwalkar: needs to revisit Guruji’s life and teachings to be realise its potential

Gautam Guha, Agami Kalarab: Madhav Sadashiv Rao Golwalkar made an unforgettable contribution to society and nation-building, going on to live as an ascetic.Today we’re celebrating his 114th birth anniversary. Many in India observe February 19 as a day to commemorate a true patriot and one of India’s greatest intellectuals- Madhavrao Sadashivrao Golwalkar.
Golwalkar, fondly remembered as Guruji, dedicated his life to the awakening of nationalistic sentiments rooted in the philosophy of Swami Vivekananda, Ramakrishna Paramahansa and Sri Aurobindo. Guruji made an unforgettable contribution to society and nation-building, going on to live as an ascetic. India has seen varying shades of the lives of ascetics. These great men did not live merely for themselves but dedicated their being to society and humanity. Guruji is among the foremost symbols of such a selfless life. His entire journey is a tale of the umpteen sacrifices and contributions towards nation-building.

Born in 1906, Guruji completed his Masters from Banaras Hindu University (BHU) with a first division. He then took admission in a Chennai institute for research. He was, however, compelled to give up on his research midway because of financial constraints. Subsequently, he began teaching in BHU and soon he became famous as Guruji. While Golwalkar taught at BHU, Pandit Madan Mohan Malviya remained deeply attached to him. Guruji studied law as well but he remained unhappy with society’s mental weaknesses and the fact that India continued to remain a British colony. It was because of this sadness that Guruji moved towards spirituality under the guidance of Swami Akhandananda, who was a disciple of Ramakrishna Paramahansa. Under Swami Akhandananda’s guidance, Guruji learnt the true meaning and essence of sacrifice and detachment.He realised that while many sacrifices are acceptable in the Indian tradition, the sacrifice of one’s duty is considered a sin. The real sacrifice, Guruji realised, was foregoing ego and personal desires. In 1937, Guruji was formally ordained by Swami Akhandananda. The same year, Swami Akhandananda gave up his body. Golwalkar found Keshav Baliram Hedgewar as the ideal person to take forward the Sangh’s work of national and social awakening. Golwalkar said of Hedgewar, “The work of the Sangh head is to prepare swayamsevaks who have the best of characters along with a commitment towards the work assigned to them. They must also be ready to sacrifice their entire lives for the nation. Dr Hedgewar was one who could mould hearts in this way. In the beginning, I only found him to be a leader who worked differently. But later, I realised that he was an image of love, who existed in all three roles of mother, father and guru for his swayamsevaks.”
Guruji rejected the Varna system as an outdated idea. He was a large-hearted, fearless nationalist. He believed the real worship of God was in human deeds. He did not believe in religious and caste divides. He believed that national unity and integrity lay in people respecting the national mission, goals and cultural symbols.

Featured

ধারাবাহিক রচনা: আমাদের শ্রী অরবিন্দ(পর্ব-১৭)

শ্রী অরবিন্দ ও শ্রীমায়ের জীবনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত এই ধারাবাহিকটি ইতিমধ্যে পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। আমাদের বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠকমণ্ডলীর মধ্যে শ্রী অরবিন্দ ও মায়ের জীবনী নিয়ে চর্চা করেন কিংবা শ্রী অরবিন্দ আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত পাঠকও রয়েছেন নিশ্চয়ই। তাঁদের প্রতি আমাদের বিনম্র আবেদন যে, ধারাবাহিকটি পড়তে পড়তে কোনোরকম তথ্যভিত্তিক ত্রুটি চোখে পড়লে অনুগ্রহ করে তৎক্ষণাৎ আমাদের দপ্তরে যোগাযোগ করুন, অথবা লেখার শেষে কমেন্টেও জানাতে পারেন। এছাড়া লেখার নীচে দেওয়া লেখকের ফোন নম্বরে সরাসরি করতে পারেন যোগাযোগ। আমরা ত্রুটি মেরামতে সদা সচেষ্ট।–সম্পাদক

মুকুল কুমার সাহা: চেতনার অবতরণের দ্বিতীয় পর্বে আমরা দেখলাম, সচ্চিদানন্দের প্রথম অবতরণ যেখানে বা যে লোকে, তার নাম অতিমানস বা বিজ্ঞান। অতিমানসের উপরের দিকের নাম শ্রী অরবিন্দ দিয়েছেন বিজ্ঞানময় লোক বা চেতনা, নীচের দিকের নাম দিয়েছেন অতিমানস। সৃষ্টির মূল সত্যময় তত্ত্বগুলি নিয়ে বিজ্ঞানময় বা অতিমানসলোক। এক সেখানে বহু হয়েছেন। বহু শক্তি চেতনা সেখানে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় সামঞ্জস্য ও মিলনের দিকটা বজায় রেখেই বহু হয়েছেন।

তারপরের ধাপে শ্রী অরবিন্দ যার নাম দিয়েছেন অধিমানসলোক। এই অধিমানসের উপরের দিকে সচ্চিদানন্দ একটা স্বচ্ছ সূক্ষ্ম আবরণের মধ্য দিয়ে পৃথক পৃথক ভাবে প্রকট হয়েছেন। সেখানেও বহু একের সঙ্গে সমন্বয় ও সামঞ্জস্য রেখেই বহু হয়েছেন। অধিমানসলোকের নীচের দিকে সচ্চিদানন্দ যখন বহু হয়েছেন তখন অন্যের সঙ্গে সহযোগে না চলে প্রতিযোগে এগিয়ে চলেছেন। এই স্বাতন্ত্র্যতা যেখানে শুরু হয়েছে, দৃঢ় হয়েছে সেখান থেকেই অজ্ঞানের প্রথম শুরু। ঋষিরা যাকে বলতেন অবিদ্যাশক্তি বা মায়া।

তারপরের ধাপ সচ্চিদানন্দের মানসলোক। মানসলোকে সচ্চিদানন্দ তাঁর চেতনাশক্তি ও আলোকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছেন। এখানে ব্যষ্টি সব স্বতন্ত্র একরোখা হয়ে চলেছে। মানসলোকের অনেক ধাপ রয়েছে। শ্রী অরবিন্দ প্রধান তিনটির নামকরণ করেছেন– ‘সম্বোধি‘ বা সাক্ষাৎ দৃষ্টিময় মন, ‘প্রদীপ্তমানস‘ বা জ্ঞান সম্বুন্ধ মন এবং ‘উত্তরমানস‘ বা উর্দ্ধতর মন।

শ্রীমা বলেছেন এই মানসলোকে কোনো একটির সঙ্গে আমাদের সাধারণ মন যুক্ত হলে তার জ্যোতি সহ্য করাই আমাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। অধিমানস এবং অতিমানস সেসব তো অনেক পরের কথা। ম